কন্নড় অভিনেতা হরিশ রায় মারা গেছেন। এ অভিনেতার মৃত্যুর খবর জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস। ৫৫ বছর বয়সে ক্যানসারে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ক্যারিয়ারজুড়ে অনেক জনপ্রিয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। তবে ‘কেজিএফ’ ছবিতে কাশিম চাচা চরিত্রে অভিনয় করে আলাদা পরিচিতি পান তিনি।

আরও পড়ুনট্রেন্ডিংয়ের শীর্ষে, ১০ ছবিতে চিনে নিন ‘কেজিএফ’ অভিনেত্রীকে২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

দীর্ঘদিন ধরেই ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন হরিশ রায়। সবশেষ বেঙ্গালুরুর কিদওয়াই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, সেখানেই মৃত্যু হয় এ অভিনেতার।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী দীর্ঘদিন ধরে থাইরয়েড ক্যানসারের চিকিৎসা চলছিল তাঁর। এরপর সেটি ছড়িয়ে পড়ে তাঁর পাকস্থলীতে।
চিকিৎসার ব্যয় এতটাই বেশি ছিল যে হরিশ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, প্রতিটি সার্কেলে তিনটি ইনজেকশন প্রয়োজন ছিল তাঁর। যেখানে একটি ইনজেকশনের দাম ৩ লাখ ৫৫ হাজার রুপি। এক সার্কেলের মোট খরচ দাঁড়াত ১০ লাখ ৫০ হাজার রুপি। অনেক ক্ষেত্রেই রোগীদের ১৭ থেকে ২০টি ইনজেকশনের প্রয়োজন হতো, যার ফলে চিকিৎসার আনুমানিক খরচ প্রায় ৭০ লাখ রুপিতে পৌঁছেছিল। সেই ব্যয় বহন করতে গিয়ে তাঁর পরিবার হিমশিম খাচ্ছিল।

চলচ্চিত্রজীবনে কন্নড়, তামিল ও তেলেগু চলচ্চিত্রে হরিশ অভিনয় করেছেন। ‘কেজিএফ’ ফ্র্যাঞ্চাইজি ছাড়া তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘সামারা’, ‘বেঙ্গালুরু আন্ডারওয়ার্ল্ড’, ‘ওম’, ‘রাজ বাহাদুর’, ‘সঞ্জু ওয়েডস গীতা’, ‘স্বয়ংবর’, ‘নল্লা’।
এই অভিনেতার মৃত্যুতে চলচ্চিত্রজগতের অনেকেই গভীর শোক জানিয়েছেন।

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: চলচ চ ত র ক জ এফ

এছাড়াও পড়ুন:

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ বন্ধ করছে যুক্তর

যুক্তরাজ্যের নতুন অভিবাসন নীতির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ সীমিত করছে দেশটির বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) সংবাদমাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, ভিসার অপব্যবহার এবং যুক্তরাজ্যের নতুন মানদণ্ড অনুযায়ী অন্তত ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন এই দুটি দেশকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করছে।

কিছু বিশ্ববিদ্যালয় পুরোপুরি এই দুই দেশের শিক্ষার্থী ভর্তি স্থগিত করেছে। আর কিছু প্রতিষ্ঠান শুধু স্নাতক পর্যায়ে আবেদন গ্রহণ বন্ধ রেখেছে। 

ফিনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, হঠাৎ ওই দুই দেশের নাগরিকদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নয়টি বিশ্ববিদ্যালয় হলো— ইউনিভার্সিটি অব উলভারহ্যাম্পটন, সান্ডারল্যান্ড ও কোভেন্ট্রি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট লন্ডন, ইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ার, লন্ডন মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়, অক্সফোর্ড ব্রুকস বিশ্ববিদ্যালয়, বিপিপি ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব চেস্টার ও গ্লাসগো ক্যালেডোনিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়।

ভর্তির সুযোগ সীমিত করার মূল কারণ যুক্তরাজ্যের বেসিক কমপ্লায়েন্স অ্যাসেসমেন্টের (বিসিএ) নতুন নিয়ম। 

ফিনান্সিয়াল টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সেসব দেশকেই বিবেচনায় করতে হবে, যাদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার সর্বোচ্চ ৫ শতাংশের মধ্যে রাখতে হবে- যা আগে ছিল ১০ শতাংশ।

তবে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ১৮ শতাংশ এবং বাংলাদেশের ২২ শতাংশ, যা নতুন সীমার অনেক বেশি।

এসময়ে যুক্তরাজ্যের প্রত্যাখ্যাত ২৩ হাজার ৩৬টি আবেদনের একটি বড় অংশ এসেছে শুধু এই দুই দেশ থেকেই। পাশাপাশি কাজ বা শিক্ষা ভিসায় যুক্তরাজ্যে এসে পরবর্তীতে আশ্রয় আবেদন বৃদ্ধিও অন্যতম কারণ।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও এতে চাপের মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা স্বল্প খরচের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয়ের প্রধান উৎস। 

বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে পড়তে যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীর সংখ্যা একেবারে কম না হলেও, নতুন নিয়ম, বাড়তি যাচাই-বাছাই ও অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে দেশটিতে উচ্চশিক্ষার সিদ্ধান্ত এখন আরো কঠিন হয়ে উঠবে।

ঢাকা/এস

সম্পর্কিত নিবন্ধ