মুগ্ধের ভাই স্নিগ্ধ: বিএনপিতে যোগ দিলেন যে কারণে
Published: 6th, November 2025 GMT
জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ মুগ্ধের ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ সম্প্রতি বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। দলের প্রাথমিক সদস্য ফরম পূরণ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেন তিনি।
স্নিগ্ধর হঠাৎ বিএনপিতে যোগদান নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। বিএনপিতে যোগদান বিষয়ে তিনি নিজেই মুখ খুলেছেন।
বৃহস্পতিবার এ প্রসঙ্গে ফেসবুক পেজে মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধর স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হলো:
‘‘আসসালামু আলাইকুম
আমি মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ। জুলাইয়ের পর থেকে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মানের যে জোয়ার উঠেছে, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে, সেই তরুণদের একজন প্রতিনিধি হিসেবে আমিও সামাজিকভাবে নানা কার্যক্রমের প্রতিনিধিত্ব করেছি। পাশাপাশি তরুণদের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়তে রাজনৈতিক পরিবর্তনের যে প্রচেষ্টা চলছে সেই লক্ষ বাস্তবায়নে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছি।
আপনারা জানেন যে আমি বা আমার ভাইদের কেউই রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম না, মুগ্ধ একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবেই দেশের জন্য জীবন দিয়েছে। তাই আমি মনে করি মুগ্ধসহ সকল শহিদ কোন রাজনৈতিক দলের নয়, তারা সকল মানুষ এবং দেশের সম্পদ।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে এবং এই নতুন বাস্তবতায় সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত জায়গা থেকে বাংলাদেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করছি। এবং সম্পূর্ণ নিজ যোগ্যতায় এগিয়ে যেতে চাই।
অরাজনৈতিক প্লাটফর্ম থেকে জুলাইকে নানাভাবে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছি, এখন সময় এসেছে রাজনৈতিকভাবে জুলাইয়ের প্রতিনিধিত্ব করার। আমার রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার পিছনে অন্যতম কয়েকটি কারণ হলো-
সর্বোচ্চ জায়গা থেকে জুলাইকে প্রতিনিধিত্ব করা। জুলাই শহিদ, আহত যোদ্ধা, শহিদ পরিবার এবং সর্বোপরি জুলাইয়ের ভয়েস হয়ে উঠা, রাজনীতিতে তরুণদের প্রতিনিধিত্ব করা এবং বাংলাদেশপন্থী ও জুলাইপন্থী সকল অংশীজনের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা। রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে যোগদান কারার পিছনে আমার কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাস রয়েছে তাছাড়া বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন এবং রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখা ২০২৩ এর অনেক জায়গা আছে যেগুলো নিয়ে সরাসরি কাজ করতে আমি আগ্রহী।
দ্বিতীয়ত আমি মনে করি, সকল পরিসরে জুলাইয়ের প্রতিনিধিত্ব থাকা প্রয়োজন। তাই আমি বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত হচ্ছি। এতে করে জুলাইয়ের ঐক্য শক্তিশালী এবং দীর্ঘায়িত হবে বলে আমি মনে করি।
তাছাড়া বিএনপির সন্মানিত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান চাচ্ছেন যে আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের হয়ে তরুণদের প্রতিনিধিত্ব করি যা আমারও অন্যতম রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার একটি। এর মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী দল এবং তরুণদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরীতে ভূমিকা রাখতে পারবো বলে আমি মনে করি।
তবে সর্বোপরি আমি সকল রাজনৈতিক দল এবং বাংলাদেশ ও জুলাইপন্থী সকলের সাথে কাজ করে যেতে চাই। রাজনৈতিক ঐক্যের মাধ্যমে সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মান আমার রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার আরেকটি অন্যতম লক্ষ্য। আমার এই পথচলাই সকলের সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করছি। মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ জনমানুষের সকল সংগ্রাম চির অম্লান হোক।
আরেকটি বিষয়, এতদিন যত দায়িত্ব আমি পালন করেছি সব দায়িত্ব নিষ্ঠা এবং সততার সাথে পালন করেছি। যদি কোন অভিযোগ থাকে দয়া করে অভিযোগে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রমাণসহ উপস্থাপন করবেন এবং গঠনমূলক সমালোচনা করবেন। নতুন বাংলাদেশে সবাই মিলে এতটুকু সংস্কার তো আমরা আশাই করতে পারি।’’
ঢাকা/নঈমুদ্দীন//
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর র জন ত ক র র জন ত ব এনপ র ব এনপ ত রহম ন
এছাড়াও পড়ুন:
খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় রাবিতে দোয়া
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়ার আয়োজন করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রদল। আজ মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) বাদ আছর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
দোয়া অনুষ্ঠানে রাবি জিয়া পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়া দেশের মানুষের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তিনি ক্রান্তিলগ্নেও দেশ ছেড়ে যাননি। উনার এক ছেলে যখন মারা যান এবং আরেক ছেলে জেল হাজতে, তখন তাকে বিদেশে চলে যেতে বলা হয়েছে কিন্তু তিনি যাননি। ফ্যাসিস্ট আমলে তাকে সামান্য সম্মানটুকুও দেওয়া হয়নি। আল্লাহর কি কুদরত, তাকে এখন ভিভিআইপি পারসন ঘোষণা করা হয়েছে। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে দলমত নির্বিশেষে সকলে বুঝতে পেরেছে, তাকে এখন কতটা প্রয়োজন। আমরা তার জন্য আল্লাহর কাছে প্রাণ খুলে দোয়া চাই।’’
আরো পড়ুন:
চবি ক্যাম্পাসে ভুয়া শিক্ষার্থী আটক
বেরোবিতে শিক্ষার্থীকে ছাত্রদল নেত্রীর মামলার হুমকি
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাইন উদ্দীন বলেন, ‘‘একটা দেশ, একটা জাতিকে যদি শেষ করতে হয়; তাহলে ওই জাতির লিডারশিপ শেষ করে দিলে জাতি পঙ্গু হয়ে যায়। বর্তমানে দেশে এমন একটা নেতৃত্ব দরকার, যেখানে জাতি ঐক্যবদ্ধ হবে। বেগম খালেদা জিয়া সেরকম একজন মানুষ। এ জাতি ওনাকে একজন কমন নেতৃত্ব হিসেবে মানে, উনি যদি দাঁড়ান তাহলে জাতি ওনার পিছনে দাঁড়িয়ে যান। এমন একজন নেতৃত্ব বাংলাদেশের জন্য খুবই প্রয়োজন। পুরো দেশ তার জন্য দোয়া করছে। আমরাও দোয়া করব, আল্লাহ যেন তাকে দ্রুত সুস্থ করে দেন।’’
সভাপতির বক্তব্যে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মহান আল্লাহ যেন সুস্থ করে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন। বেগম জিয়ার এই সংকটময় সময়ে শিশু থেকে শুরু করে সবাই তার জন্য দোয়া করছে এবং অনেকে তার সুস্থতার জন্য রোজা রেখেছেন ও দান-সদকা করে যাচ্ছেন।’’
দোয়া অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের নেতা ও শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
ঢাকা/ফাহিম/বকুল