‘শিক্ষকের পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত শিল্পচর্চা ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির জন্য হুমকি’
Published: 6th, November 2025 GMT
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তাব বাতিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্ত দেশের ভবিষ্যৎ শিল্পচর্চা ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতির জন্য বড় হুমকি।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন। এগুলো হলো প্রাথমিকে সংগীত বিষয়ে শিক্ষক পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, চলমান নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সংগীত শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি, মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিকে সংগীত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া, বিসিএস ক্যাডারে সংগীত বিভাগ সংযুক্তকরণ, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানে সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার ও সার্টিফিকেট কোর্সকে স্নাতকের সমমান না দেওয়ার বিষয়ে দ্রুত গেজেট প্রকাশ করা ইত্যাদি।
আরও পড়ুনপ্রাথমিকে সংগীতের শিক্ষক নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্তে এইচআরএফবির উদ্বেগ১৬ ঘণ্টা আগেসমাবেশে শিক্ষার্থীরা ‘সংগীত শিক্ষা বন্ধ নয়, শিশুর হাসি নষ্ট হয়’, ‘সংগীতহীন স্কুল নয়, সৃজনশীলতার মৃত্যু হয়’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
সংগীত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও নবাব ফয়জুন্নেছা হল সংসদের সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক প্রত্যাশা চাকমা বলেন, ‘সাহিত্য-সংস্কৃতি ছাড়া কোনো দেশ বা জাতি বিকশিত হয় না। অন্য দেশে যেখানে সংগীতকে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে, সেখানে আমাদের দেশে সংগীত শিক্ষাকে কোণঠাসা করার অপচেষ্টা চলছে।’
আরও পড়ুনসংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ বাদ দেওয়ার বিষয়ে যে ব্যাখ্যা দিল অন্তর্বর্তী সরকার০৪ নভেম্বর ২০২৫একই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি জাকিরুল ইসলাম (জশদ জাকির) বলেন, ‘ বর্তমানে সংগীত শুধু শিক্ষা নয়, চিকিৎসাক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা মানসিক সমস্যায় ভোগা মানুষকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সংগীত কার্যকর ভূমিকা রাখে—এটা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার আগস্ট মাসে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলেও গত মাসে তা হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়। কেন বন্ধ হলো—এর যৌক্তিক কারণ কেউ দেখাতে পারেনি।’
সংগীত বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জারিন সুভা এ সমাবেশের সঞ্চালনা করেন।
আরও পড়ুনস্কুলে সংগীত শিক্ষক পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানাল উদীচী০৪ নভেম্বর ২০২৫.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: সরক র
এছাড়াও পড়ুন:
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ বন্ধ করছে যুক্তর
যুক্তরাজ্যের নতুন অভিবাসন নীতির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ সীমিত করছে দেশটির বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) সংবাদমাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, ভিসার অপব্যবহার এবং যুক্তরাজ্যের নতুন মানদণ্ড অনুযায়ী অন্তত ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন এই দুটি দেশকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করছে।
কিছু বিশ্ববিদ্যালয় পুরোপুরি এই দুই দেশের শিক্ষার্থী ভর্তি স্থগিত করেছে। আর কিছু প্রতিষ্ঠান শুধু স্নাতক পর্যায়ে আবেদন গ্রহণ বন্ধ রেখেছে।
ফিনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, হঠাৎ ওই দুই দেশের নাগরিকদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নয়টি বিশ্ববিদ্যালয় হলো— ইউনিভার্সিটি অব উলভারহ্যাম্পটন, সান্ডারল্যান্ড ও কোভেন্ট্রি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট লন্ডন, ইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ার, লন্ডন মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়, অক্সফোর্ড ব্রুকস বিশ্ববিদ্যালয়, বিপিপি ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব চেস্টার ও গ্লাসগো ক্যালেডোনিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়।
ভর্তির সুযোগ সীমিত করার মূল কারণ যুক্তরাজ্যের বেসিক কমপ্লায়েন্স অ্যাসেসমেন্টের (বিসিএ) নতুন নিয়ম।
ফিনান্সিয়াল টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সেসব দেশকেই বিবেচনায় করতে হবে, যাদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার সর্বোচ্চ ৫ শতাংশের মধ্যে রাখতে হবে- যা আগে ছিল ১০ শতাংশ।
তবে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাকিস্তানের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ১৮ শতাংশ এবং বাংলাদেশের ২২ শতাংশ, যা নতুন সীমার অনেক বেশি।
এসময়ে যুক্তরাজ্যের প্রত্যাখ্যাত ২৩ হাজার ৩৬টি আবেদনের একটি বড় অংশ এসেছে শুধু এই দুই দেশ থেকেই। পাশাপাশি কাজ বা শিক্ষা ভিসায় যুক্তরাজ্যে এসে পরবর্তীতে আশ্রয় আবেদন বৃদ্ধিও অন্যতম কারণ।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও এতে চাপের মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা স্বল্প খরচের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয়ের প্রধান উৎস।
বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে পড়তে যেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীর সংখ্যা একেবারে কম না হলেও, নতুন নিয়ম, বাড়তি যাচাই-বাছাই ও অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে দেশটিতে উচ্চশিক্ষার সিদ্ধান্ত এখন আরো কঠিন হয়ে উঠবে।
ঢাকা/এস