বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভারতের ভিসা জটিলতা কমে যাবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা। তিনি আশা করেন, ‘‘ভিসা জটিলতা অতি শিগগিরই সমাধান হবে। বর্তমানে মেডিকেল ভিসা চালু আছে।’’

ভারতের হাইকমিশনার সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার প্রাচীন রনদা প্রসাদ সাহা দুর্গাপূজার মন্দির পরিদর্শন করেন। সেখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। কুমুদিনী হোমসের কর্মকর্তারা প্রণয় কুমারকে ফুল দিয়ে তাকে বরণ করে নেন।

আরো পড়ুন:

বিজয়ের বাড়িতে বোমা আতঙ্ক

এশিয়া কাপ ২০২৫: কে জিতল কোন পুরস্কার?

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ভিসা দেওয়া সীমিত করা হয়েছে। তবে সেখানে চিকিৎসার জন্য রোগীদের ভিসা দেওয়া হচ্ছে।

প্রণয় কুমার বলেন, ‘‘বাংলাদেশ-ভারতের বন্ধুত্ব ঐতিহাসিক। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিনিময় দুই দেশের সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ করবে।’’

কুমুদিনী হোমস কর্তৃপক্ষ হাইকমিশনারকে মন্দিরের ইতিহাস ও সংস্কার কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন। এ সময় কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজিব প্রসাদ সাহা, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সনাতন সম্প্রদায়ের নেতারা আশা প্রকাশ করেন, ‘‘ভারতীয় হাইকমিশনারের এ সফর দুই দেশের পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহযোগিতা আরো দৃঢ় করবে।’’

ঢাকা/কাওছার/বকুল 

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর

এছাড়াও পড়ুন:

অনলাইন জুয়ার বিরোধেই নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার তাকবির, ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ২

সিদ্ধিরগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিত্যক্ত ভবনে তরুণ তাকবির আহমেদ (২২) হত্যাকাণ্ডের রহস্য মাত্র ২৪ ঘণ্টায় উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলার পরদিনই হত্যায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং উদ্ধার হয়েছে নিহতের মোবাইল ফোন।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পিবিআই পুলিশ সুপার মোঃ মোস্তফা কামাল রাশেদ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়—নিহত তাকবির বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বেকার থাকায় বাড়িতেই থাকতেন। গত ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি তাকবির। দীর্ঘ সময় তার কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবার বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালায়। 

পরদিন ২৬ নভেম্বর দুপুরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর আসে ওয়াপদা কলোনীর পানি উন্নয়ন বোর্ড আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর পরিত্যক্ত ভবনের ১ম তলার কক্ষে পড়ে আছে এক তরুণের মরদেহ। পরে পরিবার গিয়ে নিশ্চিত হয় নিহত ব্যক্তি তাকবির আহমেদ।

ঘটনার পর তাকবিরের বাবা নুর মোহাম্মদ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ সুপার জানান, তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণ, গোপন গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠ পর্যায়ের তদন্তে প্রকৃত ঘাতকদের শনাক্ত করে পিবিআই। পরে ২৭ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় সোনারগাঁওয়ের লাঙ্গলবন্দ এলাকা থেকে মোঃ হারুন (৩৪) এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একইদিন সন্ধ্যা ৭টায় সিদ্ধিরগঞ্জ ওয়াপদা কলোনী মোড় থেকে মোঃ রফিকুল (৩৮)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরবর্তীতে রফিকুলের দেখানো মতে তার ঘরের সিলিংয়ের ভেতর লুকিয়ে রাখা তাকবিরের মোবাইল ফোন উদ্ধার করে পিবিআই।

জিজ্ঞাসাবাদে দুই আসামি চাঞ্চল্যকর তথ্য দেয়। তারা জানায়. মাদক সেবনের পর অনলাইন জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে তাকবিরের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। সেই বিরোধ থেকেই পরিকল্পিতভাবে তাকবিরকে পরিত্যক্ত ভবনে ডেকে নিয়ে যায়। 

সেখানে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে। হত্যার পর ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে পুরোনো একটি সিমকার্ড চালু করে তাকবিরের বাবার কাছে ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণও দাবি করে তারা।

পরদিন ২৮ নভেম্বর দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করলে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। পিবিআই জানিয়েছে, হত্যার নেপথ্য কারণ, ব্যবহৃত অস্ত্র এবং পূর্ব অপরাধের তথ্য যাচাই করে দ্রুত চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতি চলছে। 
 

সম্পর্কিত নিবন্ধ