জীবনে ‘অ্যাটেনশন স্প্যান’ কীভাবে বাড়াবেন
Published: 11th, June 2025 GMT
কারও জীবনে যদি ‘অ্যাটেনশন স্প্যান’ বা মনোযোগের সময়কাল খুব শর্ট বা ছোট হয় তাহলে তার প্রকৃত জ্ঞান বাড়ার সম্ভাবনা একেবারেই কম। আমাদের অ্যাটেনশন স্প্যান কমিয়ে দেওয়ার পেছনে কয়েকটি অভ্যাস দায়ী। যেগুলো জীবনের জন্যও টক্সিক ভূমিকা পালন করে।
১. ঘুম থেকে উঠেই প্রথমে ফোন ব্যবহার করা। এটা খুবই খারাপ অভ্যাস। দিনের প্রথম ও শেষ এক ঘণ্টা ফোন থেকে দূরে থাকা উচিত।
২.
আরো পড়ুন:
হজমশক্তি বাড়ানোর ৯ উপায়
পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখার উপায়
৩. শর্ট ফর্ম সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট দেখাও একটি খারাপ অভ্যাস। যত ছোট কনটেন্ট,ততটাই ইউজলেস। যত ছোট কনটেন্ট ডোপামিন হরমোন লেভেলের জন্য ততবেশি ক্ষতিকর। দিনে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় সময দিতে পারেন। খুব প্রয়োজন না হলে এর বেশি সময় দেবেন না। যদি আপনি আপনার জীবনের লক্ষ্য সেট করে থাকেন, স্বপ্ন সেট করে থাকেন তাহলে সেই স্বপ্ন তাড়া করতে সময় ব্যয় করুন।
৪. অতিরিক্ত ভোগের অভ্যাস আপনাকে লাইফে এগোতে দেবে না। একজন বন্দির সময় যেভাবে বন্দি অবস্থায় কেটে যায়, আপনার সময়ও ওভাবে কেটে যাবে। খুব বেশি খাওয়া বা খুব ঘন ঘন খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করুন। নিজের দিনটাকে ভালোভাবে সাজিয়ে তুলুন। দিনের দশ শতাংশ সময় ভোগের জন্য ব্যয় করতে পারেন। আর দিনের ৯০ শতাংশ সময় আত্মচিন্তা ও উৎপাদন কাজে ব্যায় করুন।
৫. জানেন তো- শর্ট অ্যানেটশনের অভ্যাস সবচেয়ে খারাপ। অথচ এই সিস্টেমের মধ্যেই আমরা বসবাস করছি। ধরুন আপনি ধনী হতে চান, আপনার উচিত-কীভাবে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর প্রতিষ্ঠানগুলো-রিজার্ভ ব্যাংকগুলো কাজ করে এবং কারা এর মালিক। তাদের সম্পর্কে জানা। যে বিষয়গুলো একটি টিকটক ভিডিওতে শর্ট অ্যাটেনশন স্প্যানে পাওয়া সম্ভব নয়।
সূত্র: রেড পিল
ঢাকা/লিপি
উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর অ য ট নশন স প য ন
এছাড়াও পড়ুন:
বন্যায় ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডে নিহতের সংখ্যা ১৭৫০ ছাড়াল
এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে টানা বৃষ্টি থেকে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৭৫০ ছাড়িয়েছে। এসব দেশের উদ্ধারকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত লাখ লাখ মানুষকে সহায়তা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।
দেশগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হালনাগাদ এ তথ্য জানিয়েছে বলে শনিবার আল–জাজিরার খবরে বলা হয়।
গত ২৭ নভেম্বর দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এসব দেশে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়। টানা বৃষ্টি থেকে বন্যা ও ভূমিধস দেখা দেয়। শ্রীলঙ্কায় ‘ডিটওয়া’ নামের এক ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। মাঝখানে দু-এক দিন বৃষ্টি কিছুটা কমে আসে। তবে আবারও কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের সুমাত্রা দ্বীপের কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, অন্তত ৯০৮ জন নিহত হয়েছেন। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪১০ জন। দ্বীপটিতে বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৮ লাখের বেশি মানুষ।
আচেহ প্রদেশের গভর্নর মুজাকির মানাফ জানিয়েছেন, উদ্ধারকারী দল এখনো ‘কোমরসমান গভীর কাদা’ থেকে মরদেহ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। তবে দূরবর্তী ও দুর্গম গ্রামগুলোতে এখন খাদ্যসংকটই সবচেয়ে বড় হুমকি বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
গভর্নর মুজাকির বলেন, ‘অনেক মানুষের মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিসের দরকার। আচেহের দূরবর্তী অনেক এলাকা এখনো সাহায্যের বাইরে রয়ে গেছে।’ তিনি বলেন, মানুষ বন্যায় মারা যাচ্ছে না, বরং অনাহারে মারা যাচ্ছে। পরিস্থিতি এখন এ রকমই।
শ্রীলঙ্কা সরকার জানিয়েছে, তাদের দেশে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬০৭ জনে পৌঁছেছে।
এখনো ২১৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের প্রায় সবাই মারা গেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে জাতীয় জরুরি অবস্থার ঘোষণা দিয়ে দেশ পুনর্গঠনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। দেশটি বর্তমানের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
শ্রীলঙ্কায় ২০ লাখের বেশি মানুষ অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ বন্যায় ক্ষতির শিকার হয়েছেন। দেশটির কর্মকর্তারা শুক্রবার সতর্ক করেছেন, টানা ভারী বৃষ্টিতে নতুন করে ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুনএশিয়ার কিছু অংশে ঝড়-বন্যা-ভূমিধস কেন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে০৩ ডিসেম্বর ২০২৫শ্রীলঙ্কার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) জানিয়েছে, ৭১ হাজারের বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫ হাজার বাড়ি গত সপ্তাহের বন্যা ও ভূমিধসে পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
ডিএমসি শুক্রবার পূর্বাভাসে বলেছে, ইতিমধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মধ্যাঞ্চলসহ দেশের অনেক এলাকায় আবারও বৃষ্টি হতে পারে। এতে নতুন ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, থাইল্যান্ডে বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৭৬ জন নিহতের খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। অন্যদিকে মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামে ভারী বৃষ্টিতে ভূমিধসের কারণে দুজন করে চারজন নিহত হয়েছেন।