বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘‘যুক্তরাজ্য বাংলাদেশে আগামী নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ দেখতে চায়।’’ তবে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন’ নিয়ে অতীতে তাদের যে অবস্থান ছিল, সেই প্রসঙ্গ এবার আর তোলেননি সারাহ কুক। 

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেন সারাহ কুক। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

আরো পড়ুন:

সংসদ নির্বাচনে ১৫০ পর্যবেক্ষক পাঠাতে চায় ইইউ

পাহাড়ে আবারও পুরাতন খেলা শুরু হয়েছে: মেজর হাফিজ

হাইকমিশনার সারাহ কুক বলেন, ‘‘সিইসির সঙ্গে খুব ভালো বৈঠক হয়েছে। কয়েক মাস আগেও যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে নির্বাচন বিষয়ক আলোচনায় আগ্রহ ছিল, এবারো সেই ধারাবাহিকতায় আমরা এসেছি। আমরা আশা করি, আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য এবং শান্তিপূর্ণ হবে।’’ 

তিনি আরো বলেন, ‘‘যুক্তরাজ্য নির্বাচন কমিশন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের নির্বাচনী প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানায়। নাগরিকদের মধ্যে ভোট নিয়ে সচেতনতা তৈরির বিভিন্ন প্রকল্পে যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে। বিশেষ করে দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী এবং পোলিং কর্মীদের প্রশিক্ষণের বিষয়েও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’’ 

তবে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হাইকমিশনার সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি শুধু বলেন, ‘‘আমি অন্য কোনো বিষয়ে কথা বলব না। যেমনটা বলেছি, যুক্তরাজ্য অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনকে সমর্থন করছে।’’ পুনরায় অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে হাইকমিশনার কোনো উত্তর না দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন।

এর আগে চলতি বছরের ১০ মার্চ সিইসির সঙ্গে বৈঠকে ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন’ চেয়েছিল যুক্তরাজ্য। এছাড়া দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরেও একই ধরনের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছিল দেশটি।  

ঢাকা/এএএম/বকুল 

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর য ক তর জ য

এছাড়াও পড়ুন:

অনলাইন জুয়ার বিরোধেই নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার তাকবির, ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ২

সিদ্ধিরগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিত্যক্ত ভবনে তরুণ তাকবির আহমেদ (২২) হত্যাকাণ্ডের রহস্য মাত্র ২৪ ঘণ্টায় উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলার পরদিনই হত্যায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং উদ্ধার হয়েছে নিহতের মোবাইল ফোন।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পিবিআই পুলিশ সুপার মোঃ মোস্তফা কামাল রাশেদ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়—নিহত তাকবির বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বেকার থাকায় বাড়িতেই থাকতেন। গত ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি তাকবির। দীর্ঘ সময় তার কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবার বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালায়। 

পরদিন ২৬ নভেম্বর দুপুরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর আসে ওয়াপদা কলোনীর পানি উন্নয়ন বোর্ড আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর পরিত্যক্ত ভবনের ১ম তলার কক্ষে পড়ে আছে এক তরুণের মরদেহ। পরে পরিবার গিয়ে নিশ্চিত হয় নিহত ব্যক্তি তাকবির আহমেদ।

ঘটনার পর তাকবিরের বাবা নুর মোহাম্মদ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ সুপার জানান, তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণ, গোপন গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠ পর্যায়ের তদন্তে প্রকৃত ঘাতকদের শনাক্ত করে পিবিআই। পরে ২৭ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় সোনারগাঁওয়ের লাঙ্গলবন্দ এলাকা থেকে মোঃ হারুন (৩৪) এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একইদিন সন্ধ্যা ৭টায় সিদ্ধিরগঞ্জ ওয়াপদা কলোনী মোড় থেকে মোঃ রফিকুল (৩৮)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরবর্তীতে রফিকুলের দেখানো মতে তার ঘরের সিলিংয়ের ভেতর লুকিয়ে রাখা তাকবিরের মোবাইল ফোন উদ্ধার করে পিবিআই।

জিজ্ঞাসাবাদে দুই আসামি চাঞ্চল্যকর তথ্য দেয়। তারা জানায়. মাদক সেবনের পর অনলাইন জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে তাকবিরের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। সেই বিরোধ থেকেই পরিকল্পিতভাবে তাকবিরকে পরিত্যক্ত ভবনে ডেকে নিয়ে যায়। 

সেখানে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে। হত্যার পর ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে পুরোনো একটি সিমকার্ড চালু করে তাকবিরের বাবার কাছে ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণও দাবি করে তারা।

পরদিন ২৮ নভেম্বর দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করলে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। পিবিআই জানিয়েছে, হত্যার নেপথ্য কারণ, ব্যবহৃত অস্ত্র এবং পূর্ব অপরাধের তথ্য যাচাই করে দ্রুত চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতি চলছে। 
 

সম্পর্কিত নিবন্ধ