প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষাবিষয়ক শিক্ষকের নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। তাঁরা এই দুই বিষয়ে শিক্ষক পদ পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার অপরাজেয় বাংলার সামনে সংগীত বিভাগের আয়োজনে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য হেমা চাকমা বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় গান আমাদের উদ্যমী (স্পিরিট) করেছিল। এই গানগুলোকে কি আমরা অস্বীকার করতে পারব? চব্বিশের আন্দোলনে কি এই সংগীত ভূমিকা রাখেনি?’ তিনি আরও বলেন, ‘গান এমন একটি বিষয়, এটি চাইলেই বাদ দিতে পারব না। গানের মাধ্যমে আমরা দেশকে চাই‌। অন্যদিকে আমাদের মেয়েরা শরীরচর্চার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটা অবস্থান তৈরি করেছে।’

সংগীত বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী ওহি বলেন, ‘আমরা অনেকে এই বিভাগে পড়াশোনা করে শিল্পী হব না। অনেকেরই ইচ্ছা থাকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংগীতের শিক্ষক হ‌ওয়া। কিন্তু সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্ত আমাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। সংগীত মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম তৈরি করে। সংগীত হলো প্রতিবাদের ভাষা। জুলাই অভ্যুত্থানে আমরা দেখেছি, সংগীত কীভাবে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে কাজ করেছে।’

থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মো.

ইসরাফিল বলেন, ‘বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সংগীত শিক্ষক ও শারীরিক শিক্ষাবিষয়ক শিক্ষক পদ নিয়ে সরকারের এমন সিদ্ধান্ত আমাদের সংস্কৃতি, সাহিত্যের ওপর চরম আঘাত। যাঁরা নীতি তৈরিতে আছেন, যাঁরা উপদেষ্টা পরিষদে আছেন, তাঁরা অনেকেই শিক্ষক। তা ছাড়া শিক্ষা উপদেষ্টাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রথিতযশা শিক্ষক। কিন্তু তাঁরা থাকা সত্ত্বেও এমন সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাই।’

আজকের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে এর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন সংগীতশিল্পী ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান। তিনি বলেন, ‘সরকারের উন্মাদ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করতে হবে‌। আগে প্রতিবাদের গান গাইতাম। এখন গান গাওয়াটাই প্রতিবাদ।’ তিনি বলেন, বর্তমানে একদল মানুষ সংগীত ও ধর্মকে সামনাসামনি দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন‌। গান দিয়েই সবাইকে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান এই শিল্পী।

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: ব শ বব দ য আম দ র

এছাড়াও পড়ুন:

সিলেট-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন সাবেক মেয়র আরিফুল

সিলেট সিটি করপোরেশনের দুইবারের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে অবশেষে সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জ) আসনে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে চারটায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রার্থী হিসেবে আরিফুলের নাম ঘোষণা করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয় দফায় আরিফুলসহ ৩৬ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটি। এর আগে গত ৩ নভেম্বর ২৩৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল বিএনপি। তবে ওই দিন সিলেট-৪ ও সিলেট-৫ (কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ) আসনে প্রার্থী দেওয়া হয়নি। গতকালও সিলেট-৫ আসনে বিএনপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি।

সিলেট বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সিলেট-১ (নগর ও সদর) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন আরিফুল হক। তবে এ আসনে মনোনয়ন পান বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। এর আগে দলের উচ্চপর্যায় থেকে সিলেট-১-এর পরিবর্তে বেশ কয়েকবার সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হওয়ার জন্য বললেও তিনি রাজি হননি। গত ৫ নভেম্বর রাতে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাঁকে সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হতে নির্দেশনা দেন। পরে ৭ নভেম্বর থেকে তিনি নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণা শুরু করেন।

আরিফুল বর্তমানে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে আছেন। এর আগে তিনি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া তিনি সিলেট জেলা বিএনপির সদস্য। এর আগে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন একসময়ের ছাত্রদলের প্রভাবশালী এই নেতা।

যোগাযোগ করলে আরিফুল হক চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার প্রার্থিতার ঘোষণা সিলেট-৪ আসনের মানুষকে আনন্দিত করলেও এই মুহূর্তে আমিসহ আমার নেতা-কর্মী দেশমাতা খালেদা জিয়ার জন্য চরম উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠায় সময় কাটাচ্ছি। আমরা তাঁর সুস্থতা কামনা করছি।’

আরিফুল হক চৌধুরী আরও বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে ধানের শীষকে বিজয়ী করব। ধানের শীষের বিজয় মানে বাংলাদেশের বিজয়, গণতন্ত্রের বিজয়। সিলেট-৪ আসনের পিছিয়ে পড়া তিন উপজেলাকে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।’

সম্পর্কিত নিবন্ধ