পাখির খাদ্যের আড়ালে পাকিস্তান থেকে পপি বীজ এনে ধরা
Published: 6th, November 2025 GMT
সাড়ে ছয় কোটি টাকা মূল্যের আমদানি নিষিদ্ধ পপি সিড আটক করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। সম্প্রতি এই চালান আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
এনবিআর বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) জানায়, পাখি খাদ্য ঘোষণা দিয়ে পাকিস্তান থেকে দুই কনটেইনারে ৩২ হাজার ১০ কেজি পণ্য আমদানি করে চট্টগ্রামের কোরবানিগঞ্জের আদিব ট্রেডিং। এই চালান খালাসের জন্য বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এমএইচ ট্রেডিং।
পণ্য চালানের ক্ষেত্রে গোপন সংবাদ থাকায় চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের গোয়েন্দা শাখা চালানটি আটক করে। গত ২২ অক্টোবর আমদানিকারক মনোনীত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং অফ ডক কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে চালানের পণ্য পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় ৭ হাজার ২০০ কেজি বার্ড ফুড এবং ২৪ হাজার ৯৬০ কেজি পপি সিড পাওয়া যায়।
এরপর পণ্যের নমুনা চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ দপ্তর, সমুদ্র বন্দর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যানোপ্রযুক্তি সেন্টার এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে ভৌত রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে উক্ত পণ্য দুটির মধ্যে একটি পণ্য পপি সিড হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই পণ্য চালানের ক্ষেত্রে কন্টেইনারের দরজার পাশে শুরুর দিকে বার্ড ফুড দিয়ে পপি সিড ঢেকে রেখে কৌশলে অবৈধভাবে আমদানি করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল।
পপি সিড অঙ্কুরোদগম উপযোগী হলেও তা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুসারে ‘ক’ শ্রেণির মাদক। এটি আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য। ফলে পণ্য চালানটি চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস আটক করে। একইসঙ্গে পণ্যগুলোর বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, পণ্যচালানটির ঘোষিত মূল্য ছিল ৩০ লাখ ২ হাজার ৪৮২ টাকা। কিন্তু প্রাপ্ত পণ্যের বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কার্যকর ব্যবস্থার ফলে চালানটি আটক করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
ঢাকা/নাজমুল//
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর চ ল নট পর ক ষ আমদ ন
এছাড়াও পড়ুন:
সেন্ট মার্টিন: ধ্বংসের প্রান্তসীমায় ক্ষীণ আশা
নারিকেল জিঞ্জিরা দ্বীপ বা সেন্ট মার্টিন আইল্যান্ড, যেটিকে প্রায়ই বাংলাদেশের ‘প্রবাল দ্বীপ’ নামে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়, আজ এক ভঙ্গুর বাস্তুতন্ত্র। কয়েক দশকের সরকারি অবহেলা, অনিয়ন্ত্রিত উন্নয়ন এবং পর্যটনের এই দ্বীপকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছে। ব্যাপক বিশ্বাসের বিপরীতে বলা দরকার, প্রাকৃতিকভাবে এটি কোনো প্রবাল দ্বীপ নয়, এটি একটি প্রবাল বহনকারী বাস্তুতন্ত্র। অনন্য ভূতত্ত্ব ও জীববৈচিত্র্য দ্বীপটিকে একটি জাতীয় রত্ন করে তুলেছে। তবে সেই রত্ন এখন পদদলিত, যার বেশির ভাগ ক্ষতি এড়ানো সম্ভব ছিল।
১৯৮০ সালে যখন আমি প্রথমবারের মতো গবেষণার জন্য দ্বীপটিতে যাই, তখন সেখানে ছিল মাত্র তিন হাজার বাসিন্দা, একটি জরাজীর্ণ ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র এবং কয়েক শ শীতকালীন দর্শনার্থী। ছোট্ট একটি নৌকাঘাটে ছিল গুটিকয় দোকান নিয়ে একটি বাজার। কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সেন্ট মার্টিন তখন ছিল সাবরাং ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ড, এখন পুরোদস্তুর একটি ইউনিয়ন।
ডিম পাড়তে আসা জলপাইরঙা কাছিম