অন্তর্বর্তী সরকার সব সমস্যার সমাধান করতে পারবে না
Published: 19th, January 2025 GMT
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও গবেষণা সংস্থা সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দেশের বিভিন্ন সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসা স্বল্প সময়ের মধ্যে সম্ভব নয়। অন্তর্বর্তী সরকার সব সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। তারা কিছু শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। সমস্যার সমাধানে করণীয় নির্ধারণ করতে পারবে। কিন্তু গুরুদায়িত্ব ভবিষ্যৎ নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের। তাদেরই কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে হবে।
গতকাল শনিবার ‘শ্বেতপত্র এবং অতঃপর: অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, সংস্কার ও বাজেট’ শীর্ষক দিনব্যাপী সিম্পোজিয়ামের সমাপনী অধিবেশনে তিনি এমন মন্তব্য করেন। অর্থনীতি বিষয়ে সরকার গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এর আয়োজন করে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান ও সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড.
অধ্যাপক রেহমান সোবহান তাঁর বক্তব্যে ঋণখেলাপি, অর্থ পাচার, ব্যাংক ব্যবস্থার দুরবস্থাসহ দেশের অর্থনীতির নানা দুর্বল দিকের কথা উল্লেখ করে বলেন, এর কোনোটিই নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে চলে এসেছে। বিগত ১৬ বছরের জবাবদিহি না থাকায় সমস্যাগুলো আরও ঘনীভূত হয়েছে। বিগত সরকারের অপশাসন ঋণখেলাপির বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ হিসেবে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। পুরো আর্থিক খাত রাজনৈতিক বিবেচনায় পরিচালিত হয়েছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানের আরেক বক্তা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ঋণখেলাপিরা যাতে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন না পান, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে তাঁর দল। ক্ষমতায় এলে চলমান সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে বিএনপির ভাবনা বিষয়ে তিনি বলেন, দুই বছর আগেই তারা এ বিষয়ে জনগণের সামনে ৩১ দফা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেছেন। এতে তারা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের কথা উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর গণঅভ্যুত্থানের ফলে মানুষের একটি তীব্র আকাঙ্ক্ষা জন্মেছে, তারা পরিবর্তন চায়। জনগণ সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ দেখতে চায়। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছাড়া এ প্রত্যাশা পূরণ করা বেশ কঠিন। এ জন্যই রাজনীতিতে কাঠামোগত কিছু পরিবর্তনের সুপারিশ এসেছে সংস্কার কমিটির পক্ষ থেকে।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। যারা নির্বাচন করেন না, কিন্তু দেশের উন্নয়নে সহযোগিতা করতে পারেন, তাদের দ্বিতীয় বা উচ্চকক্ষে নিয়ে আসার চিন্তা রয়েছে। নির্বাচনের পর জাতীয় সরকার গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচনে যারা আসবেন এবং আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করা হবে। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা হবে।
ক্ষমতায় গেলে বিএনপি সংস্কার কার্যক্রমে করতে পারবে কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে সন্দেহ অমূলক নয়। তবে পারব না, এ কথা বলা যাবে না। চেষ্টা করতে হবে। আমরা জনগণের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ। অনেকেই আশা করছেন, ছয় মাসের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার সব পেরে যাবে। কিন্তু বাস্তবে তা সম্ভব নয়। তাই বিএনপি নির্বাচনে বেশি জোর দিচ্ছে।
সংস্কারের জন্য বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারকে ছয় মাস সময় দিচ্ছে– এ সময়টা কতটুকু যৌক্তিক অধ্যাপক রেহমান সোবহানের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, এটা তাদের রাজনৈতিক কৌশল। আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ নেওয়া-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী কোনো গোষ্ঠী আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কিনা, সেটা জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে। রাজনৈতিক দল হিসেবে এ বিষয়ে তারা কিছু বলতে চান না।
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক সেলিম রায়হান মির্জা ফখরুলের কাছে জানতে চান, বিএনপি কি নিশ্চয়তা দিতে পারে, অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি করবে না। এর জবাবে ফখরুল ইসলাম বলেন, অতীতের সব অভিজ্ঞতা তাদের রয়েছে। এর আলোকেই তারা পরিকল্পনা গ্রহণ করছেন। দ্রুত নির্বাচন-সংক্রান্ত এক সমন্বয়কের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে, একটি নির্বাচনকালীন সরকারই সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারে। কারণ, তারা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আসে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, যেসব প্রত্যাশা নিয়ে ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থান করেছিল, তার তেমন কিছুই পূরণ হয়নি। শেখ হাসিনার সরকার টাকা ছাপিয়ে মূল্যস্ফীতিকে উস্কে দিয়েছিল, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও টাকা ছাপিয়েছে। জিনিসপত্রের বাড়তি দামে মানুষ যখন মারাত্মক চাপে, তখন সরকার ভ্যাট ও শুল্ক বাড়িয়ে জনগণের পকেট থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা বের করে নেওয়ার তালে রয়েছে।
তৃতীয় অধিবেশনে অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে আলোচনায় সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. রওনক জাহান প্রশ্ন তোলেন, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও আমলাদের শক্তিশালী চক্রের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিতে পেরেছে বর্তমান সরকার? তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে গেলে তারা প্রভাব খাটায়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে।
এ অধিবেশনে জাতীয় পার্টির অতিরিক্ত মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারি বলেন, সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা অনেক বলা হয়। অথচ বর্তমান সরকারের সময়েও সংস্কারে তেমন কিছু দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, রাজনীতিবিদদের মধ্যে দুর্নীতি আছে। সংসদ সদস্য হতে ৩০০ কোটি টাকা লাগে। এই টাকা তারা কেন খরচ করেন– এর উত্তরে সব জবাব রয়েছে। তিনি বলেন, বিনা টাকায় এমপি হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া দরকার।
আলোচনায় তেল-গ্যাস ও খনিজ সম্পদ রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বলেন, শেখ হাসিনা এত পরাক্রমশালী হয়ে ওঠার পেছনে ব্যবসায়ী, আমলা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের দায় রয়েছে। তারা গত সরকারের কাজকে উন্নয়নের ‘মিরাকল এবং আউটস্ট্যান্ডিং’ বলে হাসিনাকে শক্তি জুগিয়েছে। আমলাতন্ত্র সম্পর্কে তিনি বলেন, আমলাতন্ত্র কৃষ্ণগহ্বর। এখানে সব হারিয়ে যায়। এখানে পরিবর্তন না হলে বাকি আর কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়।
এ প্রসঙ্গে ড. দেবপ্রিয় বলেন, আমলারা এখনও গগনবিদারী ভূমিকা পালন করছে। তারা এখনও ক্ষমতাবান। যেখানে অর্থনীতি চাপে আছে, সেখানেও তারা এ সরকারের কাছ থেকে মহার্ঘ ভাতা আদায় করে নিতে পারে।
প্রধান উপদেষ্টার পররাষ্ট্রবিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, সরকারি সব অফিসে এখনও স্বৈরাচার রয়েছে। একটা ফাইল যত দিন ইচ্ছা ধরে রাখার সুযোগ রয়েছে তাদের। এ প্রসঙ্গে নির্দিষ্ট কাজ নির্দিষ্ট সময়ে করার ক্ষেত্রে ন্যাশনাল উইন্ডোর প্রস্তুতির কথা জানান তিনি।
ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের হেড অব কোঅপারেশন ড. মিচেল ক্রিজা বলেন, বাংলাদেশকে অবশ্যই পাঁচটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। এগুলো হচ্ছে– দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, তথ্য-উপাত্তের স্বচ্ছতাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নয়ন করা, বাজার অর্থনীতিকে প্রকৃত অর্থেই কার্যকর করা, পুঁজি বাজারে যাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসতে পারে, তা নিশ্চিত করা ও শ্রম অধিকার প্রশ্নে সংস্কার। তা না হলে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ইইউতে রপ্তানিতে সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
সানেমের নির্বাহী পরিচালক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান বলেন, শ্বেতপত্র প্রতিবেদন এবং এর সুপারিশ বাস্তবায়নে গত দেড় মাসে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বাজেটের জন্য অপেক্ষায় থাকা সঠিক সিদ্ধান্ত হবে না। কারণ, বাজেট হতে আরও ছয় মাস বাকি। অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য ছয় মাস অনেক লম্বা সময়। কারণ, নির্বাচন দিয়ে দায়িত্ব ছাড়তে তাদের ওপর চাপ রয়েছে। এখনই শ্বেতপত্রের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সাতটি মেগা প্রকল্প পর্যালোচনা করে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি দেখেছে, ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার প্রকল্পে ১৮ হাজার কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। নিজেদের লোককে সুবিধা দেওয়ার জন্যই এটা করা হয়েছ। এ রকম প্রকল্পের ঋণ পরিশোধের প্রভাব যুগ যুগ ধরে থেকে যাবে। পাচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাচারের অর্থ ফেরত আনা কঠিন, তবে অসম্ভব নয়। বাংলাদেশে আসা পাচারের অর্থ ফেরত দেওয়ার রেকর্ড আছে, সুতরাং বাংলাদেশও পাচারের অর্থ ফেরত পেতে পারে।
দেশে নির্বাচন ও সংস্কারকে কেন্দ্র করে বর্তমানে সংঘাতের সৃষ্টি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন ড. দেবপ্রিয়। এ ছাড়া ধীরগতির প্রবৃদ্ধি, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের অভাব ও কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জকে জরুরি বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে আসন্ন বাজেট নিয়ে বিস্তৃত আলোচনার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, প্রবৃদ্ধির হার বিশেষ করে ধীর হয়ে পড়ছে। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ হচ্ছে না, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও সমস্যা বিদ্যমান।
উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: শ ব তপত র প র জন ত ক ব যবস থ ন সরক র সরক র র জনগণ র র জন য ত র জন সমস য ফখর ল ব এনপ
এছাড়াও পড়ুন:
স্বচ্ছতার জন্য ডিএনসিসির প্রকল্পের তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে:
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) সব প্রকল্পের তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।
সোমবার (২৮ এপ্রিল) ডিএনসিসির ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত পশ্চিম শেওড়াপাড়া, পশ্চিম কাজীপাড়া ও সেনপাড়া পর্বতা এলাকায় ৪ কিলোমিটার রাস্তা, ৫ কিলোমিটার নর্দমা ও দেড় কিলোমিটার ফুটপাত নির্মাণকাজের উদ্বোধন ও গণশুনানি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা জানান।
ডিএনসিসির প্রশাসক বলেন, ডিএনসিসির সব প্রকল্পের তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। প্রকল্পটি কবে শুরু হবে, কবে শেষ হবে, কতা টাকা বরাদ্দ আছে—এসব তথ্য ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে। এছাড়া, রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ হলে নির্মাণ সামগ্রী কী, সেটা জনগণের জানা দরকার। যখন জনগণ জানবে, তখন তারা জবাবদিহি করতে পারবে।
তিনি বলেন, “আমি গত সপ্তাহে কাউকে না জানিয়ে ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে চলমান কাজ পরিদর্শন করতে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে দেখলাম, রাস্তাকে ধরে রাখার জন্য যে ওয়াল (বিশেষ দেয়াল) দেওয়া হয়েছে, সেটার পিলার বানানোর কথা ছিল স্টোন দিয়ে; কিন্তু বানিয়ে রেখেছে ব্রিক দিয়ে। এটা বড় দুর্নীতি। স্থানীয় মানুষ যদি না জানে, কী নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হবে, তাহলে দুর্নীতি করাটা সহজ। তথ্যের যত বেশি আদান-প্রদান হবে, তথ্য যত বেশি পাবলিক করা হবে, জনগণ তত বেশি জবাবদিহি করতে পারবে। আমি ঠিকাদারকে জানিয়ে দিয়েছি, সঠিক নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার না করলে বিল দেব না। তারা বলেছে, এটা ঠিক করে দেবে।”
মোহাম্মদ এজাজ বলেন, যার যার এলাকার কাজ তারা বুঝে নেবেন। বুঝে নেওয়ার জন্য যত তথ্য ও সহযোগিতা লাগবে, সেটা আমরা দেব। ডিএনসিসির ওয়েবসাইটে প্রকল্পের সব তথ্য ও ঠিকাদারের ফোন নম্বরসহ দেওয়া থাকবে। স্থানীয় জনগণ স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাজ বুঝে নেবেন। আমরা চাই, সকলের অংশগ্রহণে উন্নয়নকাজ সম্পন্ন হবে। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।”
তিনি বলেন, “আমরা বিভিন্ন জায়গায় কাজ করতে গিয়ে স্থানীয় সোসাইটি, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সহযোগিতা পাচ্ছি। সবার অংশগ্রহণ বাড়াতে আমি বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের নিয়ে গণশুনানি করছি। প্রতি মাসে ফেসবুক লাইভে দেশে-বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের সাথে যুক্ত হচ্ছি। ডিএনসিসির সবার ঢাকা অ্যাপ আছে, সেটির পাসওয়ার্ড পর্যন্ত আমাদের দিচ্ছে না। আগে যারা ক্ষমতায় ছিলেন, তারা ৪ কোটি টাকা খরচ করে এই অ্যাপ বানিয়েছে। পাসওয়ার্ড না দিলে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব।”
ডিএনসিসির প্রশাসক বলেন, মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় হকারদের জন্য হাটা যায় না। মানুষের অবাধ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা যাবে না। ঢাকা শহরে মানুষের চলাচলের অধিকার সবার আগে, সেই অধিকার আমরা বাস্তবায়নের চেষ্টা করব। মিরপুর-১০ এর প্রধান সড়কের যত হকার ও অটোরিকশা আছে, সেগুলো আমরা বন্ধ করে দেব। যারা এ ধরনের ইনফরমাল পেশায় যুক্ত আছেন, তাদের পুনর্বাসনের জন্যও আমরা প্ল্যাটফর্ম করব। তাদের জন্যও বিকল্প ব্যবস্থা আমরা তৈরি করব। এই শহরটা সবার, সবাই একসাথে বসবাস করব; কিন্তু অন্যদের কষ্ট না দিয়ে, অন্যের অধিকার নষ্ট না করে।
বক্তৃতা শেষে ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন এবং মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, অঞ্চল-৪ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খন্দকার মাহাবুব আলম, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হকসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
ঢাকা/এএএম/রফিক