ঠাকুরগাঁও-২ আসনে দলীয় প্রার্থী চান বিএনপির নেতা–কর্মীরা
Published: 8th, November 2025 GMT
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-২ আসনে (বালিয়াডাঙ্গী, হরিপুর ও রানীশংকৈল উপজেলার আংশিক) ১৯৯৬ সালের পর থেকে নিজ দলের প্রার্থী পাননি বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। জোটের হিসাব–নিকাশে পড়ে ২০০১ সাল থেকে সেখানে বরাবর জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে ছাড় দিয়েছে দলটি। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। এবার আর শরিক কোনো দলকে ছাড় দিতে চায় না বিএনপি।
স্থানীয় নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, আসনটি বারবার শরিকদের ছেড়ে দেওয়ায় মাঠপর্যায়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বিএনপির। এবার সেটার অবসান চান তাঁরা। এবার নির্বাচনে এ আসন অন্য কোনো দলকে দেওয়া হলে তৃণমূল পর্যায়ে বিদ্রোহ দেখা দিতে পারে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও-২ আসনটি বরাবর আওয়ামী লীগ ও তাদের শরিকদের দখলে ছিল। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে এখানে মির্জা রুহুল আমিন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাবা। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) থেকে ১৫-দলীয় জোটের প্রার্থী নির্বাচিত হন দবিরুল ইসলাম। ১৯৮৮ সালে আসনটি দখলে নেয় জাতীয় পার্টি। সেবার সেখানে জাতীয় পার্টি থেকে প্রার্থী হন মির্জা রুহুল আমিন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জোটের প্রার্থী হয়ে দবিরুল ইসলাম আসনটি পুনরুদ্ধারের পর তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এর পর থেকে আসনটি দবিরুল ইসলাম ও তাঁর ছেলে মাজহারুল ইসলামের দখলে ছিল। এই আসনে ১৯৯১ সালে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন আলতাফুর রহমান এবং ১৯৯৬ সালে জুলফিকার মর্তুজা চৌধুরী। তবে সেবার নির্বাচনে তাঁরা প্রত্যাশিত ফলাফল পাননি। এর পর থেকে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন শুরু করতে গিয়ে আসনটি জামায়াতকে ছেড়ে দেওয়ায় বিএনপির কেউ এ আসনে প্রার্থী হতে পারেননি। ছাড় পেয়ে ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে জোটের প্রার্থী হন আব্দুল হাকিম। বিএনপির সমর্থন নিয়ে আব্দুল হাকিম কেবল ভোটের ব্যবধান কমিয়েছেন। কিন্তু জয়ী হতে পারেননি। এতে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।
বিএনপির নেতা-কর্মীরা বলছেন, এই আসনের জাতীয়তাবাদী চেতনার মানুষ এখন অবহেলিত। এর পেছনের কারণ, দীর্ঘদিন বিএনপির কোনো নেতাকে সংসদ সদস্য হিসেবে এলাকাবাসী পাননি। বিএনপির নেতা-কর্মীরা জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে অক্লান্ত পরিশ্রম করে নিজেদের ভোট জামায়াতের বাক্সে তুলে দিয়েছেন। এরপরও ইতিবাচক ফল আসেনি। এবার জামায়াত আলাদা নির্বাচন করায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মাঝে আশা জেগে ওঠে। দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নির্বাচনী মাঠ সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সক্রিয় হয়ে ওঠেন কর্মীরা।
৩ নভেম্বর রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ২৩৭ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে ঠাকুরগাঁও-২ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। ঘোষণার এক পর্যায়ে তিনি ইঙ্গিত দেন, যেসব আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি, সেখানে বিএনপির সঙ্গে যেসব দল যুগপৎ আন্দোলন করেছে, তারা আসতে পারে। এ ঘোষণায় স্থানীয় নেতা-কর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েন।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা তাঁতী দলের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘প্রায় ৩০ বছর ধরে সংসদ নির্বাচনে আমরা দলীয় কোনো প্রার্থীকে ভোট দিতে পারিনি। যদিও জেতার মতো আবস্থান ছিল বিএনপির। আমরা নিজেরা পরিশ্রম দিয়ে জামায়াতের ভিত মজবুত করেছি। এবার জামায়াত না থাকায় নেতা-কর্মীরা আশায় বুক বেঁধে ছিল। কিন্তু প্রার্থী ঘোষণা না দেওয়ায় আমরা আবারও হতাশ। এবার বিএনপির প্রার্থী ছাড়া অন্য কোনো দলের প্রার্থীকে মেনে নেব না।’
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জুলফিকার আলী বলেন, ‘দীর্ঘদিন এই আসনটি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। এ সময় বিএনপির নেতা-কর্মীরা বঞ্চিত-নির্যাতিত হয়েছেন। গত বছরের ৫ আগস্টের পর নির্বাচনে বিএনপির জনপ্রতিনিধি পাব—এমনটাই আশা করেছিলাম। কিন্তু এখন আমরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছি। এবার দলীয় কোনো নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া না হলে আসনটি হারানোর আশঙ্কা দেখছি।’
আবুল হাশেম নামে হরিপুর উপজেলার এক বিএনপির কর্মী বলেন, ‘হামা বিএনপি পাগল। অনেক বছর ধানের শীষে ভোট দিবা পারুনি। হামার লোক না থাকিলে অন্যঠে ভোট দিবা যামোনি।’ বিএনপির কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে জোটের প্রার্থী জামানত হারাবেন বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
একই উপজেলার আরেক বিএনপির কর্মী কবিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চাই বিএনপির মহাসচিব এখানে সরাসরি নির্বাচন করুক। আর তা না হলে তাঁর পরিবারের অন্য কাউকে প্রার্থী করা হোক। আমরা এবার দলের বাইরে কোনো প্রার্থীকে ভোট দেব না।’
হরিপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের বলেন, ‘আমরা এবার এ আসনে ধানের শীষ মার্কারই (বিএনপি) প্রার্থী চাই। সে যে–ই হোক। এভাবে চলতে থাকলে দল ক্ষতির মুখে পড়বে। আমরা অন্তত এবার আশা করছি, আমাদের মধ্য থেকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। শরিক দলের কোনো প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হলে এলাকার মানুষ মানবে কেন?’
এবারের নির্বাচনে এই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সাবেক মহাসচিব আব্দুস সালাম, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য জুলফিকার মর্তুজা চৌধুরী।
জুলফিকার মর্তুজা চৌধুরী বলেন, ‘যেসব দল যুগপৎ আন্দোলনে ছিল, এই আসনে তাদের অবস্থান একেবারে নেই বললেই চলে। বিএনপি ছাড়া অন্য দলকে আসনটি ছেড়ে দিলে তারা জয়লাভ করতে পারবে না। এসব নিয়ে আমরা দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে আছি। আমাদের দলের নেতারা পাল্লা পাল্লা করতে গিয়ে নিজের দলের প্রতীকটাই ভুলতে বসেছিলেন। এখন সুযোগ এসেছে। আমরা চাই দলের প্রার্থী। দলের প্রার্থী পেলে এই আসনে সহজেই বিএনপি জয়ী হবে। কারণ, এখানে জামায়াত যে ভোট পায়, তার বেশির ভাগই আমাদের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের।’
মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, ‘ওই আসনে দীর্ঘদিন আমার বাবা সংসদ সদস্য ছিলেন। এরপর সেখানে বিএনপির কোনো প্রার্থী জয়ী হতে পারেননি। পরে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করার কারণে জামায়াতকে আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়। আসনটি পুনরুদ্ধারে বিএনপি নেতা-কর্মীরা এবারের নির্বাচনে আমাদের পরিবার থেকে একজনকে প্রার্থী হিসেবে চাচ্ছেন। এসব বিবেচনা করে দল সেখানে এখনো কোনো প্রার্থী দেয়নি। ওই আসনে দলীয় প্রার্থীই নির্বাচন করবেন। আসনটি জোটকে ছেড়ে দেওয়ার গুঞ্জনটি সঠিক নয়।’
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: য় ব এনপ র ন ত দল র প র র থ ব এনপ র স ব এনপ র ক র ল ইসল ম ও ২ আসন এই আসন ল আম ন আম দ র কর ম র ঠ ক রগ সদস য উপজ ল
এছাড়াও পড়ুন:
বিএনপির মনোনীত নেতারা প্রচারে, পিছিয়ে নেই জামায়াত
সুনামগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে প্রথমে তিনটিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল বিএনপি। সম্প্রতি বাকি দুটি আসনেও প্রার্থী ঘোষণা করায় জমে উঠেছে জেলার নির্বাচনী রাজনীতি। এর মধ্যে তিনটি আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি উঠেছে। প্রতিদিনই নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির প্রার্থীদের গণসংযোগের পাশাপাশি দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ করছেন।
এদিকে জেলার পাঁচটি আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। মাঠের প্রচারে বেশি জোর দিচ্ছে দলটি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পাঁচজন প্রার্থী ঘোষণা হলেও নির্বাচনী মাঠে তাঁদের তৎপরতা তুলনামূলক কম। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কোনো প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। ভোটের মাঠে তাদের তৎপরতা না থাকলেও তারা দল গোছানোর চেষ্টা করছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা সভাপতি মুফতি শহীদুল ইসলাম পলাশী প্রথম আলোকে বলেন, সুনামগঞ্জে সব আসনেই তাঁদের প্রার্থীরা তৎপর আছেন, প্রচার চালাচ্ছেন। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ-১, সুনামগঞ্জ-৩ ও সুনামগঞ্জ-৪ আসনে তাঁদের অবস্থা ভালো, অন্য দুটিতে কিছু দুর্বলতা আছে। তাঁরা সব কটিতে ভালো করার চেষ্টা করছেন।
গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আত্মগোপনে। জাতীয় পার্টির (জাপা) কার্যক্রম স্থবির। নেতা-কর্মীদেরও তেমন তৎপরতা নেই। তবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার দলীয় প্রস্তুতি রয়েছে বলে দাবি জেলা জাপার সদস্যসচিব নাজমুল হুদার।
হাওর–অধ্যুষিত সুনামগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ চারটিতে এবং একটিতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জয়ী হন। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারটিতে আওয়ামী লীগ এবং একটিতে জোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জয়ী হন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের প্রার্থী হিসেবে একটিতে জাতীয় পার্টি এবং চারটিতে জয়ী হয় আওয়ামী লীগ। সর্বশেষ ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব কটিতে জয়ী হন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা।
তবে গত চারটি নির্বাচনে নানা কারণে আলোচনায় ছিল সুনামগঞ্জ-৪ আসনটি। এটি জেলার সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনটি নির্বাচনে জোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টি থেকে প্রার্থী দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে এই আসন আর ছাড় দেয়নি আওয়ামী লীগ। জেলা সদরের আলোচিত এই আসনে এবার বিএনপি প্রার্থী করেছে দলের জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য আইনজীবী নুরুল ইসলামকে।
সুনামগঞ্জে সব আসনেই প্রার্থীরা তৎপর আছেন, প্রচার চালাচ্ছেন। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ-১, সুনামগঞ্জ-৩ ও সুনামগঞ্জ-৪ আসনে তাঁদের অবস্থা ভালো, অন্য দুটিতে কিছু দুর্বলতা আছে। তাঁরা সব কটিতে ভালো করার চেষ্টা করছেন।মুফতি শহীদুল ইসলাম পলাশী, জেলা সভাপতি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও মধ্যনগর)
সুনামগঞ্জের আলোচিত এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিসুল হক। প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন করছেন আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কামরুজ্জামানের অনুসারীরা। প্রার্থী পরিবর্তন ও কামরুজ্জামানকে প্রার্থী করার দাবিতে প্রতিদিনই সংসদীয় আসনের কোথাও না কোথাও বিক্ষোভ হচ্ছে। অন্যদিকে জোরেশোরে মাঠে প্রচার চালাচ্ছেন আনিসুল হক। এখানে আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা মাহবুবুর রহমানও সক্রিয় আছেন।
বিএনপির প্রার্থী আনিসুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি দুর্দিনে নেতা-কর্মীদের পাশে ছিলাম। কখনো মাঠ ছাড়িনি। আমাকে দল প্রার্থী করায় নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত।’ তবে কামরুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘোষিত প্রার্থী নিয়ে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা হতাশ। আশা করছেন দল মানুষের দাবি শুনতে পাবে।
বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আসনটিতে প্রচার চালাচ্ছেন জেলা জামায়াতের আমির তোফায়েল আহমদ খান। তিনি বলেন, ‘জনগণ সব দলকে দেখেছে। এবার তারা জামায়াতের মাধ্যমে দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছে।’
এখানে ইসলামী আন্দোলনের ফখর উদ্দিন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) চিত্তরঞ্জন তালুকদার নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা)
আসনটি প্রথমে ফাঁকা রেখেছিল বিএনপি। এখানে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে মাঠে ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাহির রায়হান চৌধুরী (পাভেল)। নাছির উদ্দিন চৌধুরী শারীরিক অসুস্থতার কারণে এত দিন মাঠে না থাকলেও সম্প্রতি দিরাই সদরে সমাবেশ করে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন। ৪ ডিসেম্বর বিএনপি তাঁকে আসনটিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
চেষ্টা করছি মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার। হাওর এলাকা, অনেক সংকট। প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে। মানুষের আগ্রহ আছে। এটি শেষ পর্যন্ত থাকলে আশা করি ভালো কিছু হবে। মোহাম্মদ শিশির মনির, সুনামগঞ্জ–২ আসনের জামায়াতের প্রার্থীএ আসনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি মোহাম্মদ শিশির মনিরকে প্রার্থী করেছে জামায়াত। তিনি মাঠে প্রচার চালাচ্ছেন। শিশির মনির প্রথম আলোকে বলেন, ‘চেষ্টা করছি মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করার। হাওর এলাকা, অনেক সংকট। প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে। মানুষের আগ্রহ আছে। এটি শেষ পর্যন্ত থাকলে আশা করি ভালো কিছু হবে।’
আসনটিতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব শোয়াইব আহমদ। বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনী জোট হলে জমিয়তে উলামায়ে আসনটি চাইতে পারে বলে এলাকায় আলোচনা আছে। ইসলামী আন্দোলনের জেলা সেক্রেটারি সোহেল আহমদ, সিপিবির নিরঞ্জন দাস (খোকন) প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ)
বিএনপি এখানে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। আসনটিতে মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন এবং বর্তমান আহ্বায়ক কমিটি সদস্য নাদীর আহমদ নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে মাঠে নেমেছেন। দুজনই দলীয় প্রার্থী পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।
নাদীর আহমদ বলেন, ‘আমি তো দীর্ঘদিন থেকে মাঠে। সবখানেই যাচ্ছি, মানুষের সাড়া পাচ্ছি।’ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নেমেছি। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাও চান আমি নির্বাচন করি।’
জামায়াতের সিলেট মহানগর শাখার মজলিশে শুরা সদস্য মোহাম্মদ ইয়াসীন খানকে এখানে প্রার্থী করেছে দলটি। এ ছাড়া খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহীনুর পাশা চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলনের মুফতি আবদুল হাই প্রার্থী হিসেবে মাঠে তৎপর আছেন।
সুনামগঞ্জ-৪ (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর)
দ্বিতীয় ধাপে ৪ ডিসেম্বর এই আসনে বিএনপি প্রার্থী ঘোষণা করেছে। মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম। এ ছাড়া মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চারবারের সাবেক চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবিদুল হক ও আবুল মনসুর মো. শওকত।
নুরুল ইসলাম বলেন, ‘গত ১৬ বছর হামলা-মামলা সহ্য করে নেতা-কর্মীদের আগলে রেখেছি। আমি কেন্দ্রের নির্দেশনায় মাঠে কাজ করছি।’
জামায়াত এখানে জেলার নায়েবে আমির মোহাম্মদ শামস্ উদদীনকে প্রার্থী করেছে। এ ছাড়া গণ অধিকার পরিষদের জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক সওগাত উছমানী চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলনের জেলা সভাপতি মুফতি শহীদুল ইসলাম পলাশী প্রার্থী হতে পারেন।
এনসিপির প্রার্থী হিসেবে জেলার আহ্বায়ক দেওয়ান সাজাউর রাজা চৌধুরীর (সুমন) নাম শোনা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা একই সঙ্গে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও দল গোছানোর কাজ করছি।’
সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক ও দোয়ারাবাজার)
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদকে (মিলন) প্রার্থী ঘোষণা করেছে দল। এখানেও প্রার্থী পুনর্বিবেচনার দাবিতে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ছাতক উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরীর সমর্থকেরা বিক্ষোভ করেছেন।
কলিম উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমি ২০১৮ সালে মনোনয়ন না পেয়ে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে দলের প্রার্থীর পক্ষে মাঠে ছিলাম। এবার দল আমাকে প্রার্থী করেছে। ধানের শীষের পক্ষে এখানে সবাই ঐক্যবদ্ধ।’
জামায়াতের সিলেট মহানগর শাখার মজলিশে শুরা সদস্য আবদুস সালাম আল মাদানী এখানে প্রার্থী হয়েছেন। তিনি ২০০১ সালে ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে এখানে নির্বাচন করেছিলেন। তাঁর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান রেজাউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘আমরা পুরো প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে আছি। ইতিমধ্যে নির্বাচনী এলাকায় সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠকসহ নানা কর্মসূচি করেছি।’
ইসলামী আন্দোলন এখানে আলী আকবর সিদ্দিকীকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।