ফেনীতে দুর্বৃত্তরা রেললাইনের ফিশপ্লেট খুলে সিগন্যাল বাতিতে লাল কাপড় বেঁধে দেয়
Published: 8th, November 2025 GMT
ফেনীতে ঢাকা–চট্টগ্রাম রেলপথে ফিশপ্লেট খুলে লাল কাপড় বেঁধে রাখে দুর্বৃত্তরা। তবে সময়মতো বিষয়টি টের পেয়ে লাইন মেরামত করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে। সাময়িক বিঘ্নের পর আবার ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আজ শনিবার ভোরে ফেনী রেলস্টেশনের অদূরে সদর উপজেলার দক্ষিণ সহদেবপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, গেটম্যান আমিনুল ইসলাম সকালে দায়িত্ব পালনে গিয়ে রেললাইনের ওপর লাল কাপড় ও খুলে ফেলা রেলবিট দেখতে পান। পরে সঙ্গে সঙ্গে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান তিনি। খবর পেয়ে কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মেরামতের কাজ শুরু করেন। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় লাইন সাময়িকভাবে ঠিক করে ট্রেন চলাচলের উপযোগী করা হয়।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ফেনী রেলস্টেশন থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিটার দূরে দক্ষিণ সহদেবপুর রেলওয়ে ব্রিজ–সংলগ্ন এলাকায় রাতের আঁধারে রেলপথের যন্ত্রাংশ খুলে ফেলে দুর্বৃত্তরা। তারা রেলপথের আপলাইনে ৮৯ দশমিক শূন্য ১ অংশে একটি রেলবিটের ফিশপ্লেট, ছয়টি নাট, ২০টি কার্ড স্লিপার ও ৪০টি ইআরসি খুলে ফেলে। পরে রেলবিটটি ১ ফুট দূরে পাশের সিগন্যাল বাতির খুঁটির সঙ্গে লাল কাপড়ে বেঁধে রাখা হয়। খুলে ফেলা রেলবিট থেকে চট্টগ্রামমুখী লাইনের ১০০ গজ অদূরে রেললাইনের ওপর লাল কাপড় টানিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
রেলওয়ে কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, এটি পরিকল্পিত নাশকতার অংশ। কারণ, দুর্বৃত্তরা শুধু ফিশপ্লেটই খুলে নেয়নি; সঙ্গে রেঞ্জ ও ছেনিজাতীয় হাতিয়ার ঘটনাস্থলে ফেলে গেছে। কাছাকাছি সিগন্যাল খুঁটিতে লাল কাপড় বেঁধে রাখার মাধ্যমে ট্রেন চলাচলে বাধা তৈরির চেষ্টা ছিল। তবে এটি নাশকতা নাকি চুরির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে।
ফেনী রেলওয়ে প্রকৌশলী বিভাগের মেট (২৩–এ) ফারুক হোসেন বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাইনটি মেরামত করা হয়। সকাল আটটার পর আপলাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে ফেনী রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী সারোয়ার আলম বলেন, যেখানে ঘটনা ঘটেছে, সেখানে রাতে মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা আড্ডা দেন। তবে এটি নাশকতা নাকি চুরি, বিষয়টি অনুসন্ধানের চেষ্টা চলছে। প্রকৌশল বিভাগের পক্ষ থেকে জিআরপি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এ ঘটনার পরপর তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানান ফেনী রেলস্টেশন জিআরপি পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) তরুণ কান্তি চাকমা। তিনি বলেন, রেলওয়ে পুলিশ সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় রেল পুলিশের পক্ষ থেকে লাকসাম জিআরপি থানায় প্রাথমিকভাবে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হচ্ছে।
এদিকে এ ঘটনার পর চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল সোয়া ৭টার পরিবর্তে সকাল সোয়া ৯টায় ফেনী অতিক্রম করেছে বলে জানান ফেনী রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার মোহাম্মদ হারুন। তিনি বলেন, অন্য ট্রেনগুলোও নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে বিলম্বে ফেনী স্টেশন অতিক্রম করেছে।
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: দ র ব ত তর ঘটন স থ ল ইন র র লওয় এ ঘটন
এছাড়াও পড়ুন:
বন্দরে সাঁজাপ্রাপ্ত আসামিসহ বিভিন্ন ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার ৬
বন্দরে মাদক মামলার ৫ বছরের সাঁজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিসহ বিভিন্ন ওয়ারেন্টে ৬ পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ধৃতরা হলো, বন্দর লাঙ্গলবন্ধ যুগিপাড়া এলাকার মৃত জামাল মিয়ার ছেলে বন্দর থানার দায়েরকৃত ১০(১১)২১ নং মাদক মামলার ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি বাচ্চু মিয়া (৫২) একই থানার মদনগঞ্জ বটতলা এলাকার নুর ইসলাম মিয়ার ছেলে ওয়ারেন্টভূক্ত আসামি রানা ওরফে মাসুদ রানা (৪২) ও তার স্ত্রী লায়লা বেগম (৩৭)।
সোনাকান্দা চৌধুরীপাড়া এলাকার জলিল উল্ল্যাহ মিয়ার ছেলে সিআর মামলার ওয়ারেন্টভূক্ত আসামি সরফত উল্ল্যাহ (৪২) একই থানার কুড়িপাড়া এলাকার মুসলিম মিয়ার ছেলে ওয়ারেন্টভূক্ত আসামি শাহীন (৩৫) ও দড়ি সোনাকান্দা এলাকার মহন মিয়ার ছেলে জিআর মামলার ওয়ারেন্টভূক্ত আসামি আল আমিন (২১)।
ধৃতদের রোববার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে পৃথক ওয়ারেন্টে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে গত শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বন্দর থানার বিভিন্ন এলাকায় ওয়ারেন্ট তামিল অভিযান চালিয়ে এদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।