বলিউডের প্রাক্তন অভিনেত্রী টুইঙ্কেল খান্না। লেখক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রচেষ্টা চলছে তার। তবে এরই মাঝে অভিনেত্রী কাজলকে নিয়ে ‘টু মাচ উইথ কাজল অ্যান্ড টুইঙ্কেল’ শিরোনামে টক শো সঞ্চালনা করছেন এই অভিনেত্রী। 

এ শোয়ের নতুন পর্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন ফারাহ খান ও অনন্যা পান্ডে। বিভিন্ন প্রজন্ম সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত সীমারেখাকে কীভাবে দেখে, তা নিয়ে মতবিনিময় হয়। বয়স্করা কী তরুণদের তুলনায় তাদের সম্পর্ক গোপন রাখতে বেশি দক্ষ? এই প্রশ্নের মধ্য দিয়ে ‘এগ্রি/ডিসএগ্রি’ (সম্মতি/অসন্মতি) সেগমেন্টে শুরু হয়। 

আরো পড়ুন:

ডিভোর্সের গুঞ্জনের মাঝে হাসপাতালে মাহি

সুজান খানের মা মারা গেছেন

টুইঙ্কেল খান্না, ফারাহ খান এবং অনন্যা পান্ডে এতে ‘এগ্রি’ করেন। কিন্তু কাজল ভিন্ন মত প্রকাশ করেন। অনন্যা পান্ডে মজা করে বলেন, “আপনারা সবাই খুব ভালো পারেন।” টুইঙ্কেল যোগ করেন, “বয়স্করা অনেক বেশি পারদর্শী, তাদের অনেক অনুশীলন আছে।”

তবে কাজল একমত হননি। ‘বাজিগর’ তারকা বলেন, “আমি মনে করি, তরুণরা তাদের জীবনের সবকিছু অর্থাৎ সম্পর্কসহ সব লুকাতে অনেক বেশি পারদর্শী।” এ কথা শুনে অনন্যা পান্ডে বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে এখন কিছুই গোপন থাকে না।” নির্মাতা ফারাহ খান বলেন, “তরুণরা এখন এমনকি প্রেমে না থাকলেও নিজের ব্যক্তিগত জীবন অনলাইনে পোস্ট করেন।”

এরপর প্রশ্ন রাখা হয়, আজকের প্রজন্ম কী তাদের পার্টনার পোশাকের ঘন ঘন বদলায়? এ বক্তব্যের পক্ষে ‘এগ্রি’ করেন টুইঙ্কেল খান্না। কিন্তু বাকিরা অসম্মতি জানান। টুইঙ্কেলের যুক্তি—“এটা ভালো দিক। কারণ আমাদের সময় ভাবতাম, ‘মানুষ কী বলবে? এটা করা যায় না।’ এখনকার ছেলেমেয়েরা দ্রুত পার্টনার বদলাচ্ছে, আমি মনে করি এটা ইতিবাচক।”

তবে অনন্যা পান্ডে এ বিষয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেন। এ অভিনেত্রী বলেন, “মানুষ সব সময়ই পার্টনার বদলাচ্ছে, আগে সেটা নীরবে হতো। অর্থাৎ বিষয়টি নতুন নয়, এখন বেশি দৃশ্যমান।” এ বিষয়ে টুইঙ্কেল খান্না বলেন, “তাদের জন্য বিষয়টি এখন সহজ, কারণ তাদের কোনো মানসিক বোঝা নেই। তারা ভাবে, ‘এটা কাজ করছে না, তাহলে এগিয়ে যাই।”

ঢাকা/শান্ত

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর অনন য

এছাড়াও পড়ুন:

অনলাইনের যেকোনো তথ্য যাচাই করতে হবে

ভুয়া বা ভুল তথ্য এবং অপতথ্যের এই সময়ে সবচেয়ে জরুরি হলো—প্রশ্ন করার অভ্যাস ও তথ্য যাচাইয়ের দক্ষতা। পাশাপাশি অনলাইনে পাওয়া যেকোনো কনটেন্ট (আধেয়) শুরুতেই সন্দেহের চোখে দেখতে হবে; প্রথম দেখাতেই পুরোপুরি বিশ্বাস করা যাবে না।

অনলাইনে দ্রুত তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের কৌশল শেখাতে প্রথম আলো বন্ধুসভার বিশেষ কর্মশালায় এ কথা বলেন বক্তারা। আজ শুক্রবার ‘কোয়েশ্চেন এভরিথিং ইউ সি অনলাইন: ট্রেইনিং অন কুইক ফ্যাক্ট-চেকিং অ্যান্ড ভেরিফিকেশন (অনলাইনে যা দেখবেন, প্রশ্ন করবেন: তথ্য যাচাই পদ্ধতিবিষয়ক প্রশিক্ষণ)’ শিরোনামে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। দেশি-ফুডসের পৃষ্ঠপোষকতায় ও ডিসমিসল্যাবের সহযোগিতায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হয়ে কর্মশালা চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন মল্লিকের সঞ্চালনায় প্রথম সেশনে ‘ক্রিটিক্যাল থিংকিং’ বিষয়ে আলোচনা করেন ডিজিটালি রাইটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘কোনো ভুল তথ্যকে যদি সঙ্গে সঙ্গে সঠিক না করেন তাহলে এই তথ্যকে একসময় মানুষ সত্যি মনে করবে। এখন সেই ব্যবসা তত বড়, যে ব্যবসায় তথ্য বেশি। যাদের কাছে তথ্য বেশি তারা এগিয়ে যায়। যাচাই করার সক্ষমতা বর্তমানে অনেক বেশি জরুরি হয়ে গেছে। যেকোনো তথ্যে দেখবেন সূত্র উল্লেখ আছে কি না। সূত্র না থাকলে তথ্য সঠিক মনে করা যাবে না।’

স্বাগত বক্তব্যে প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘প্রশ্ন করতে হবে। তথ্য সত্য কি না, যাচাই করতে হবে। জগৎটা এখন অনেক বেশি তথ্যের।’

তথ্যের সত্যতা যাচাই, ছবি যাচাই এবং অনলাইন আর্কাইভিং বিষয়ে আলোচনা করেন ডিসমিসল্যাবের গবেষণা কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম। কীভাবে মুহূর্তেই নির্দিষ্ট বিষয়ের তথ্য, ছবি, ভিডিও, তথ্য প্রকাশের তারিখ ও ডকুমেন্ট ফাইল খুঁজে বের করতে হবে; মোবাইলে রিভার্স ইমেজ সার্চ, ছবির মেটা ডেটা যাচাই কীভাবে করা যাবে এবং এ–সংক্রান্ত বিভিন্ন এআই টুলের ব্যবহার বিষয়ে হাতে–কলমে সেশন পরিচালনা করেন তিনি।

আর এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি ছবি ও ভিডিও কীভাবে যাচাই করা যাবে; কোনটা এআই ভিডিও, কোনটা বাস্তব—কীভাবে শনাক্ত করা যাবে এবং এআই চিহিৃতকরণ কয়েকটি টুলের ব্যবহার দেখান ডিসমিসল্যাবের আরেকজন গবেষণা কর্মকর্তা আহমেদ ইয়াসীর আবরার।

অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের উপদেষ্টা উত্তম রায় বলেন, ‘অনলাইনে কোনো কিছু দেখলে সঙ্গে সঙ্গেই রিঅ্যাক্ট করা যাবে না। যাচাই করতে হবে, সময় নিয়ে চিন্তা করতে হবে।’

ডিসমিসল্যাব ও দেশি-ফুডসকে ধন্যবাদ জানিয়ে জাতীয় পর্ষদের সভাপতি জাফর সাদিক বলেন, ‘আমাদের একটি বড় সমস্যা হলো জেনে না জেনে অপতথ্যের প্রচার করা। অনেকের মধ্যেই ডিজিটাল শিক্ষা খুবই কম। এর কারণ হলো প্রযুক্তি অনেক বেশি এগিয়ে গেছে। কোনটা এআই, কোনটা সত্য—তা যাচাই করা অনেক সময় কঠিন হয়ে যায়। তাই অনলাইনে যা কিছুই দেখবেন, সবার আগে নিজেকে প্রশ্ন করবেন।’

দেশি-ফুডসের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহফুজের রহমান ও প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট কর্মকর্তা রুপা খাতুন। বন্ধুসভার সঙ্গে থাকতে পেরে প্রথম আলো ও বন্ধুসভাকে ধন্যবাদ জানান মাহফুজের রহমান। অংশগ্রহণকারীদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন তিনি।

দেশি-ফুডসের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘পারসোনাল ব্র্যান্ডিং’, ‘আইইএলটিএস ও বিদেশে উচ্চশিক্ষা’, ‘গ্রাফিক ডিজাইন’সহ এ নিয়ে চারটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হলো। পুরো আয়োজনের সমন্বয় করেছেন বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের প্রশিক্ষণ সম্পাদক সামছুদ্দোহা সাফায়েত। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের সনদ দেওয়া হয়।

সম্পর্কিত নিবন্ধ