গুগল ম্যাপসে ব্যবহার করুন জেমিনি এআই
Published: 8th, November 2025 GMT
নানা কাজে অনেকে গুগল ম্যাপস ব্যবহার করেন। এবার গুগল ম্যাপসে যুক্ত হয়েছে গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবট জেমিনি। এখন গুগল ম্যাপস ব্যবহারকারীরা রাস্তার পরিকল্পনা ও চলার পথ খুঁজতে নতুন অভিজ্ঞতা পাবেন। নতুন এই সুবিধার মাধ্যমে ম্যাপস থেকে জেমিনি এআই সময়মতো প্রয়োজনীয় বা নতুন তথ্য দেবে।
এক বছরের বেশি সময় আগে গুগলের প্রায় সব পণ্যে এআই যুক্ত হয়। ম্যাপসের এআই–সুবিধার মাধ্যমে গত বছর থেকেই ইমারসিভ ভিউ ব্যবহারের সুযোগ আছে। এই সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা আশপাশের দোকান, রেস্তোরাঁ বা বিনোদনের জায়গা সম্পর্কে জানার সুযোগ পান। এবার গুগল সেই ফিচার ম্যাপসে যুক্ত করছে। গুগল ম্যাপসের প্রোডাক্ট ডিরেক্টর অ্যামান্ডা মুর বলেন, ‘আমরা ম্যাপসকে এক সহকারী হিসেবে কল্পনা করেছি। সে জানে আপনার প্রয়োজন কী, কখন কী জানাতে হবে ও কীভাবে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পৌঁছানোর সময়ের চাপ কমানো যায়।’
এখন থেকে ব্যবহারকারীরা গাড়ি চালানোর সময় বা হাঁটার পথে সরাসরি ম্যাপসের মধ্যেই জেমিনিকে প্রশ্ন করতে পারবেন। জেমিনি ম্যাপসের ভৌগোলিক তথ্যের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা ও সামাজিক বিভিন্ন তথ্য মিলিয়ে উত্তর দেবে। কেউ রাস্তায় চলার সময় সামনের পথে ভালো কোনো রেস্তোরাঁ আছে কি না প্রশ্ন করলে জেমিনি কাছাকাছি থাকা রেস্তোরাঁর পরামর্শ দেবে। ব্যবহারকারী চাইলে রুট পরিবর্তন করে নতুন দিকনির্দেশনাও দেখাবে। ব্যবহারকারীদের জেমিনি সড়কে দুর্ঘটনা বা ঝুঁকির খবর জানাবে। যাত্রাপথের সাম্প্রতিক খবর, ই–মেইল বা নির্ধারিত ইভেন্টের সারাংশও জেমিনি জানাতে পারবে।
স্মার্টফোনে হেই গুগল বলে বা স্ক্রিনের ওপরের ডান পাশে থাকা জেমিনি আইকনে চাপ দিয়ে ফিচারটি চালু করতে পারবেন। গুগল ম্যাপসের গ্রুপ প্রোডাক্ট ম্যানেজার বিশাল দত্ত বলেন, ওয়েবের তথ্য, ম্যাপস কমিউনিটি রিভিউ ও ভূস্থানকেন্দ্রিক ডেটা সব একসঙ্গে ব্যবহার করতে পারে জেমিনি। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যেন মনে হবে গাড়ির পাশের সিটে বসা কোনো এলাকার পরিচিত আপনাকে পরামর্শ দিচ্ছে।
নতুন এই সুবিধা জেমিনির শক্তিশালী ডেটা বিশ্লেষণ ক্ষমতাকে কাজে লাগাচ্ছে। কোটি কোটি স্ট্রিট ভিউ ছবি প্রক্রিয়া করে গুগল ম্যাপসে সংরক্ষিত ২৫ কোটি স্থানের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে কাজ করছে জেমিনি। গুগল আরও জানিয়েছে, নতুন ফিচার সাইন ইন করা সব ব্যবহারকারীর জন্য বিনা খরচে উন্মুক্ত থাকবে। ধীরে ধীরে সব অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস সংস্করণে চালু হবে। পরবর্তী সময় গুগল ইনবিল্ট থাকা যানবাহনে এসব সুবিধা পাওয়া যাবে।
সূত্র: দ্য ভার্জ
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: ব যবহ র
এছাড়াও পড়ুন:
অনলাইনের যেকোনো তথ্য যাচাই করতে হবে
ভুয়া বা ভুল তথ্য এবং অপতথ্যের এই সময়ে সবচেয়ে জরুরি হলো—প্রশ্ন করার অভ্যাস ও তথ্য যাচাইয়ের দক্ষতা। পাশাপাশি অনলাইনে পাওয়া যেকোনো কনটেন্ট (আধেয়) শুরুতেই সন্দেহের চোখে দেখতে হবে; প্রথম দেখাতেই পুরোপুরি বিশ্বাস করা যাবে না।
অনলাইনে দ্রুত তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের কৌশল শেখাতে প্রথম আলো বন্ধুসভার বিশেষ কর্মশালায় এ কথা বলেন বক্তারা। আজ শুক্রবার ‘কোয়েশ্চেন এভরিথিং ইউ সি অনলাইন: ট্রেইনিং অন কুইক ফ্যাক্ট-চেকিং অ্যান্ড ভেরিফিকেশন (অনলাইনে যা দেখবেন, প্রশ্ন করবেন: তথ্য যাচাই পদ্ধতিবিষয়ক প্রশিক্ষণ)’ শিরোনামে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। দেশি-ফুডসের পৃষ্ঠপোষকতায় ও ডিসমিসল্যাবের সহযোগিতায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হয়ে কর্মশালা চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন মল্লিকের সঞ্চালনায় প্রথম সেশনে ‘ক্রিটিক্যাল থিংকিং’ বিষয়ে আলোচনা করেন ডিজিটালি রাইটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘কোনো ভুল তথ্যকে যদি সঙ্গে সঙ্গে সঠিক না করেন তাহলে এই তথ্যকে একসময় মানুষ সত্যি মনে করবে। এখন সেই ব্যবসা তত বড়, যে ব্যবসায় তথ্য বেশি। যাদের কাছে তথ্য বেশি তারা এগিয়ে যায়। যাচাই করার সক্ষমতা বর্তমানে অনেক বেশি জরুরি হয়ে গেছে। যেকোনো তথ্যে দেখবেন সূত্র উল্লেখ আছে কি না। সূত্র না থাকলে তথ্য সঠিক মনে করা যাবে না।’
স্বাগত বক্তব্যে প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘প্রশ্ন করতে হবে। তথ্য সত্য কি না, যাচাই করতে হবে। জগৎটা এখন অনেক বেশি তথ্যের।’
তথ্যের সত্যতা যাচাই, ছবি যাচাই এবং অনলাইন আর্কাইভিং বিষয়ে আলোচনা করেন ডিসমিসল্যাবের গবেষণা কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম। কীভাবে মুহূর্তেই নির্দিষ্ট বিষয়ের তথ্য, ছবি, ভিডিও, তথ্য প্রকাশের তারিখ ও ডকুমেন্ট ফাইল খুঁজে বের করতে হবে; মোবাইলে রিভার্স ইমেজ সার্চ, ছবির মেটা ডেটা যাচাই কীভাবে করা যাবে এবং এ–সংক্রান্ত বিভিন্ন এআই টুলের ব্যবহার বিষয়ে হাতে–কলমে সেশন পরিচালনা করেন তিনি।
আর এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি ছবি ও ভিডিও কীভাবে যাচাই করা যাবে; কোনটা এআই ভিডিও, কোনটা বাস্তব—কীভাবে শনাক্ত করা যাবে এবং এআই চিহিৃতকরণ কয়েকটি টুলের ব্যবহার দেখান ডিসমিসল্যাবের আরেকজন গবেষণা কর্মকর্তা আহমেদ ইয়াসীর আবরার।
অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের উপদেষ্টা উত্তম রায় বলেন, ‘অনলাইনে কোনো কিছু দেখলে সঙ্গে সঙ্গেই রিঅ্যাক্ট করা যাবে না। যাচাই করতে হবে, সময় নিয়ে চিন্তা করতে হবে।’
ডিসমিসল্যাব ও দেশি-ফুডসকে ধন্যবাদ জানিয়ে জাতীয় পর্ষদের সভাপতি জাফর সাদিক বলেন, ‘আমাদের একটি বড় সমস্যা হলো জেনে না জেনে অপতথ্যের প্রচার করা। অনেকের মধ্যেই ডিজিটাল শিক্ষা খুবই কম। এর কারণ হলো প্রযুক্তি অনেক বেশি এগিয়ে গেছে। কোনটা এআই, কোনটা সত্য—তা যাচাই করা অনেক সময় কঠিন হয়ে যায়। তাই অনলাইনে যা কিছুই দেখবেন, সবার আগে নিজেকে প্রশ্ন করবেন।’
দেশি-ফুডসের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহফুজের রহমান ও প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট কর্মকর্তা রুপা খাতুন। বন্ধুসভার সঙ্গে থাকতে পেরে প্রথম আলো ও বন্ধুসভাকে ধন্যবাদ জানান মাহফুজের রহমান। অংশগ্রহণকারীদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন তিনি।
দেশি-ফুডসের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘পারসোনাল ব্র্যান্ডিং’, ‘আইইএলটিএস ও বিদেশে উচ্চশিক্ষা’, ‘গ্রাফিক ডিজাইন’সহ এ নিয়ে চারটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হলো। পুরো আয়োজনের সমন্বয় করেছেন বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের প্রশিক্ষণ সম্পাদক সামছুদ্দোহা সাফায়েত। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের সনদ দেওয়া হয়।