ভারত থেকে বাংলাদেশে জাল নোটের প্রবেশ ঠেকাতে দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি)। সীমান্তে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে বাড়তি টহল দেওয়া হচ্ছে। গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে বিজিবির পক্ষ থেকে। পাসপোর্টধারী যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাশি জোরদার করছে হিলি কাস্টমস।

শনিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে এসব তথ্য জানিয়েছেন জয়পুরহাট ২০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ লতিফুল বারী।

তিনি বলেছেন, সীমান্ত দিয়ে জাল নোট বাংলাদেশে প্রবেশ-সংক্রান্ত একটি বিষয় আমাদের নজরে এসেছে। এর পর থেকেই আমরা বিষয়টি নিয়ে সতর্ক আছি। এটি প্রতিরোধে যে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা, সেটি আমাদের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা সতর্ক থাকব। আমাদের পোস্ট বা অন্য কোনো জায়গা দিয়ে যদি জাল টাকা আসা-যাওয়া করে বা কেউ যদি যাত্রী হিসেবে জাল নোট নেওয়ার চেষ্টা করেন, তা আমরা প্রতিরোধ করব। এ বিষয়ে আমাদের পোস্টগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। আমরা সতর্ক আছি এবং থাকব, যাতে কোনোভাবেই দেশে জাল টাকা প্রবেশ করতে না পারে।

হিলি কাস্টমসের ব্যাগেজ শাখার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা কবির হোসেন বলেছেন, হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দুই দেশের পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক আছে। আমরা জানতে পেরেছি, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত দিয়ে জাল নোট দেশে প্রবেশ করছে। সেহেতু আমরা আইন অনুযায়ী যাত্রীদের ব্যাগেজ তল্লাশি করছি। এ পর্যন্ত আমাদের এখানে জাল নোট ধরা পড়েনি।

তিনি বলেন, জাল নোট চেনার মেশিন এই চেকপোস্টে বসানো দরকার। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাব। 

ঢাকা/মোসলেম/রফিক

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর প রব শ আম দ র সতর ক

এছাড়াও পড়ুন:

অনলাইনের যেকোনো তথ্য যাচাই করতে হবে

ভুয়া বা ভুল তথ্য এবং অপতথ্যের এই সময়ে সবচেয়ে জরুরি হলো—প্রশ্ন করার অভ্যাস ও তথ্য যাচাইয়ের দক্ষতা। পাশাপাশি অনলাইনে পাওয়া যেকোনো কনটেন্ট (আধেয়) শুরুতেই সন্দেহের চোখে দেখতে হবে; প্রথম দেখাতেই পুরোপুরি বিশ্বাস করা যাবে না।

অনলাইনে দ্রুত তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের কৌশল শেখাতে প্রথম আলো বন্ধুসভার বিশেষ কর্মশালায় এ কথা বলেন বক্তারা। আজ শুক্রবার ‘কোয়েশ্চেন এভরিথিং ইউ সি অনলাইন: ট্রেইনিং অন কুইক ফ্যাক্ট-চেকিং অ্যান্ড ভেরিফিকেশন (অনলাইনে যা দেখবেন, প্রশ্ন করবেন: তথ্য যাচাই পদ্ধতিবিষয়ক প্রশিক্ষণ)’ শিরোনামে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। দেশি-ফুডসের পৃষ্ঠপোষকতায় ও ডিসমিসল্যাবের সহযোগিতায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হয়ে কর্মশালা চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন মল্লিকের সঞ্চালনায় প্রথম সেশনে ‘ক্রিটিক্যাল থিংকিং’ বিষয়ে আলোচনা করেন ডিজিটালি রাইটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘কোনো ভুল তথ্যকে যদি সঙ্গে সঙ্গে সঠিক না করেন তাহলে এই তথ্যকে একসময় মানুষ সত্যি মনে করবে। এখন সেই ব্যবসা তত বড়, যে ব্যবসায় তথ্য বেশি। যাদের কাছে তথ্য বেশি তারা এগিয়ে যায়। যাচাই করার সক্ষমতা বর্তমানে অনেক বেশি জরুরি হয়ে গেছে। যেকোনো তথ্যে দেখবেন সূত্র উল্লেখ আছে কি না। সূত্র না থাকলে তথ্য সঠিক মনে করা যাবে না।’

স্বাগত বক্তব্যে প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘প্রশ্ন করতে হবে। তথ্য সত্য কি না, যাচাই করতে হবে। জগৎটা এখন অনেক বেশি তথ্যের।’

তথ্যের সত্যতা যাচাই, ছবি যাচাই এবং অনলাইন আর্কাইভিং বিষয়ে আলোচনা করেন ডিসমিসল্যাবের গবেষণা কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম। কীভাবে মুহূর্তেই নির্দিষ্ট বিষয়ের তথ্য, ছবি, ভিডিও, তথ্য প্রকাশের তারিখ ও ডকুমেন্ট ফাইল খুঁজে বের করতে হবে; মোবাইলে রিভার্স ইমেজ সার্চ, ছবির মেটা ডেটা যাচাই কীভাবে করা যাবে এবং এ–সংক্রান্ত বিভিন্ন এআই টুলের ব্যবহার বিষয়ে হাতে–কলমে সেশন পরিচালনা করেন তিনি।

আর এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি ছবি ও ভিডিও কীভাবে যাচাই করা যাবে; কোনটা এআই ভিডিও, কোনটা বাস্তব—কীভাবে শনাক্ত করা যাবে এবং এআই চিহিৃতকরণ কয়েকটি টুলের ব্যবহার দেখান ডিসমিসল্যাবের আরেকজন গবেষণা কর্মকর্তা আহমেদ ইয়াসীর আবরার।

অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের উপদেষ্টা উত্তম রায় বলেন, ‘অনলাইনে কোনো কিছু দেখলে সঙ্গে সঙ্গেই রিঅ্যাক্ট করা যাবে না। যাচাই করতে হবে, সময় নিয়ে চিন্তা করতে হবে।’

ডিসমিসল্যাব ও দেশি-ফুডসকে ধন্যবাদ জানিয়ে জাতীয় পর্ষদের সভাপতি জাফর সাদিক বলেন, ‘আমাদের একটি বড় সমস্যা হলো জেনে না জেনে অপতথ্যের প্রচার করা। অনেকের মধ্যেই ডিজিটাল শিক্ষা খুবই কম। এর কারণ হলো প্রযুক্তি অনেক বেশি এগিয়ে গেছে। কোনটা এআই, কোনটা সত্য—তা যাচাই করা অনেক সময় কঠিন হয়ে যায়। তাই অনলাইনে যা কিছুই দেখবেন, সবার আগে নিজেকে প্রশ্ন করবেন।’

দেশি-ফুডসের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহফুজের রহমান ও প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট কর্মকর্তা রুপা খাতুন। বন্ধুসভার সঙ্গে থাকতে পেরে প্রথম আলো ও বন্ধুসভাকে ধন্যবাদ জানান মাহফুজের রহমান। অংশগ্রহণকারীদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন তিনি।

দেশি-ফুডসের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘পারসোনাল ব্র্যান্ডিং’, ‘আইইএলটিএস ও বিদেশে উচ্চশিক্ষা’, ‘গ্রাফিক ডিজাইন’সহ এ নিয়ে চারটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হলো। পুরো আয়োজনের সমন্বয় করেছেন বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের প্রশিক্ষণ সম্পাদক সামছুদ্দোহা সাফায়েত। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের সনদ দেওয়া হয়।

সম্পর্কিত নিবন্ধ