বিচারক সভ্যতার শিকড় না বুঝে আইনের যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে পারেন না: প্রধান বিচারপতি
Published: 8th, November 2025 GMT
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, ইতিহাসের গভীর বোধ ছাড়া কোনো সংস্কারক প্রজ্ঞাবান হতে পারেন না, আর কোনো বিচারক তাঁর সভ্যতার শিকড় না বুঝে আইনের যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে পারেন না।
প্রধান বিচারপতি বলেন, আইন হলো কোনো জাতির নৈতিক ইতিহাস, যা ন্যায়ের ভাষায় লেখা হয়; আর ইতিহাস হলো কেন সমাজকে আরও ভালো হতে হবে, তার অনুসন্ধান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ৭৫ বছর পূর্তি ও পুনর্মিলনী উপলক্ষে আজ শনিবার সকালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি এ কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রধান বিচারপতি বলেন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ৭৫ বছরের যাত্রা কেবল একাডেমিক সাফল্যের ইতিহাস নয়, এটি জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক জীবনেরই এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়।
নিজের প্রয়াত মা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও দেশের প্রথম নারী জাতীয় অধ্যাপক (ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী এবং পরে ওই বিভাগের শিক্ষিকা ছিলেন) অধ্যাপক সুফিয়া আহমেদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, তিনি ছিলেন সেই বিরল প্রজন্মের একজন, যাদের বুদ্ধিবৃত্তিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নৈতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিল। তাঁর জীবন ছিল নারীর একাডেমিক ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার নৈতিক শুদ্ধতার প্রতীক যা এখনো তাঁকে প্রভাবিত করে।
বিচার বিভাগকে সময়ের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক হতে হয়বিচার বিভাগীয় সংস্কার প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, বিচার বিভাগ কেবল ঐতিহ্যের স্বস্তিতে টিকে থাকতে পারে না। এটিকে সময়ের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক হতে হয়; এ জন্য তার সংস্কার করতে হয়।
গত পনেরো মাসে বিচারব্যবস্থার স্বায়ত্তশাসন, দক্ষতা বৃদ্ধি ও জনগণের বিচারপ্রাপ্তির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং তা এখনো চলমান আছে বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, সংস্কারের মূল লক্ষ্য প্রশাসনিক নয়, বরং নৈতিক—যাতে প্রতিষ্ঠান ক্ষমতাকে নয়, মানুষকে সেবা দেয়; কর্তৃত্ব বৈধতার সঙ্গে যুক্ত হয়; এবং বিচার বিভাগ জনগণের আস্থার নৈতিক অভিভাবকে পরিণত হয়।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিচারব্যবস্থার সঙ্গে অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে, যার মধ্যে ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ফিলিস্তিন ও থাইল্যান্ড আছে বলে উল্লেখ করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, এই সংযোগের উদ্দেশ্য হলো আইনের পাশাপাশি ইতিহাস ও দর্শনের আন্তবিষয়ক জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে বিশ্বজনীন মূল্যবোধকে প্রতিষ্ঠা করা।
সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো.
উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
যমুনার কোটিপতি সিবিএ নেতা এয়াকুব কারাগারে
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় হওয়া মামলায় যমুনা অয়েল কোম্পানির লেবার ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ এয়াকুবকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ রোববার ভোরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির। তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরে হওয়া জুলাই আন্দোলনের একটি মামলায় এয়াকুবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠান।
সরকারি তেল কোম্পানি যমুনা অয়েলের আলোচিত কর্মচারী মুহাম্মদ এয়াকুব। জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে যমুনা অয়েল কোম্পানিতে টাইপিস্ট হিসেবে চাকরি পান মোহাম্মদ এয়াকুব। তাঁর বাবা মো. আবুল কাশেম ছিলেন কোম্পানির অফিস সহায়ক। বাবার মৃত্যুর পর এ কোম্পানিতে চাকরি পান তিনি। এরপর ২০০৯ সালে কোম্পানির লেবার ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ পান। এক বছর পর হন সাধারণ সম্পাদক। সেই থেকে তিনি এই পদে রয়েছেন। গত দেড় দশক এটি ছিল শ্রমিক লীগের সংগঠন। গত বছর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি এটিকে শ্রমিক দলের সংগঠন বানিয়েছেন।
যমুনার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, তিন বছর চুক্তিতে কাজ করার পর ১৯৯৭ সালে চাকরি স্থায়ী হওয়ার সময় এয়াকুবের মূল বেতন ছিল ৯৩৫ টাকা। এখন এটি বেড়ে হয়েছে ৩৭ হাজার ৫০৩ টাকা। সব মিলিয়ে বেতন এখন ৮৫ হাজার ১০০ টাকা। তবে এয়াকুব চট্টগ্রামের অভিজাত এলাকা খুলশীতে চার হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাটে থাকেন। নামে-বেনামে তাঁর বিনিয়োগ আছে বিভিন্ন ব্যবসায়। চড়েন নিজের মাইক্রোবাসে।
আরও পড়ুন‘তেল চুরি’, ব্রাজিল বাড়ি ও তাঁদের আয়েশি জীবন১৮ অক্টোবর ২০২৫যমুনা অয়েল সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ২১ লাখ টাকায় ৬ শতাংশ জমি কিনেছেন এয়াকুব। ডবলমুরিং থানার আগ্রাবাদ এলাকায় নুরুন নাহার বেগমের সঙ্গে যৌথভাবে ৫০ লাখ টাকায় ৪ শতাংশ জমি কেনেন তাঁর স্ত্রী মরিয়ম বেগম।
দুদক সূত্র বলছে, এয়াকুবের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তে বেশ কিছু সম্পদের তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে সংস্থাটি। বোয়ালখালী উপজেলায় ১৪ শতাংশ, সাড়ে ১১ শতাংশ ও ১২ শতাংশের তিনটি জমি পাওয়া গেছে। আরও কিছু জমি আছে যৌথভাবে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের অভিজাত এলাকায় খুলশীর দামপাড়ায় ৪ হাজার ২০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট আছে তাঁর। দলিলে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা দাম পাওয়া গেছে ফ্ল্যাটের।