মার্কস অলরাউন্ডার: বরিশাল ও পটুয়াখালীসহ ৫ অঞ্চলে কবে কোথায় প্রতিযোগিতা
Published: 8th, November 2025 GMT
দেশের নানা প্রান্তে চলছে প্রতিভার উৎসব—মার্কস অলরাউন্ডার। ‘দেখাও যত প্রতিভা তোমার’ স্লোগানকে সঙ্গে নিয়ে দেশের অন্যতম বড় এই প্ল্যাটফর্ম শিশু–কিশোরদের জন্য হয়ে উঠেছে নিজেদের প্রতিভা ও সম্ভাবনা প্রকাশের এক অনন্য মঞ্চ। বরাবরের মতো এবারও আয়োজনে অংশ নিচ্ছে অসংখ্য প্রতিযোগী।
আঞ্চলিক, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে চলবে এ প্রতিযোগিতা। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে আঞ্চলিক পর্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে উঠে এসেছে অসংখ্য নতুন মুখ ও নতুন গল্প।
শুক্রবার ও শনিবার (১৪ ও ১৫ নভেম্বর) বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা ও পটুয়াখালী অঞ্চলের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। নিম্নলিখিত প্রতিটি ভেন্যুতে সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে প্রতিযোগিতা।
তারিখ: ১৪ নভেম্বর, শুক্রবার
ভেন্যু: ব্রজমোহন বিদ্যালয় (বিএম স্কুল), কালীবাড়ি রোড, বরিশাল।
যে এলাকার শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে: বরিশালের কোতোয়ালি থানার একাংশ (কাশীপুর, রহমতপুর, নতুন বাজার, বিএম কলেজ, নবগ্রাম, কড়াপুর ও রায়পাশা এলাকা)।
ভেন্যু: কাউনিয়া সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কাউনিয়া হাউজিং রোড, বরিশাল।
যে এলাকার শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে: বরিশালের কাউনিয়া, বন্দর, বিমানবন্দর, আগৈলঝাড়া, গৌরনদী, বাবুগঞ্জ, উজিরপুর ও মুলাদী থানা।
তারিখ: ১৫ নভেম্বর, শনিবার
ভেন্যু: আছমত আলী খান (এ কে) ইনস্টিটিউশন, গির্জা মহল্লা, বরিশাল সদর।
যে এলাকার শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে: বরিশালের কোতোয়ালি থানার একাংশ (রূপাতলী, কালিজিরা, ধপধপিয়া, কোয়েরচর, ব্যান্ড রোড, জাগুয়া এরিয়া), কাজীরহাট, মেহেন্দীগঞ্জ, হিজলা, বাকেরগঞ্জ থানা এবং ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলা।
ভেন্যু: লতিফ মিউনিসিপ্যাল সেমিনারী, লতিফ স্কুল রোড, পটুয়াখালী।
যে এলাকার শিক্ষার্থীরা অংশ নেবে: পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলা।
প্রতিযোগিতার গ্রুপ ও বিষয়—
প্লে থেকে ৪র্থ শ্রেণি—জুনিয়র স্কুল (গান, নাচ, অভিনয়, চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি, গল্প বলা) ; ৫ম থেকে ৮ম শ্রেণি—মিডল স্কুল (গান, নাচ, অভিনয়, চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি, উপস্থিত বক্তৃতা) এবং ৯ম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি—হাইস্কুল ও কলেজ (গান, নাচ, অভিনয়, চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি, উপস্থিত বক্তৃতা।)
পর্যায়ক্রমে দেশের ১০০টি স্থানে আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের সব স্কুল-কলেজ (প্লে গ্রুপ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি) এবং সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে। ইতিমধ্যে ৪২টি জেলায় প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়েছে।
পুরস্কার
মার্কস অলরাউন্ডারে তিনটি গ্রুপ থেকে সেরা তিন অলরাউন্ডারের প্রত্যেকে পাবে ১৫ লাখ টাকার শিক্ষাবৃত্তি। আর বিভিন্ন পর্যায়ের বিজয়ীরা পাবে মোট ১ কোটি টাকার বেশি উপহার ও শিক্ষাবৃত্তি।
গ্র্যান্ড ফিনালেতে তিনটি গ্রুপের ফার্স্ট রানার্সআপ এবং সেকেন্ড রানার্সআপের প্রত্যেকে পাবে ৫ লাখ এবং ৩ লাখ টাকার শিক্ষাবৃত্তি। তিনটি গ্রুপের ছয়টি বিষয়ের প্রতিটিতে সেরা ৩ জন করে মোট ৫৪ জন সেরা পারফর্মারের প্রত্যেকে পাবে যথাক্রমে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জপদক। জাতীয় পর্যায়ে তিনটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়নদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাবে একটি করে কম্পিউটার।
আয়োজকদের মতে, ‘মার্কস অলরাউন্ডার’ কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়। এটি বাংলাদেশের শিশু–কিশোরদের প্রতিভা, মেধা, সংস্কৃতি ও আত্মবিশ্বাস বিকাশের এক বিস্তৃত পরিসর। আঞ্চলিক থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত এই আয়োজন প্রতিটি অংশগ্রহণকারীর জন্য হয়ে উঠেছে শেখার এক চমৎকার অভিজ্ঞতা। পাশাপাশি নিজেকে নতুনভাবে চিনে নেওয়ার সুযোগ এবং ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার এক শক্ত প্রেরণা।
বিস্তারিত জানতে এবং রেজিস্ট্রেশন করতে ভিজিট করতে হবে www.
উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: এল ক র শ ক ষ র থ র য় পর য বর শ ল পর য য়
এছাড়াও পড়ুন:
অনলাইনে টাকা খাটিয়ে বেশি মুনাফার ফাঁদে কোটি টাকা খুইয়েছেন ব্যাংক কর্মকর্তা
টেলিগ্রাম অ্যাপ ব্যবহার করে অনলাইনে ‘বিনিয়োগের’ প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নেওয়া একটি প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম নাদিম (৩২)। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর নিজ বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ শুক্রবার সিআইডির গণমাধ্যম শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতারণার শিকার ব্যক্তি একটি বেসরকারি ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ প্রিন্সিপাল কর্মকর্তা। তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে বার্তা আসে। বার্তা পাঠানো ব্যক্তি নিজেকে ‘নাজনীন’ নামে পরিচয় দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম আপওয়ার্কের প্রতিনিধি বলে দাবি করেন।
বাসায় বসে খণ্ডকালীন কাজের মাধ্যমে আয়ের প্রলোভন দেখানো হলে ওই ব্যাংক কর্মকর্তা সরল বিশ্বাসে রাজি হন। আস্থা অর্জনের জন্য তাঁকে দিয়ে প্রথমে ইউটিউব সাবস্ক্রিপশনসহ কয়েকটি ছোট কাজ করানো হয়। এরপর তাঁর মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে প্রথমে ১৫০ টাকা ও পরে ২ হাজার ১০০ টাকা পাঠানো হয়।
এরপর তাঁকে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত করা হয়। সিআইডি জানায়, ওই গ্রুপে চক্রটির অন্য সদস্যরা আগে থেকেই যুক্ত ছিল। তারা নিয়মিত কাজ করে বড় অঙ্কের অর্থ উপার্জন করছে বলে অভিনয় করত। এতে ভুক্তভোগীর বিশ্বাস আরও গভীর হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরবর্তী ধাপে বড় কাজের কথা বলে প্রতারকেরা ভুক্তভোগীকে একটি ‘ক্রিপ্টো অ্যাকাউন্ট’ খুলতে এবং দুই হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে বলে। এরপর জানানো হয়, আরও তিন হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে তাঁর ব্যালেন্স সাত হাজার টাকা হবে এবং তিনি সেই টাকা তুলতে পারবেন। ভুক্তভোগী ওই টাকা পাঠানোর পর তাঁকে ‘ভিআইপি টাস্ক’ নামে নতুন একটি গ্রুপে যুক্ত করা হয়।
ওই গ্রুপে দেখানো হয়, সবার ক্রিপ্টো অ্যাকাউন্টে সাত হাজার টাকা করে জমা হয়েছে। কিন্তু ভুক্তভোগী টাকা তুলতে চাইলে তাঁকে জানানো হয়, ক্যাশ আউটের জন্য আরও ১৫ হাজার ৮০০ টাকা দিতে হবে। তিনি সরল বিশ্বাসে সেই টাকাও পাঠান। কিন্তু এরপরও টাকা তুলতে না পেরে বিষয়টি জানতে চাইলে তাঁর ওপর নতুন টাস্ক ও নতুন শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়।
এভাবে একের পর এক টাস্ক, বড় লাভের লোভ আর ভুয়া হিসাব দেখিয়ে প্রতারক চক্রটি বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোট ১ কোটি ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৩০৫ টাকা হাতিয়ে নেয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গত ২১ মে রাজধানীর লালবাগ থানায় মামলা করেন।
মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর সিআইডির একটি দল নাদিমকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জব্দ করা হয়েছে। নাদিমের বাড়ি কুমিল্লার মেঘনা থানার দক্ষিণকান্দি গ্রামে।
সিআইডির কর্মকর্তারা অনলাইনে সহজে বড় অঙ্কের অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে বিশ্বাস না করার পরামর্শ দিয়েছেন। যেকোনো লেনদেনের আগে উৎস ও পরিচয় যাচাই করার কথাও বলেছেন তাঁরা। এ ধরনের প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে জানাতে বলা হয়েছে। এ জন্য ০১৩২০০১০১৪৬, ০১৩২০০১০১৪৭ এবং ০১৩২০০১০১৪৮ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করেছে সিআইডি।