চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘পদ্মা বাঁচাও’ আন্দোলন শুরু করেছে বিএনপি। দলটি এরইমধ্যে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সমাবেশ করেছে। এরই ধারবাহিকতায় আগামী ১৫ নভেম্বর পদ্মা বাঁচাও অন্দোলনের গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এ দিন নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে সমাবেশের আয়োজন করা হবে। এতে যোগ দেবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সকালে জেলা শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত পদ্মা বাঁচাও সমাবেশের প্রস্তুতি সভায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হারুনুর রশীদ এ তথ্য জানান। 

আরো পড়ুন:

এটাই হয়তো আমার শেষ নির্বাচন: মির্জা ফখরুল

২৩৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা, ৩টি আসনে লড়বেন খালেদা জিয়া

হারুনুর রশীদ বলেন, ‘‘ফারাক্কা ব্যারেজের বিরূপ প্রভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ এই অঞ্চলের নদী তীরবর্তী এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন এবং বন্যা মৌসুমে ফসলহানি এখন নিত্যদিনের ঘটনা। এই পদ্মার ভাঙনরোধে ৩০-৪০ বছরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে কিন্তু স্থায়ী সমাধান মেলেনি। এই পরিস্থিতিতে নদী এবং অঞ্চলকে বাঁচাতে আমরা ‘পদ্মা বাঁচাও কর্মসূচি’ আন্দোলন হাতে নিয়েছি। বর্তমানে এই কর্মসূচির সমর্থনে জনমত তৈরির কাজ করছি এবং আগামীতে গঙ্গা ব্যারেজ বাস্তবায়ন দেখতে চাই।’’  

হারুনুর রশীদ জানান, আগামী ১৫ নভেম্বর গুরুত্বপূর্ণ সমাবেশ রয়েছে। নদী রক্ষার দাবিতে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের সব জায়গায় লংমার্চ করা হবে। 

পদ্মা বাঁচাও গণসমাবেশের প্রস্তুতি সভায় জামায়াত ইসলামীকে উদ্দেশে করে কঠোর মন্তব্য করেন হারুনুর রশীদ। তিনি বলেন, ‘‘যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, তারা এখন ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে।’’  

তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘জামায়াত এখন তাফসির মাহফিলকে রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করছে এবং তাদের ইমাম ও নেতারা জনসম্মুখে বেফাঁস কথাবার্তা বলছেন।’’ তিনি সমাজের মানুষকে এ সব থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক তসিকুল ইসলাম তসি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো.

আতাউল হক কমল, রানীহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রহমত আলী, বিএনপি নেতা আব্দুল বারেক, জাহাঙ্গীর কবির, সাইদুর রহমান, তাসেম আলী প্রমুখ। 

ঢাকা/শিয়াম/বকুল 

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ম র জ ফখর ল ইসল ম আলমগ র পদ ম স ত প ইনব বগঞ জ ব এনপ ইসল ম

এছাড়াও পড়ুন:

বাফেলোতে মসজিদের সামনে দীর্ঘ সময় আইস পুলিশের অবস্থান

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো এলাকায় এক মসজিদের সামনে দুই গাড়ি নিয়ে অভিবাসন পুলিশ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অবস্থান করেছে। পার্ক অ্যাভিনিউর তাকওয়া মসজিদ থেকে জোহর নামাজ শেষে মুসল্লিরা বের হওয়ার পথে সবাইকে ধরে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। এর মধ্যে ষাটোর্ধ্ব গ্রিনকার্ডধারী একজন বাংলাদেশিও ছিলেন।

৭ ডিসেম্বর বাফেলোয় দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই মসজিদের সামনে অবস্থান করে অভিবাসন পুলিশ। অবশ্য তাকওয়া মসজিদের সামনে থেকে কাউকে ধরে নিয়ে যেতে দেখা যায়নি।

ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত কর্নেল ইউনিভার্সিটির ছাত্রী সাদিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের বাসা মসজিদের কাছেই। তুষারপাতে চারপাশ সাদা হয়ে গিয়েছিল। আমি ও আমার কাজিন আদ্রিয়া মাদিনা তুষারপাতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে বের হয়েছিলাম। হঠাৎ দেখি, মসজিদের কাছে এক বৃদ্ধ বাংলাদেশিকে কয়েকজন ঘিরে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। এর মধ্যে একজনের পোশাকে “পুলিশ” লেখা।’

সাদিয়া বলেন, ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই যা আইস নামে পরিচিত) সাধারণত ফোর্ড গাড়ি ব্যবহার করে। আমি ভিডিও করা শুরু করলে ওরা দ্রুত কথা শেষ করে চলে যায়। পরে আমার এক চাচা গাড়ি দুটিকে দূর থেকে ফলো করেন। তিনি দেখেছেন, গাড়ি দুটি ঘুরেফিরে এই অঞ্চলেই অবস্থান করছে।’

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার বাসিন্দা ওই ব্যক্তি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি নামাজে যাওয়ার সময় ওই দুটি গাড়িকে মসজিদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছিলাম। মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসা অন্যান্য দেশের মুসলিমদেরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তারা। আমার গ্রিনকার্ড সঙ্গে থাকায় তারা আর কিছু বলেনি।’

তাকওয়া মসজিদে জোহর ও মাগরিবের নামাজ আদায় করা নিয়মিত মুসল্লি ইউনিভার্সিটি অব বাফেলোর ছাত্র আবিদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সন্ধ্যার সময়ও ওই গাড়ি দুটিকে মসজিদের আশপাশে অবস্থান করতে ও ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। জোহরের নামাজের চেয়ে মাগরিবের নামাজের সময় মসজিদে মুসল্লির সংখ্যা অনেক বেশি থাকে। এ জন্য আইস পুলিশ কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করেনি। সন্ধ্যার পর গাড়ি দুটিকে আর দেখা যায়নি।

সম্পর্কিত নিবন্ধ