বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণের ফলে কৃষি ও কৃষকের যে দুর্দশা তৈরি হয়েছে, সুলতান সেটাকে ভাঙতে চেয়েছেন। ষাটের দশকে সবুজবিপ্লবের নামে কৃষিকে ও কৃষককে বন্দী করে ফেলা হয়েছে। সুলতান তাঁর চিত্রকর্মের মাধ্যমে সে বন্দিত্ব ভেঙে সার্বভৌম কৃষির কথা বলতে চেয়েছেন। শিল্পকলার সঙ্গে কৃষিচিন্তা যুক্ত করা একটি কঠিন কাজ। সুলতান সেটি করতে পেরেছিলেন।

শুক্রবার রাজধানীতে প্রকাশনা সংস্থা দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) কার্যালয়ে চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের চিত্রকর্ম নিয়ে ‘সুলতানের কৃষি জিজ্ঞাসা’ শীর্ষক এক বইয়ের পাণ্ডুলিপি পাঠ পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বক্তারা। ইউপিএল ও দুনিয়াদারি আর্কাইভ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সুলতানের চিত্রকর্মে কৃষির নানা দিক নিয়ে বইটি লিখছেন গবেষক পাভেল পার্থ।

পাঠ পর্যালোচনায় অংশ নিয়ে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ফিরদৌস আজিম বলেন, ‘সুলতানের বোহেমিয়ান জীবনযাপনের সঙ্গে তাঁর চিত্রকলার একটা যোগসূত্র আছে। আজকের এই নিওলিবারাল (নয়া উদারবাদী অর্থনীতির) যুগে আমাদের সমসাময়িক চিত্রশিল্পীদের খুব বেশি বাজার এক্সিবিশন নিয়ে চিন্তা করতে হয়। কিন্তু সুলতানের ওসব চিন্তাধারা ছিলই না।’

সে জন্যই সুলতানের পক্ষে এমন চিত্রকর্ম সৃজন করা সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে ফিরদৌস আজিম বলেন, শিল্পকর্মের সঙ্গে কৃষিচিন্তার মেলবন্ধন ঘটানো কঠিন কাজ। সুলতান সেটি পেরেছিলেন। তাঁর বোহেমিয়ান জীবনযাপন ছিল তাঁর সৃষ্টিশীলতার উৎস। কৃষিকে সব সময় সুলতান উর্বর জায়গা থেকে দেখতে চেয়েছেন। সেটাই তাঁর তুলি ও ক্যানভাসে তুলে ধরেছেন।

লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ বলেন, ‘সুলতানের যে কৃষিভাষ্য তৈরি হচ্ছে, সেটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আমাদের এই অঞ্চলের কৃষি বর্তমানে একটি বন্দী কৃষি। এখানে কৃষকদের বন্দী করে ফেলা হয়েছে ষাটের দশকে সবুজবিপ্লবের নামে। আমরা দেখতে পাই, কৃষকেরা আসলে কখনো স্বাধীন ছিলেন না। সুলতান বন্দী কৃষি নয়, সার্বভৌম কৃষির কথা বলতে চেয়েছেন তাঁর চিত্রকর্মে।’

১৮২২ সালের সমাচার চন্দ্রিকা পত্রিকায় এ অঞ্চলের কৃষকের দুর্দশার কথা তুলে ধরা হয়েছিল জানিয়ে পাভেল পার্থ বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে ভাসানী বা মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা বা এস এম সুলতান ঠিক একই কথা বলছেন, কৃষকদের আসলে শোষণ করা হয়েছে বা কৃষকেরা আসলে একটি প্রান্তিক অবস্থায় আছেন। সুলতানের ছবিতে সে বিষয়গুলো বোঝার চেষ্টা করেছি। সুলতান একধরনের কৃষিনির্ভর শিল্পচেতনা তৈরি করেছেন।’

এস এম সুলতানের ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৪ সাল—এই ২০ বছরের কৃষি চিত্রকর্ম বিশ্লেষণ করে ‘সুলতানের কৃষি জিজ্ঞাসা’ শীর্ষক বইয়ের পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করেছেন পাভেল পার্থ। বইটি বাজারে আনছে ইউপিএল।

শিল্পী ও শিল্প সমালোচক মোস্তফা জামান বলেন, ‘পাণ্ডুলিপিতে সুলতানের কৃষকেরা কী ধানের ভাত খায়, এটি আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও আলোচনা মনে হয়েছে। তাঁর চিত্রে কৃষিজমিতে কোনো আইল (সীমারেখা) নেই, তা বিশেষ চিন্তাভাবনা থেকে ফুটে উঠেছে। তাঁর শিল্পকর্মে নারীদের মাথায় ঘোমটা নেই। কারণ, কর্মী নারীদের চিত্রে আঁকতে গেলে তাঁর মাথায় ঘোমটা থাকা বাস্তবসম্মত নয়। এভাবে সুলতানের শিল্প দেখার দৃষ্টিভঙ্গি জরুরি।’

সুলতানের চিত্রে পেশির চিত্রায়ণ নিয়ে আলাপ করা হয়। এগুলো বৃহৎ পরিমণ্ডল থেকে দেখা দরকার জানিয়ে মোস্তফা জামান বলেন, সুলতানের কৃষকের পেশি পেশিশক্তির দৃষ্টিতে নয়, বরং সমগ্রতার জায়গায় দেখিয়েছেন। সুলতানের কাজে কোনো দ্ব্যর্থকতা ছিল না। সুলতান যে জীবনটি দেখেছেন, তা–ই তিনি এঁকেছেন, তা–ই মাস্টারপিস। সুলতানের কাজে চিত্রটি নয়, মানুষ-প্রকৃতি হলো আদি–অন্ত।

সুলতানের চিত্রকর্মে কৃষিজিজ্ঞাসাকে তাঁর চিত্রকর্মের আরেকটি দিক উল্লেখ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের শিক্ষক সৈয়দ নিজার বলেন, সুলতানকে বাংলাদেশের অন্যতম সৌভাগ্যবান শিল্পী বলতে হয়। কারণ, তাঁর চিত্রকর্মের নানা ডাইমেনশন নিয়ে কাজ হচ্ছে।

পাণ্ডুলিপি নিয়ে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে সৈয়দ নিজার বলেন, ‘পাণ্ডুলিপির একটা জায়গায় আছে যে সুলতানের রাতের ছবি নেই। আমার একটা জিজ্ঞাসা, কেন নেই। এটার একটা কারণ হতে পারে, রাতে গ্রামীণ জীবনে কর্মময়তা কম।’

শিল্পী ও শিক্ষক ঢালী আল মামুন বলেন, ‘সুলতান যখন তাঁর শিল্পের বিষয় নির্বাচন করেছেন, তা ছিল তাঁর ভেতরকার একটি বয়ান। তিনি কৃষিজীবী মানুষকে উপজীব্য করেছেন তাঁর শিল্পের বিষয় হিসেবে। তা দিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তাকাঠামো বোঝা যায়। একই সঙ্গে এই বইয়ে যেসব বিষয় বলা হয়েছে, সেগুলো বর্তমানের নয়া উদারবাদী অর্থনীতির বাস্তবতায় কেবল আমাদের কৃষিব্যবস্থা নয়, গোটা পৃথিবীর একটি বাস্তবতা।’

পরিবেশ আন্দোলন সংগঠক আমিরুল রাজিবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইউপিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন।

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: র চ ত রকর ম কর ছ ন র একট

এছাড়াও পড়ুন:

ব্রিটেনের বুকে বড় হচ্ছে ড্রাগনের ছায়া

২০১৮ সালে চীন সরকার লন্ডনে একটা দালানসহ পনেরো বিঘা (দুই হেক্টর) জমি কিনেছে। জায়গাটার দাম পড়েছিল চার হাজার কোটি টাকার মতো (২৫০ মিলিয়ন পাউন্ড)। লন্ডন শহরের প্রাণকেন্দ্র রয়্যাল মিন্ট কোর্টে অবস্থিত ওই জায়গায় আগে ছিল সরকারি টাঁকশালের অফিস। ওখান থেকে সরকারি অফিস লন্ডনের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার পর চীন সরকার জায়গা কিনে নেয়।

চীনের পরিকল্পনা, ওখানে একটা মেগা এম্বাসি বা দূতাবাস বানাবে, যেটা হবে ইউরোপের বুকে যেকোনো দেশের সবচেয়ে বড় দূতাবাস। সেখানে ২০০ চীনা কূটনীতিবিদের জন্য থাকবে আবাসিক সুবিধা। তা ছাড়া সবার অফিস ও প্রাসঙ্গিক অবকাঠামো তো থাকবেই।

রয়্যাল মিন্ট কোর্টের অবস্থান কেবল ঐতিহাসিক নয়, ভৌগোলিকভাবেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জায়গাটি টাওয়ার অব লন্ডনের মাত্র ১০০ গজ দূরে। মাত্র কয়েক মাইল দূরে অবস্থিত ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের আরও কিছু প্রতীকী স্থাপনা। পশ্চিমে রয়েছে ওয়েস্টমিনস্টার প্যালেস—ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ঐতিহাসিক ভবন। ওখান থেকে একসময় বিশ্বের এক-চতুর্থাংশ ভূখণ্ড শাসন করা হতো।

কাছেই রয়েছে ট্রাফালগার স্কয়ার, যেখানে অ্যাডমিরাল নেলসনের সুউচ্চ স্তম্ভ স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর সেই গৌরবময় অতীত। এ ছাড়া কাছেই রয়েছে বাকিংহাম প্যালেস—ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু, যেখান থেকে রাজা বা রানি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সাম্রাজ্যের অবশিষ্টাংশ শাসন করেন। এসব জৌলুশের মাঝখানে এখন দাঁড়াবে চীনের মেগা দূতাবাস!

সাম্প্রতিক কালে এই রকম মেগা এম্বাসি সাধারণত বানায় যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের একধরনের যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতি থাকে, তবে সেই দেশের সরকার ও মানুষের ওপর পুরোপুরি আস্থা থাকে না। বাগদাদে এই রকম একটা মার্কিন মেগা এম্বাসি আছে, আর আছে ইসলামাবাদে। যদিও পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মেগা এম্বাসি ছিল আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে, যেটা বানাতে খরচ হয়েছিল প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা (৮০০ মিলিয়ন ডলার)।

লন্ডন শহর একসময় ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের রাজধানী। বলা হতো, ‘যে সাম্রাজ্যে কখনো সূর্য অস্ত যায় না।’ এই লন্ডন থেকেই পরিচালিত হয়েছিল চীনের বিরুদ্ধে দুটি সর্বনাশা যুদ্ধ। ওই যুদ্ধগুলোয় পরাজয়ের পর চীনকে বাধ্য করা হয়েছিল আফিম–বাণিজ্য মেনে নিতে, হংকং ছেড়ে দিতে এবং একের পর এক অসম চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে।

এই চুক্তিগুলোর মাধ্যমে চীনের মাটিতেই তৈরি হয়েছিল বিদেশি ‘কনসেশন’ বা ছাড়প্রাপ্ত এলাকা। সাংহাই, ক্যান্টন, তিয়ানজিনসহ বিভিন্ন বন্দর নগরী, তেমন এলাকা, যেখানে চীনা আইনের বদলে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানির মতো দেশগুলো নিজেদের আইন প্রয়োগ করত। চীনের মাটিতে দাঁড়িয়ে একজন চীনা নাগরিক বিদেশি আইনের অধীন হতে বাধ্য করা হতো—এর চেয়ে বড় জাতীয় অপমান আর কী হতে পারে? চীনের ইতিহাসে ওই সময়কে বলা হয় ‘অপমানের শতাব্দী’। পশ্চিমা শক্তিগুলোর হাতে চীনের সার্বভৌমত্ব পদদলিত করার নেতৃত্বে ছিল ব্রিটেন।

ইতিহাস কখনো স্থির থাকে না। সেসব সময় প্রবহমান, পরিবর্তনশীল। যে জাতি আজ শক্তিশালী, কাল সে দুর্বল হতে পারে; আর যে আজ পদদলিত, কাল সে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। লন্ডনের বুকে চীনের এই মেগা এম্বাসি শুধু একটি স্থাপত্য নয়, এটি বিশ্বরাজনীতির বদলে যাওয়া মানচিত্রের একটি জীবন্ত প্রতীক।

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের করা ক্ষতি দেখতে আমাদের অবশ্য সুদূর চীনে যাওয়ার দরকার নেই। ১৭৫৬ সালে কলকাতায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গকে সম্প্রসারিত ও সুরক্ষিত করতে শুরু করে বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলার অনুমতি ছাড়াই। এই দুর্গ সম্প্রসারণই হয়ে দাঁড়ায় নবাব ও কোম্পানির মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত। ১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে নবাবের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বাংলার ঔপনিবেশিক শাসন, যা ধীরে ধীরে গ্রাস করে নেয় পুরো ভারতীয় উপমহাদেশকে।

তবে ইতিহাস যেন উল্টো দিকে বইছে। যে ব্রিটেন একসময় চীনের দরজায় কামান তাক করে দাঁড়িয়েছিল, তারা এখন লন্ডনের প্রাণকেন্দ্রে বিশাল জমি চীনের হাতে তুলে দিচ্ছে। অবশ্য এই মেগা এম্বাসিবিরোধীতার অভাব নেই। নিরাপত্তাবিশেষজ্ঞরা উদ্বিগ্ন, স্থানীয় বাসিন্দারা আপত্তি জানাচ্ছেন, আর মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রশ্ন তুলছে উইঘুর ও তিব্বতের প্রসঙ্গ টেনে। কিন্তু লেবার হোক বা কনজারভেটিভ, ব্রিটেনের যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের লোভ উপেক্ষা করা কঠিন।

ব্রেক্সিটের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন ব্রিটেন এখন বিদেশি বিনিয়োগের জন্য মরিয়া, আর চীন সেই বিনিয়োগের সবচেয়ে আকর্ষণীয় উৎসগুলোর একটি। অর্থনৈতিক হিসাবে দেখলে এ পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ব্রিটেনের বর্তমান জিডিপি প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলার, যেখানে চীনের জিডিপি প্রায় ১৯ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ চীনের অর্থনীতি ব্রিটেনের চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বড়।

১৮৪০ সালে যখন প্রথম আফিম যুদ্ধ শুরু হয়, তখন চীনের অর্থনীতি ছিল বিশ্বের বৃহত্তম, কিন্তু ঔপনিবেশিক লুণ্ঠন ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতায় সেই অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যায়। আজ চীন আবার বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। ক্ষমতার ভারসাম্য যে কতটা বদলে গেছে, লন্ডনের বুকে চীনের এই মেগা এম্বাসি তার একটি জ্বলজ্বলে স্মারক।

এ প্রসঙ্গে জায়গাটির ঐতিহাসিক তাৎপর্যও বিবেচনা করা দরকার। যেখানে এখন চীনের মেগা এম্বাসি নির্মিত হবে, সেখান থেকেই একসময় তৈরি হতো সোনার মুদ্রা, যেগুলো দিয়ে বেতন দেওয়া হতো ব্রিটিশ সেনাবাহিনীকে। সেই সেনাবাহিনী যুদ্ধ করেছে এশিয়া, আফ্রিকা ও আমেরিকায়।

পৃথিবীর প্রতিটি মহাদেশেই তারা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পতাকা উড়িয়েছে। চীনের বিরুদ্ধে আফিম যুদ্ধে যে সেনারা লড়েছিলেন, ভারতে সিপাহি বিদ্রোহ দমন করেছিলেন, আফ্রিকায় উপনিবেশ স্থাপন করেছিলেন, তাঁদের সবার পকেটে ছিল এই টাঁকশাল থেকে বের হওয়া মুদ্রা। আজ সেই একই জায়গায় দাঁড়াবে চীনের সবচেয়ে বড় দূতাবাস।  

ইতিহাস কখনো স্থির থাকে না। সেসব সময় প্রবহমান, পরিবর্তনশীল। যে জাতি আজ শক্তিশালী, কাল সে দুর্বল হতে পারে; আর যে আজ পদদলিত, কাল সে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। লন্ডনের বুকে চীনের এই মেগা এম্বাসি শুধু একটি স্থাপত্য নয়, এটি বিশ্বরাজনীতির বদলে যাওয়া মানচিত্রের একটি জীবন্ত প্রতীক।

রয়্যাল মিন্টের সোনার মুদ্রা থেকে চীনা দূতাবাসের উত্থান—এই যাত্রাপথ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, সাম্রাজ্য চিরস্থায়ী নয়। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য এই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আছে—নিজের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা, অর্থনৈতিক শক্তি অর্জন করা এবং বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থান তৈরি করা।

এহতেশামুল হক, ওয়াশিংটনভিত্তিক আইনজীবী এবং কোম্পানি আইনের খণ্ডকালীন অধ্যাপক
* মতামত লেখকের নিজস্ব

সম্পর্কিত নিবন্ধ