ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি যুক্তরাজ্য-কানাড
Published: 20th, May 2025 GMT
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং কানাডা ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেছে, যদি গাজায় সামরিক অভিযানের ‘ভয়াবহ’ সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকে তাহলে তারা ‘কঠোর পদক্ষেপ’ নেবে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কেয়ার স্টারমার ফ্রান্স এবং কানাডা সরকারের উদ্যোগে যোগ দিয়ে ইসরায়েলি সরকারকে ‘তার সামরিক অভিযান বন্ধ’ করার এবং ‘অবিলম্বে গাজায় মানবিক সাহায্য প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, তিন নেতা গাজা যুদ্ধে হামাসের জন্য ‘বিশাল পুরষ্কার’ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।
আরো পড়ুন:
রাশিয়া-ইউক্রেন ‘অবিলম্বে’ যুদ্ধবিরতির আলোচনা শুরু করবে: ট্রাম্প
লন্ডনের বাসা থেকে বিমানবন্দরের পথে খালেদা জিয়া
২ মার্চ থেকে গাজায় কোনো খাদ্য, জ্বালানি বা ওষুধ প্রবেশ করতে দেয়নি ইসরায়েল। জাতিসংঘ ইসরায়েলের এমন পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ‘বিপর্যয়কর ক্ষতি’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
রবিবার (১৮ মে) নেতানিয়াহু বলেন, ১১ সপ্তাহের দীর্ঘ অবরোধের পর তার দেশ ‘মৌলিক পরিমাণে খাদ্য’ গাজা ভূখণ্ডে প্রবেশের অনুমতি দেবে। তবে ইসরায়েল ‘পুরো গাজার নিয়ন্ত্রণ’ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
তিন পশ্চিমা নেতা গাজায় ‘অপর্যাপ্ত পরিমাণ’ খাবার প্রবেশে ইসরায়েলি ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তারা বলছেন, বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা প্রদানে অস্বীকৃতি ‘অগ্রহণযোগ্য’ এবং এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের শামিল।
তারা আরো বলেছেন, গাজায় দুর্ভোগের মাত্রা ‘অসহনীয়’।
জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণ প্রধান টম ফ্লেচার বলেছেন, “গাজায় প্রবেশের জন্য অনুমতিপ্রাপ্ত ত্রাণ ট্রাকের সংখ্যা ‘জরুরিভাবে প্রয়োজনীয় চাহিদার তুলনায় সমুদ্রে এক ফোঁটা’।”
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি হামাসকে বাকি জিম্মিদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হয়েছিল দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলার প্রতিক্রিয়ায়। ওই হামলায় ১ হাজার ২০০ জন ইসরায়েলি নিহত এবং ২৫০ জনেরও বেশি জিম্মি হয়েছিল।
গাজায় প্রায় ৫৮ জন জিম্মি রয়ে গেছে, যাদের মধ্যে ২৩ জন জীবিত বলে মনে করা হচ্ছে।
হামাস পরিচালিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ৫৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং কানাডার যৌথ বিবৃতিতে গাজায় যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি ‘দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান’ বাস্তবায়নের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে, যা ইসরায়েলের পাশাপাশি একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের প্রস্তাব করে।
নেতানিয়াহু এই পরামর্শের সমালোচনা করে বলেছেন, “হামাস সন্ত্রাসীদের ধ্বংস করার আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামূলক যুদ্ধ বন্ধ করতে বলার মাধ্যমে এবং একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের দাবি করে, লন্ডন, অটোয়া এবং প্যারিসের নেতারা ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের উপর গণহত্যার হামলার জন্য একটি বিশাল পুরষ্কার দিচ্ছেন এবং আরো নৃশংসতাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন।”
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ‘সকল ইউরোপীয় নেতাদের’ সংঘাতের অবসানের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি’ অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ঢাকা/ফিরোজ
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর য ক তর জ য ইসর য় ল ইসর য় ল র প রব শ র জন য বল ছ ন ইসর য
এছাড়াও পড়ুন:
রূপগঞ্জে বন্ধুদের নিয়ে নিজ বাড়িতে ডাকাতির নাটক, ৩ কিশোর গ্রেপ্তার
রূপগঞ্জে মোবাইল ফোন ও ফ্রি ফায়ার গেমসের আইডি কেনার টাকার জন্য দুই বন্ধুকে নিয়ে নিজ বাড়িতে ডাকাতির নাটক সাজিয়েছেন এক কিশোর। এই ঘটনায় নগদ টাকা ও স্বর্নালংকার উদ্ধার সহ তিন কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, আব্দুর রশিদের ছেলে ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী শাহরিয়ার, হানিফ মিয়ার ছেলে ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী নাবিল ও আলী হোসেনের ছেলে ৬ষ্ঠ শ্রেণী শিক্ষার্থী শাহ আলম। তারা সবাই স্থানীয় কাঞ্চন ভারত চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
শনিবার (৬ নভেম্বর) তাদের আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এর আগে শুক্রবার রাতে তাদের ৩ জনকে গ্রেপ্তারের পর এ চাঞ্চল্য তথ্য উদঘাটন করে পুলিশ।
রূপগঞ্জ থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, গত ২৪ নভেম্বর রূপগঞ্জের কাঞ্চনে দিনে দুপুরে রশিদের বাড়ীতে ছেলে শাহরিয়ারের হাত পা বেধে মারধোর করে আলমারী ভেঙ্গে নগদ ১০ লাখ টাকা ও ১০ ভরি স্বর্নালংকার লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এঘটনায় আব্দুর রশিদ বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি ডাকাতির মামলা দায়ের করেন।
এদিকে, শুক্রবার রাতে রশিদের ছেলে শাহরিয়ার বন্ধু শাহ আলম একটি নতুন মোবাইল কিনলে তার পরিবার তাকে চাপ দেয়। এসময় শাহ আলম টাকারর উৎস জানায় । পরে স্থানীয়রার জানতে পেরে শাহরিয়ার, নাবিল ও শাহ আলমকে আটক করে ধোলাই দিলে তারা ডাকাতির ঘটনায় জড়িতের কথা স্বীকার করে। এসময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতি হওয়া নগদ ২ লাখ ৭৮ হাজা টাকা ও ২ ভরি স্বর্নালংকার উদ্ধার করে।
ওসি আরো জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা নতুন মোবাইল কেনা ও ফ্রি ফায়ার গেমসের আইডি কেনার জন্য দিন দুপুরে বাড়ীতে ডাকাতির নাটক সাজায় বলে তারা স্বীকার করেছেন।