মানবতাবিরোধী অপরাধে হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার রায় আজ
Published: 17th, November 2025 GMT
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ‘পলাতক’ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হচ্ছে আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর)। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণা করবেন।
ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো.
আরো পড়ুন:
ধামরাইয়ে পার্ক করা বাসে গান পাউডার ছিটিয়ে অগ্নিসংযোগ
মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার রায় ঘিরে দেশজুড়ে কড়া নিরাপত্তা
সোমবার (১৭ নভেম্বর) বেলা ১১টায় বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছে রেজিস্ট্রার কার্যালয়। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) এ মামলার রায়ের দিন ঠিক করেন আদালত।
মানবতাবিরোধী অপরাধে প্রথমবারের মতো দেশের কোনো সাবেক প্রধানমন্ত্রী সাজার মুখোমুখি হচ্ছেন। ঐতিহাসিক এ রায়কে ঘিরে দেশ-বিদেশের মানুষের নজর এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দিকে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও আসামি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন। তাদের মধ্যে মামুন দায় স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।
রায় ঘোষণার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে বসানো হয়েছে বড় পর্দা। বিটিভিতে শেখ হাসিনার মামলার রায়ের কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করা হবে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে এটিই সর্বপ্রথম রায় হবে। অনুমতি সাপেক্ষে ট্রাইব্যুনালে পড়া রায়ের অংশটুকু বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করতে পারবে দেশের সব গণমাধ্যম।”
এদিকে, শেখ হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। পুলিশ-বিজিবির পাশাপাশি নিয়োজিত রয়েছে সেনাবাহিনী। তৎপর গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও। এরই মধ্যে নিরাপত্তার স্বার্থে রবিবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে দোয়েল চত্বর হয়ে শিক্ষা ভবনমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একইসঙ্গে সীমিত করা হয়েছে পথচারীদের চলাচল।
আদালতের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, “আমরা অঙ্গীকার করেছিলাম যে, যারাই বাংলাদেশে, যত শক্তিশালী হোক না কেন, যদি কেউ অপরাধ করে, মানবতাবিরোধী অপরাধ করে, তাদের সঠিক পন্থায় বিচারের মুখোমুখি করা হবে।”
তিনি বলেন, “এখন ১৭ নভেম্বর আদালত তার সুবিবেচনা, তার প্রজ্ঞা প্রয়োগ করবেন এবং এই জাতির যে বিচারের জন্য আশঙ্কা যে তৃষ্ণা, সেটার প্রতি তারা সুবিচার করবেন, একটি সঠিক রায়ের মাধ্যমে। বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য এই রায়টি ইনশাআল্লাহ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, তেমন একটি রায়ই আমরা প্রত্যাশা করছি।”
তাজুল ইসলাম বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ শাস্তি আদালতের কাছে প্রেয়ার করেছি। আদালত তার সুবিবেচনা প্রয়োগ করবেন এবং আমাদের পক্ষ থেকে প্রেয়ার হচ্ছে যে, এই অপরাধের দায়ে আসামিদের যেন সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়।”
অন্যদিকে, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন জানান, মক্কেলদের অনুপস্থিতিতেও তিনি নিজের সর্বোচ্চ যুক্তি তুলে ধরেছেন। তিনি আশা করছেন, ট্রাইব্যুনাল তার মক্কেলদের খালাস দেবেন।
এই আইনজীবী বলেন, “আমি বিচারে কোনো অস্বস্তি দেখিনি। আমাকে কেউ বাধা দেয়নি, আমি আমার সীমাবদ্ধতার মধ্যে যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি। মামলা পরিচালনায় যে সহযোগিতা লাগে, যেমন দলিল-দস্তাবেজ, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আইন অনুযায়ী আমাকে দেওয়া হয়েছে। যেসব ডকুমেন্ট পেয়েছি, তার আলোকেই আমাকে কাজ করতে হয়েছে।”
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে প্রথম মামলা হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ শুরু হয় গত বছরের ১৭ অক্টোবর। সেদিনই এ মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।
চলতি বছরের ১৬ মার্চ সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে এই মামলায় আসামি করার আবেদন করে প্রসিকিউশন। পরে ট্রাইব্যুনাল তাতে সম্মতি দেয়। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা চলতি বছরের ১২ মে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রসিকিউশন শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে গত ১ জুন।
শেখ হাসিনা, কামাল ও মামুনের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ:
শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়।
সেগুলো হলো- গত বছরের ১৪ জুলাই গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার ‘উসকানিমূলক বক্তব্য’ দেওয়া; হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশ দেওয়া; রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা; রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পোড়ানোর অভিযোগ। এই পাঁচ অভিযোগে গত ১০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।
আন্দোলন দমনে ১৪০০ জনকে হত্যার উসকানি, প্ররোচনা ও নির্দেশ দান, ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসেবলিটি’ এবং ‘জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজের’ মোট পাঁচ অভিযোগে গত ১০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
ঢাকা/নঈমুদ্দীন/মাসুদ
উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর শ খ হ স ন সহ ত ন ম নবত ব র ধ অপর ধ র প রস ক করব ন বছর র
এছাড়াও পড়ুন:
জকসু নির্বাচনে প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট (মাদক পরীক্ষা) করানো হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) প্রথম দিনের মতো সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে (নতুন ভবন, ২০৪ নম্বর কক্ষ) টেস্ট হয়। এ সময় চিকিৎসকদের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
আগামীকালও এ পরীক্ষা করা যাবে। ডোপ টেস্টের খরচ বহন করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এর আগে গতকাল জকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জকসু নির্বাচনি আচরণবিধির ৩ নম্বর শর্ত অনুযায়ী ডোপ টেস্টে অংশ না নিলে প্রার্থীর প্রার্থিতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। টেস্টের সময় প্রার্থীদের পাসপোর্ট আকারের এক কপি ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ডের ফটোকপি সঙ্গে আনতে হবে।
৪ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা শেষে নির্বাচনের নতুন তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। তফসিলে বলা হয়, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে ১১ ও ১২ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৪ ডিসেম্বর। প্রার্থীরা ১৪ থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রচারণা চালাতে পারবেন। ভোট গ্রহণ হবে ৩০ ডিসেম্বর।
২০০৫ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। দীর্ঘ আন্দোলন ও শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমবারের মতো জকসু নির্বাচনের আয়োজন করে প্রশাসন।
ঢাকা/লিমন/ইভা