ধামরাইয়ের পর এবার সাভারের বিরুলিয়া বেড়িবাঁধ সংলগ্ন বটতলা এলাকায় পার্কিং করে রাখা আলিফ পরিবহনের একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করেছে সন্ত্রাসীরা। রবিবার (১৬ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে বাসটিতে আগুন দেয় তারা। আশেপাশের লোকজন পানি ও বালু দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

বাসের মালিক আমজাদ হোসেন বলেন, “রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিরুলিয়া বটতলা এলাকায় মীর আক্তার কন্সট্রাকশনের গেইটের কাছে বাসটি পার্কিং করে বাসায় খাবার খেতে যাই। রাত পৌনে ১১টার দিকে বাসটিতে সন্ত্রাসীরা আগুন লাগিয়ে দেয়। আশেপাশের লোকজনসন বালতি দিয়ে পানি এনে এবং বালুর সাহায্যে বাসের আগুন নেভান। আগুনে পুরো বাসটাই পুড়ে গেছে আমার। অন্তত ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”

আরো পড়ুন:

মানিকগঞ্জে এক ঘণ্টায় ৪ ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ২

মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার রায় ঘিরে দেশজুড়ে কড়া নিরাপত্তা

সাভার মডেল থানার বিরুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো.

আ. ওয়াহাব বলেন, “মালিক আমজাদ হোসেন নিজেই বাসটি চালান। তার একটিই বাস। ঋণ করে কিনেছেন বলে জানিয়েছেন। রাতে তিনি বিরুলিয়া বেড়িবাঁধ সংলগ্ন মীর আক্তার কন্সট্রাকশনের গেইটের সামনে বাসটি রেখে খাবার খেতে যান। কে বা কাহারা বাসটিতে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”  

এর আগে, রাত ১০টা নাগাদ ঢাকার ধামরাইয়ের ঢুলিভিটা এলাকায় মহাসড়ক থেকে প্রায় ১০০ গজ ভেতরে একটি আঞ্চলিক সড়কের পাশে পার্কিং অবস্থায় থাকা ডি-লিংক পরিবহনের একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করে সন্ত্রাসীরা। খবর পেয়ে ধামরাই ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঢাকা/সাব্বির/মাসুদ

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর আগ ন র একট

এছাড়াও পড়ুন:

গাজীপুরে ফুটল ফুটি কার্পাস: খুলছে মসলিন পুনরুদ্ধারে সম্ভাবনার দ্বার

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় অবস্থিত তুলা গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বীজবর্ধন খামারে প্রাণ ফিরে পেয়েছে বিলুপ্তপ্রায় ফুটি কার্পাস গাছ। দীর্ঘদিন আগে হারিয়ে যাওয়া এই গাছের পুনরায় বিকাশ বাংলার ঐতিহ্যবাহী মসলিন কাপড় পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করছে। মসলিন কাপড় তৈরিতে যে সূক্ষ্ম সুতার প্রয়োজন হয়, তার মূল উৎস ছিল এই ফুটি কার্পাসের তুলা। 

প্রাচীন রোমান সাহিত্যিক পেট্রোনিয়াস মসলিনকে বলেছিলেন ‘হাওয়ায় বোনা কাপড়’। চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙের চোখে এটি ছিল ‘ভোরের কুয়াশায় বোনা এক বিস্ময়‘। সেই অতুলনীয় কাপড়ের মূলে যে তুলার জাদু লুকিয়ে ছিল, তা পুনরুদ্ধার হয়েছে শ্রীপুরের গবেষণা খামারে।

বিজ্ঞানলেখক আবদুল গাফফার রনির মাধ্যমে ফুটি কার্পাসের উপস্থিতির তথ্য ছড়িয়ে পড়লে গবেষকরা জানতে পারেন, কৃষক তাজউদ্দিনের বাড়ি ছাড়াও শ্রীপুরের সরকারি গবেষণা খামারেই চলছে চারটি ভিন্ন জাতের চাষ। 

কটন অ্যাগ্রোনমিস্ট মো. আবদুল ওয়াহাব জানিয়েছেন, গাজীপুরের কাপাসিয়া, দিনাজপুর, বাগেরহাট ও পার্বত্য চট্টগ্রাম—এই চার অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা চার জাতের ১৬০টি চারা গত বছরের ২৯ আগস্ট পরীক্ষামূলকভাবে খামারে রোপণ করা হয়। এক বছরের ব্যবধানে গাছগুলো মানুষের উচ্চতার দ্বিগুণ হয়ে ক্ষুদ্র বৃক্ষের আকার ধারণ করেছে। সকালে ফ্যাকাশে হলুদ আর দুপুরে গোলাপি রঙে রূপ বদলানো ফুল, শক্ত বাকল এবং তুলাভরা গুটি গবেষকদের উৎসাহ আরো বাড়িয়েছে। 

কিছু গাছ বছরে দুই বার ফুল দেয় বলেও জানিয়েছেন ওয়াহাব। তার ভাষায়—“ফুটি কার্পাস প্রায় ১৫ বছর পর্যন্ত বাঁচে। এর আঁশ খাটো হলেও অতি সূক্ষ্ম, উজ্জ্বল ও টেকসই, যা মসলিন তৈরির জন্য একেবারে আদর্শ।”

একসময় মেঘনা-শীতলক্ষ্যা নদীর তীরঘেঁষা অঞ্চলে এই গাছের ব্যাপক বিস্তার ছিল। এমনকি গাজীপুরের কাপাসিয়া নামটিও এসেছে ‘কার্পাস’ বা তুলা থেকে। কিন্তু, সময়ের ব্যবধানে এই গাছ বিলুপ্তির মুখে পড়লে তাঁত বোর্ডের মসলিন পুনরুদ্ধার প্রকল্প বড় বাধার সম্মুখীন হয়। পরে স্থানীয় পর্যায়ে প্রচার চালিয়ে রাঙামাটি ও কাপাসিয়া থেকে মোট ৩৮টি ফুটি কার্পাস সংগ্রহ করা সম্ভব হয়, যা বর্তমানে গবেষণার আওতায় পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে।

তুলা গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকর্তা আ ন ম জহির উদ্দিন বলেছেন, “সংরক্ষণ ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরিচর্যার মাধ্যমে ফুটি কার্পাস আবারও কৃষি খাতে গুরুত্বপূর্ণ উপাদানে পরিণত হতে পারে। ভবিষ্যতে এর বাণিজ্যিক চাষের পথও খুলে যেতে পারে।”

এই বিরল গাছের পুনর্জাগরণে শ্রীপুরের তুলা গবেষণা খামার এখন ঐতিহ্যপ্রেমী, গবেষক ও তাঁত শিল্প সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশার কেন্দ্র হয়ে উঠছে। বাংলার হারানো মসলিনের জৌলুস ফিরিয়ে আনার পথে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি, এমনটাই মত গবেষকদের।

ঢাকা/রফিক

সম্পর্কিত নিবন্ধ