মাদারীপুর-১ আসনে বিএনপি নেতা কামাল জামানের মনোনয়ন স্থগিতের প্রতিবাদে সমাবেশ
Published: 7th, November 2025 GMT
মাদারীপুর-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কামাল জামান মোল্লার মনোনয়ন স্থগিত করার প্রতিবাদে জনসভা হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকেলে শিবচরে উপজেলার হাতির মাঠে এ জনসভা হয়।
বিকেল চারটা থেকে প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ওয়ার্ডগুলো থেকে দলে দলে নেতা-কর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসেন। এ সময় ঢাকঢোল বাজিয়ে ব্যানার–ফ্যাস্টুন হাতে নিয়ে কামাল জামানের অনুসারী নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন।
আরও পড়ুনমাদারীপুর-১ আসনে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ০৫ নভেম্বর ২০২৫জনসভায় বক্তারা বলেন, কামাল জামান মোল্লা বিএনপির একজন ত্যাগী নেতা। তিনি গণমানুষের অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে থেকে লড়াই করেছেন। শিবচর বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন। ষড়যন্ত্রকারীরা ভুল তথ্য প্রচার করে কামাল জামানকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁকে মনোনয়ন দেওয়ার পর তা স্থগিত রাখা একটি সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র। কিন্তু বিশাল এই জনসমর্থন প্রমাণ করে যে কামাল জামান মোল্লাকে বিএনপির তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ এমপি হিসেবে দেখতে চান।
জনসভায় শিবচর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন খান বলেন, ‘এটি ঐতিহাসিক জনসভা। যোগ্য নেতাকে পুনর্বহালের দাবিতে জনসভা। মাদারীপুর-১ আসনে যদি বিএনপি কোনো প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে আমাদের প্রিয় নেতা কামাল জামান মোল্লাকেই দিতে হবে। অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে বিএনপির কর্মীরা তা মানবে না।’
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজাহান সাজু মোল্লা বলেন, শিবচরে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ও জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে কামাল জামানকে পছন্দ করেন। বিএনপির মনোনয়ন স্থগিত হওয়ায় তাঁরা খুবই হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। কিন্তু বিশাল এই জনসভা বলে দিচ্ছে, নেতা-কর্মীরা এমপি হিসেবে কামাল জামানকেই চান।
প্রসঙ্গত, ৩ নভেম্বর মাদারীপুর-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে শিবচর উপজেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক আহ্বায়ক কামাল জামান মোল্লার নাম ঘোষণা করা হয়। এরপরই মাদারীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও মনোনয়নবঞ্চিত সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকীর সমর্থকেরা ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের পাঁচ্চরে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। এর এক দিন পরই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাদারীপুর-১ আসনে মনোনয়ন স্থগিত করা হয়।
মনোনয়ন স্থগিত করার প্রতিবাদে এবং মনোনয়ন পুনর্বহালের দাবিতে গত বুধবার কামাল জামানের অনুসারী নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা শিবচরের প্রধান সড়ক ‘সড়ক ৭১’-এ বিক্ষোভ মিছিল এবং সড়ক অবরোধ করেন।
আওয়ামী লীগের ৫০ থেকে ৬০ জন দোসর রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন উল্লেখ করে আজকের জনসভায় কামাল জামান মোল্লা বলেন, ‘এসব করে লাভ নেই, শিবচরের জনগণকে আমি মুক্ত করব, দোসরমুক্ত করেই ছাড়ব। আপনারা জনগণই আমার শক্তি। আমি বিশ্বাস করি, জনগণকে নিয়ে আমি এই আসনে নির্বাচন করে নির্বাচিত হব।’
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: ম দ র প র ১ আসন ব এনপ র র মন ন কর ম র ত কর র শ বচর উপজ ল
এছাড়াও পড়ুন:
২২ বছর বয়সে সিরাজউদ্দৌলা নবাব হন
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
সৃজনশীল প্রশ্ন: অধ্যায়–১
শহীদ মিয়া তরুণ বয়সে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। প্রথম থেকেই কিছু আত্মীয় নিজেদের সুবিধার জন্য শহীদ মিয়াকে জনগণের কাজে বাধা সৃষ্টি করে। সুযোগ বুঝে একসময় তারা তাঁকে ক্ষমতা থেকে সরাতে সক্ষম হয় এবং হত্যা করে।
প্রশ্ন
ক. সম্রাট আকবরের সেনাপতি কে ছিলেন?
খ. বাংলায় নবজাগরণ কী, ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের শহীদ মিয়ার ঘটনার সঙ্গে ঐতিহাসিক কোন ঘটনার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উক্ত ঘটনা কি বাংলার স্বাধীনতা হারানোর কারণ? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর
ক. সম্রাট আকবরের সেনাপতি ছিলেন মানসিংহ।
খ. বাংলায় ইংরেজ শাসনের প্রভাবে এ দেশের মানুষের মধ্যে যে সচেতনতা তৈরি হয়, তাকেই নবজাগরণ বলে। ইংরেজরা বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ভারতবর্ষে এলেও একসময় তারা এখানে বিভিন্ন সমাজসংস্কার, শিক্ষা বিস্তার প্রভৃতি কাজ করে থাকে। আধুনিক শিক্ষার কারণে এখানকার মানুষের মধ্যে অধিকার নিয়ে সচেতনতা তৈরি হয়। তারা সমাজের কুসংস্কার থেকে মুক্ত হয়ে রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে। ইতিহাসে এটাই বাংলায় নবজাগরণ।
আরও পড়ুনজুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা—বিজ্ঞান : টিকটিকি সরীসৃপ কেন০১ ডিসেম্বর ২০২৫গ. উদ্দীপকের শহীদ মিয়ার ঘটনার সঙ্গে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করে হত্যার সঙ্গে মিল রয়েছে। নবাব আলীবর্দী খাঁর মৃত্যুর পর তাঁর প্রিয় নাতি সিরাজউদ্দৌলা মাত্র ২২ বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন। তখন তাঁর সামনে একদিকে ইংরেজ শক্তি, পাশাপাশি বড় খালা ঘসেটি বেগম ও সিপাহশালার মীর জাফর আলী খানের ষড়যন্ত্রে আক্রান্ত হন। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর প্রান্তরে তিনি নিহত হন। তখন বাংলায় শাসন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ইংরেজদের প্রভাব প্রতিষ্ঠা পায়। শহীদ মিয়ার তরুণ বয়সে চেয়ারম্যান হওয়ার সঙ্গে সিরাজউদ্দৌলার কম বয়সে নবাব হওয়ার মিল দেখা যায়।
অন্যদিকে সিরাজউদ্দৌলার পরিবারের লোকজনও এই ক্ষমতা গ্রহণকে নেতিবাচক বলে মনে করে। উদ্দীপকের শহীদ মিয়াও ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে তাঁর পরিবারের আত্মীয়েরা বিরোধিতা করে, যা শহীদ মিয়ার ঘটনার সঙ্গে মিলে যায়। তাই পারিবারিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সিরাজউদ্দৌলার পতনের ঘটনার মিল রয়েছে।
ঘ. হ্যাঁ, সিরাজউদ্দৌলার ক্ষমতা হারানো ও মৃত্যু বাংলার পরাধীনতার কারণ। এ ঘটনায় শাসন ক্ষমতায় ইংরেজরা প্রভাব রাখতে শুরু করে।
মীর জাফর ও পরবর্তী সময়ে মীর কাশিমকে ইংরেজরা বাংলার নবাব মনোনীত করলেও নানা কারণে তাদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়। ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভ ১৭৬৫ সালে দিল্লির সম্রাটের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে খাজনা ও প্রতিরক্ষার দায়িত্ব পালন শুরু করেন। অন্যদিকে নবাব ভাতা ভোগ করেন। নবাব শাসন ও বিচারের দিকটি দেখার সুযোগ পান। ক্লাইভ কর্তৃক এ অদ্ভুত শাসনই ইতিহাসে ‘দ্বৈত শাসন’ নামে পরিচিত। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করে শাসন ক্ষমতা সুদৃঢ় করে। কিন্তু ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নিজেরাই শাসন শুরু করে। ব্রিটিশদের এই শাসন ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত চলতে থাকে। ফলে ১৭৫৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত বাংলার স্বাধীনতা ছিল ইংরেজদের হাতে। তাই সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু বাংলার স্বাধীনতা হারানোর বড় কারণ।
মো. আবুল হাছান, সিনিয়র শিক্ষক, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল, ঢাকা