প্রাথমিকে শারীরিক ও সংগীত শিক্ষক পদ পুনর্বহালের দাবি
Published: 7th, November 2025 GMT
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শারীরিক শিক্ষা ও সংগীত শিক্ষক পদ বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে গানে গানে রাজধানীর রাজপথ পরিক্রম করলেন শিক্ষার্থী-সংগীতশিল্পীসহ সংগীতানুরাগী নাগরিকেরা। তাঁরা অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে ওই শিক্ষক পদ পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন।
আজ শুক্রবার বিকেলে ধানমন্ডির আবাহনী ক্লাব মাঠের সামনে সাতমসজিদ রোডে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, সংগীত ও চারুশিল্পী, যুব সংগঠনের নেতাকর্মী ও সংগীতানুরাগী সাধারণ নাগরিকেরা সমবেত হয়ে মানববন্ধন করেন। ‘প্রাথমিক শিক্ষাকে শিশুর সুকুমার বৃত্তি বিকাশের উপযোগী করে তোলো’ প্রতিপাদ্য নিয়ে এই প্রতিবাদী আয়োজন করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল ‘তোমার ভয় নেই মা/ আমরা প্রতিবাদ করতে জানি’, ‘কণ্ঠ ছাড়ো জোরে’, ‘একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার’, ‘ওরা আমার মুখের কথা কাইড়া নিতে চায়’—এমন গানের বাণী লেখা পোস্টার। সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনা দিয়ে শুরু হয় প্রতিবাদী কার্যক্রম।
এই প্রতিবাদী আয়োজনের আয়োজকদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী রিমেল সরকার। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এই প্রতিবাদে তাঁদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে ৪৭২ জন নাগরিক স্বাক্ষর করেছেন। এতে বলা হয়, ‘গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ করা যাচ্ছে, কয়েকটি ধর্মভিত্তিক সংগঠনের চাপের মুখে সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংগীত শিক্ষক পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে শিশুদের সৃজনশীলতা ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে। সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা শিশুদের সৃজনশীলতা, আবেগীয় ও নান্দনিক বোধ, সামাজিক সংহতির চেতনা গঠনের জন্য অপরিহার্য। এ কারণে বিশ্বব্যাপী শিক্ষাব্যবস্থার কেন্দ্রে শিল্প-সংস্কৃতি ও সৃজনশীল শিক্ষাকে রাখা হয়েছে। আমাদের দেশে এই বিষয়গুলো সংকুচিত করা শিক্ষানীতি ও জাতির ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর।’
আয়োজকেরা কিছু সময় সাতমসজিদ সড়কে ব্যানার, পোস্টার নিয়ে মানববন্ধন করে অবস্থান করেন। এরপর শুরু হয় তাঁদের প্রতিবাদী গানের মিছিল। ঢাকা। ৭ নভেম্বর.উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ১৫ দফা দাবি
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে জনগণের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) ১৫ দফা দাবি তুলে ধরেছে।
১০ ডিসেম্বর (আজ বুধবার) আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস। এ উপলক্ষে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে মানবাধিকার সংগঠনটি। এ সময় জনগণের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগঠনটি ১৫ দফা দাবি তুলে ধরেছে।
কর্মসূচিতে অংশ নেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) কর্মকর্তা-কর্মচারী, তাঁদের পরিবার এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) ‘স্পিক আপ’ প্রকল্পের তরুণেরা। এই মানববন্ধন কর্মসূচিতে দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করা হয়।
বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৪৮ সালের এ দিনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র গ্রহণ করে। এ ঘোষণার মাধ্যমে স্বীকৃত হয়, মানবাধিকার সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। জন্মস্থান, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বিশ্বাস, অর্থনৈতিক অবস্থা কিংবা শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্বিশেষে মানবাধিকার সর্বজনীন ও সবার জন্য সমান। প্রত্যেক মানুষ জন্মগতভাবেই এসব অধিকার লাভ করেন।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) উপদেষ্টা মাবরুক মোহাম্মদ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসের বাইরে গিয়েও প্রতিদিনই মানবাধিকার বিষয়ে জাগ্রত ও সোচ্চার থাকতে চাই। আইন ও সালিশ কেন্দ্র কখনো মানবাধিকার বিষয়ে কারও কাছে মাথা নত করেনি, কারও সঙ্গে আপস করেনি। যেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, সেখানেই আইন ও সালিশ কেন্দ্র সব সময় সোচ্চারভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছে।’
নারী অধিকারের বিষয়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্র প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে সংস্থার এই উপদেষ্টা মাবরুক মোহাম্মদ আরও বলেন, ‘আইনের ক্ষেত্রে অনেক উন্নতি হয়েছে কিন্তু নারী ও শিশুর প্রত্যয়ী সহিংসতাগুলো বন্ধ হয়নি। এটি নিয়েও আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে এই মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আজ বুধবার, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে