ফেনী সদর আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে ধানখেতে দাঁড়িয়ে ক্রিকেটের আম্পায়ারের ভঙ্গিতে ‘রিভিউ আবেদন’ করে আলোচনায় এসেছেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল। তিনি আজ শুক্রবার সকালে বাড়ির পাশে একটি ধানখেতে গিয়ে হাত উঁচিয়ে সেই ভঙ্গিতে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন।

ছবিতে আলাল উদ্দিন আলাল লিখেছেন, ‘নো ক্যাপশন।’ ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুক্রবার রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত এক হাজারের বেশি ব্যক্তি মন্তব্য করেছেন এবং প্রায় ৪০০ জন শেয়ার করেছেন। কেউ তাঁর পক্ষে, আবার কেউ দলের সিদ্ধান্তের সমালোচনায় মন্তব্য করেছেন।

৩ নভেম্বর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন। এতে ফেনী-২ আসনে প্রার্থী হন জয়নাল আবদীন। তালিকায় নিজের নাম না থাকায় আলাল উদ্দিন কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য করছেন।

মনোনয়ন না পেয়ে এবার দলের কাছে প্রার্থী তালিকা পুনর্বিবেচনার দাবি জানাতে প্রতীকীভাবে ধানখেতে ‘রিভিউ আবেদন’ করেছেন বলে আলাল উদ্দিন জানান। তিনি বলেন, ‘আমি দলের কাছে মনোনয়ন চেয়েছিলাম। তবে পরিবর্তনের আবেদন জানাতেই এই ছবি পোস্ট করেছি। আগামী প্রজন্ম দেখুক, প্রতিবাদের ভাষা ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু বার্তা স্পষ্ট। আমি চাই, ফেনী-২ আসনের প্রার্থী তালিকা রিভিউ করা হোক।’

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-২ (সদর) আসনে ধানের শীষের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল আবদীন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান, আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন খান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন, যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিবুল্লাহ, আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারীসহ কয়েকজন নেতা। তাঁদের নিয়ে ভার্চ্যুয়ালি মতবিনিময় করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

প্রসঙ্গত, বিএনপি ঘোষিত ২৩৭ আসনের মধ্যে ফেনী-১ (ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে খালেদা জিয়া, ফেনী-২ (সদর) আসনে অধ্যাপক জয়নাল আবদীন ও ফেনী-৩ (সোনাগাজী ও দাগনভূঞা) আসনে শিল্পপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

আরও পড়ুনকোন আসনে বিএনপির প্রার্থী কে, দেখে নিন০৩ নভেম্বর ২০২৫.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: ব এনপ র কর ছ ন ধ নখ ত সদস য

এছাড়াও পড়ুন:

অনলাইনের যেকোনো তথ্য যাচাই করতে হবে

ভুয়া বা ভুল তথ্য এবং অপতথ্যের এই সময়ে সবচেয়ে জরুরি হলো—প্রশ্ন করার অভ্যাস ও তথ্য যাচাইয়ের দক্ষতা। পাশাপাশি অনলাইনে পাওয়া যেকোনো কনটেন্ট (আধেয়) শুরুতেই সন্দেহের চোখে দেখতে হবে; প্রথম দেখাতেই পুরোপুরি বিশ্বাস করা যাবে না।

অনলাইনে দ্রুত তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের কৌশল শেখাতে প্রথম আলো বন্ধুসভার বিশেষ কর্মশালায় এ কথা বলেন বক্তারা। আজ শুক্রবার ‘কোয়েশ্চেন এভরিথিং ইউ সি অনলাইন: ট্রেইনিং অন কুইক ফ্যাক্ট-চেকিং অ্যান্ড ভেরিফিকেশন (অনলাইনে যা দেখবেন, প্রশ্ন করবেন: তথ্য যাচাই পদ্ধতিবিষয়ক প্রশিক্ষণ)’ শিরোনামে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। দেশি-ফুডসের পৃষ্ঠপোষকতায় ও ডিসমিসল্যাবের সহযোগিতায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হয়ে কর্মশালা চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন মল্লিকের সঞ্চালনায় প্রথম সেশনে ‘ক্রিটিক্যাল থিংকিং’ বিষয়ে আলোচনা করেন ডিজিটালি রাইটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘কোনো ভুল তথ্যকে যদি সঙ্গে সঙ্গে সঠিক না করেন তাহলে এই তথ্যকে একসময় মানুষ সত্যি মনে করবে। এখন সেই ব্যবসা তত বড়, যে ব্যবসায় তথ্য বেশি। যাদের কাছে তথ্য বেশি তারা এগিয়ে যায়। যাচাই করার সক্ষমতা বর্তমানে অনেক বেশি জরুরি হয়ে গেছে। যেকোনো তথ্যে দেখবেন সূত্র উল্লেখ আছে কি না। সূত্র না থাকলে তথ্য সঠিক মনে করা যাবে না।’

স্বাগত বক্তব্যে প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘প্রশ্ন করতে হবে। তথ্য সত্য কি না, যাচাই করতে হবে। জগৎটা এখন অনেক বেশি তথ্যের।’

তথ্যের সত্যতা যাচাই, ছবি যাচাই এবং অনলাইন আর্কাইভিং বিষয়ে আলোচনা করেন ডিসমিসল্যাবের গবেষণা কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম। কীভাবে মুহূর্তেই নির্দিষ্ট বিষয়ের তথ্য, ছবি, ভিডিও, তথ্য প্রকাশের তারিখ ও ডকুমেন্ট ফাইল খুঁজে বের করতে হবে; মোবাইলে রিভার্স ইমেজ সার্চ, ছবির মেটা ডেটা যাচাই কীভাবে করা যাবে এবং এ–সংক্রান্ত বিভিন্ন এআই টুলের ব্যবহার বিষয়ে হাতে–কলমে সেশন পরিচালনা করেন তিনি।

আর এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি ছবি ও ভিডিও কীভাবে যাচাই করা যাবে; কোনটা এআই ভিডিও, কোনটা বাস্তব—কীভাবে শনাক্ত করা যাবে এবং এআই চিহিৃতকরণ কয়েকটি টুলের ব্যবহার দেখান ডিসমিসল্যাবের আরেকজন গবেষণা কর্মকর্তা আহমেদ ইয়াসীর আবরার।

অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের উপদেষ্টা উত্তম রায় বলেন, ‘অনলাইনে কোনো কিছু দেখলে সঙ্গে সঙ্গেই রিঅ্যাক্ট করা যাবে না। যাচাই করতে হবে, সময় নিয়ে চিন্তা করতে হবে।’

ডিসমিসল্যাব ও দেশি-ফুডসকে ধন্যবাদ জানিয়ে জাতীয় পর্ষদের সভাপতি জাফর সাদিক বলেন, ‘আমাদের একটি বড় সমস্যা হলো জেনে না জেনে অপতথ্যের প্রচার করা। অনেকের মধ্যেই ডিজিটাল শিক্ষা খুবই কম। এর কারণ হলো প্রযুক্তি অনেক বেশি এগিয়ে গেছে। কোনটা এআই, কোনটা সত্য—তা যাচাই করা অনেক সময় কঠিন হয়ে যায়। তাই অনলাইনে যা কিছুই দেখবেন, সবার আগে নিজেকে প্রশ্ন করবেন।’

দেশি-ফুডসের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহফুজের রহমান ও প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট কর্মকর্তা রুপা খাতুন। বন্ধুসভার সঙ্গে থাকতে পেরে প্রথম আলো ও বন্ধুসভাকে ধন্যবাদ জানান মাহফুজের রহমান। অংশগ্রহণকারীদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন তিনি।

দেশি-ফুডসের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘পারসোনাল ব্র্যান্ডিং’, ‘আইইএলটিএস ও বিদেশে উচ্চশিক্ষা’, ‘গ্রাফিক ডিজাইন’সহ এ নিয়ে চারটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হলো। পুরো আয়োজনের সমন্বয় করেছেন বন্ধুসভা জাতীয় পর্ষদের প্রশিক্ষণ সম্পাদক সামছুদ্দোহা সাফায়েত। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের সনদ দেওয়া হয়।

সম্পর্কিত নিবন্ধ