পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে বাচ্চা রেখে গেলাম, দয়া করে কেউ নিয়ে যাবেন
Published: 7th, November 2025 GMT
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের বেডে এক নবজাতক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন স্বজনেরা। নবজাতকের বিছানার পাশে একটি বাজারের ব্যাগে চিরকুট পাওয়া গেছে।
চিরকুটে লেখা রয়েছে, ‘আমি মুসলিম। আমি একজন হতোভাগি। পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে বাচ্চা রেখে গেলাম। দয়া করে কেউ নিয়ে যাবেন। বাচ্চার জন্মতারিখ ৪ নভেম্বর ২০২৫ (মঙ্গলবার)। এগুলো সব বাচ্চার ওষুধ.
আরো পড়ুন:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ আহত ৮
বরগুনায় ইঁদুর মারার ফাঁদে শিশুর মৃত্যু
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে। শুক্রবার দুপুরে বিষয়টি জানাজানি হলে শিশুটিকে দত্তক নিতে হাসপাতালে ভিড় করেছেন অনেকেই।
নবজাতকটি বর্তমানে হাসপাতালের পেডিয়ার্টিক ওয়ার্ডে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে আছে। সে শারীরিকভাবে সুস্থ আছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে ওই নবজাতককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের ভর্তি রেজিস্ট্রারে ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে ইনছুয়ারা, শাহিনুর, আলাদিপুর, ফুলবাড়ী।
হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসক গোলাম আহাদ বলেন, ‘‘গতকাল সন্ধ্যায় পঞ্চাশোর্ধ্ব এক দম্পতি শিশুটিকে নিয়ে এসে ভর্তি করতে বলেন। নিজেদের পরিচয় দেন শিশুটির নানা-নানী হিসেবে। শিশুটির মায়ের খোঁজ করলে তারা বলেন, মা নিচে আছেন। মাকে নিয়ে আসতে বললে বাচ্চাসহ ওই দম্পতি বেড়িয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পর শিশু ওয়ার্ডের বাইরে একটি বেডে বাচ্চাটিকে একা থাকতে দেখে অন্যরা বিষয়টি জানান। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির মা ও স্বজনদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। শিশুটির বিছানায় একটি বাজারের ব্যাগে কিছু ওষুধ, ডায়াপার ও জামাকাপড় পাওয়া গেছে।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের যে সময়কাল, তার আগেই বাচ্চাটির জন্ম হয়েছে। শিশুটি বর্তমানে সুস্থ আছে। ফটোথেরাপি দেওয়া হয়েছে। ওয়ার্মারে রাখা হয়েছে। তবে, সে সুস্থ আছে।’’
হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফজলুর রহমান বলেন, ‘‘নবজাতকটিকে আমরা বিশেষ পর্যবেক্ষণে রেখেছি। প্রথমত শিশুটির প্রকৃত অভিভাবকদের খুঁজে পাওয়া আমাদের প্রধান কাজ। এজন্য পুলিশ প্রশাসনের সহায়তা চেয়েছি। রেজিস্টারে থাকা ঠিকানা অনুযায়ী অনুসন্ধান চলছে। অভিভাবকদের পাওয়া গেলে তাদের বক্তব্য অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
ঢাকা/মোসলেম/রাজীব
উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
বিশিষ্ট ৪ নারী পেলেন বেগম রোকেয়া পদক
নারীশিক্ষা, নারী অধিকার, মানবাধিকার ও নারী জাগরণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ চার বিশিষ্ট নারীর হাতে বেগম রোকেয়া পদক তুলে দিলেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই পদক তুলে দেন তিনি।
পদকপ্রাপ্তরা হলেন—নারীশিক্ষা শ্রেণিতে (গবেষণা) রুভানা রাকিব, নারী অধিকার শ্রেণিতে (শ্রম অধিকার) কল্পনা আক্তার, মানবাধিকার শ্রেণিতে নাবিলা ইদ্রিস ও নারী জাগরণ শ্রেণিতে (ক্রীড়া) ঋতুপর্ণা চাকমা।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘বেগম রোকেয়া দিবস -২০২৫’ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে পালন করছে।
নারী শিক্ষা ও অধিকার আন্দোলনের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ১৪৫তম জন্মবার্ষিকী ও ৯৩তম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ।
অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টা, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং পদকপ্রাপ্তদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি ‘আমি-ই রোকেয়া’ শিরোনামের একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এতে নারীর শিক্ষা বিস্তার ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বেগম রোকেয়ার অবদান তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে নারীর অনুপ্রেরণায় বেগম রোকেয়ার ভূমিকা ও দেশের নারী ক্ষমতায়নের অগ্রযাত্রার বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করা হয়। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় শিক্ষার গুরুত্বও এতে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়।
ঢাকা/ইভা