আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও গণতন্ত্রের রাজনীতি করি: জহির উদ্দিন স্বপন
Published: 7th, November 2025 GMT
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আজ কিছু মহল “জামায়াত-বিএনপি বনাম আওয়ামী লীগ” বলে একটি বিভ্রান্তিকর বয়ান ছড়াচ্ছে। এই বয়ান আসলে আওয়ামী-জামায়াতের যৌথ প্রচেষ্টা, যাতে জনগণের দৃষ্টি প্রকৃত সংগ্রাম থেকে সরিয়ে দেওয়া যায়। কারণ, বিএনপি কখনোই জামায়াতের রাজনীতির অংশ নয়, আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও গণতন্ত্রের রাজনীতি করি।’
আজ শুক্রবার বিকেলে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে বরিশালের গৌরনদী সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় সভাপতির বক্তব্যে জহির উদ্দিন স্বপন এ কথা বলেন।
আগামী নির্বাচনে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো নির্দিষ্ট দল নয়; বরং জামায়াতের মতো সুযোগসন্ধানী রাজনীতি ও প্রশাসনের অন্যায় হস্তক্ষেপ—এই দুটি চ্যালেঞ্জ থাকবে উল্লেখ করে জহির উদ্দিন বলেন, সরকারের শাসনপ্রক্রিয়া থেকে পুলিশ, ইউএনও, সশস্ত্র বাহিনীসহ রাষ্ট্রযন্ত্রকে জনগণের পাশে ফিরিয়ে আনাই হবে সবচেয়ে বড় সংগ্রাম। এ সময় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আগামী নির্বাচন বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ উল্লেখ করে বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জহির উদ্দিন আরও বলেন, ‘দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়, ন্যায়বিচার চায়, নিরাপদ জীবন ও ভোটের অধিকার ফিরে পেতে চায়। আপনারা বিএনপির প্রতি যে আস্থা দেখিয়ে আসছেন, সেই আস্থা অটুট রাখলে আমরা একসঙ্গে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে পারব। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমরা মাঠে আছি ও থাকব।’
গৌরনদীতে এই জনসভার মধ্য দিয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী যাত্রা শুরু করেছেন জহির উদ্দিন। গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপি আয়োজিত এই জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক বিষয়ক) হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ একটি অংশগ্রহণমূলক, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে। জনগণের জন্য কাজ করতে হলে প্রথমে জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে। বিএনপি দেশের মানুষের সেই অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লড়াই করছে। এ সময় তিনি ধানের শীষের বিজয় বরিশাল-১ আসন থেকে শুরু হবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বিকেল পৌনে চারটায় জনসভা শুরু হলেও দুপুর থেকেই দুই উপজেলার বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সভাস্থলে উপস্থিত হন। দুপুর গড়াতেই সভাস্থল কানায় কানায় ভরে যায়।
জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল জেলা (উত্তর) বিএনপির আহ্বায়ক দেওয়ান মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, সদস্যসচিব মিজানুর রহমান, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান, সদস্যসচিব শরীফ জহির সাজ্জাদ, পৌর আহ্বায়ক (ভারপ্রাপ্ত) শরীফ শফিকুর রহমান, আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক (ভারপ্রাপ্ত) হাফিজুর রহমান সিকদার, সদস্যসচিব বশির আহমেদ, জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুল আলম খান প্রমুখ।
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: গণতন ত র ব এনপ র জনগণ র র জন ত বর শ ল উপজ ল গ রনদ
এছাড়াও পড়ুন:
ষড়যন্ত্র রুখতে পারে গণতন্ত্রের প্র্যাকটিস: তারেক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “দেশের ওপর নেমে আসা নানা ধরনের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত ঠেকানোর একমাত্র শক্তি হলো জনগণের গণতান্ত্রিক চর্চা।”
তিনি বলেন, “ষড়যন্ত্র রুখতে পারে এই গণতন্ত্রের প্র্যাকটিস।”
আরো পড়ুন:
মির্জা ফখরুলের সঙ্গে মঙ্গোলিয়ার অনাবাসিক রাষ্ট্রদূতের বৈঠক
হাদির ওপর আক্রমণ সুদূরপ্রসারী অশুভ পরিকল্পনার অংশ: বিএনপি
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচির ছয় নম্বর দিনের আলোচনায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কর্মসূচিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
তারেক রহমান বলেন, “আজ স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর যে আক্রমণ হয়েছে, তার আগে চট্টগ্রামে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর ওপরও হামলা হয়েছে। যারা ষড়যন্ত্র করছে তারা এসব ঘটনার সুযোগ নিতে চাইবে। এই ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে পারে দেশের মানুষ—গণতন্ত্রের চর্চা।”
তিনি ছাত্রদল কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “আজ সারা দিন তোমরা যা শিখেছো, তা নিজেদের মধ্যে রাখবে না। এগুলো দেশের মানুষের জন্য কাজে লাগাতে হবে।”
তিনি আরো বলেন, “অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হলে যেকোনো মূল্যে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। গণতন্ত্রের মূলবোধ ফিরিয়ে আনতে হবে। আগামী দিনে তোমাদেরকেই দায়িত্ব নিতে হবে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার।”
কর্মসূচিতে ছাত্রদের বিভিন্ন কর্মকৌশল, প্রাথমিক সংগঠন ব্যবস্থাপনা এবং আইটি সেক্টরে তরুণদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।”
তারেক রহমান বলেন, “ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় বড় পরিবর্তন আসে। আইটির ক্ষেত্রে তোমরা কীভাবে অবদান রাখতে পার, সেটি নিয়ে ভাবতে হবে।”
তিনি আরো উল্লেখ করেন, “চিকিৎসা পাওয়া একটি মানুষের মৌলিক মানবাধিকার। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো এই অধিকার নিশ্চিত করা।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ কর্মসূচির বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সঞ্চালনা করেন যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল।
এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক মো. আমিনুল ইসলাম।
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাসিম উদ্দীন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমানসহ কেন্দ্রীয় নেতারাও আলোচনায় অংশ নেন।
ঢাকা/আলী/সাইফ