যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী জোহরান মামদানি চলতি বছরের নির্বাচনে নিউইয়র্ক সিটির ১১১তম মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সাবেক গভর্নর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুমো ও রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়াকে পরাজিত করে ইতিহাস গড়েছেন তিনি। এ জয়ের মধ্য দিয়ে জোহরান হলেন শহরটির প্রথম মুসলিম মেয়রও।

নিউইয়র্কের রাজনীতিতে জোহরান মামদানির নির্বাচনী প্রচারণায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিন্নমাত্রিক উপস্থিতি দেখা যায়। ইউটিউবে জোহরান মামদানি ফর এনওয়াইসি নামের একটি চ্যানেলে ২ লাখ ৩৭ হাজার গ্রাহক দেখা যায়। এখানে ১০১টি ভিডিও প্রকাশ করেছেন তিনি। প্রথাগত প্রচারণার বাইরে গিয়ে মামদানির প্রচারণা ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। মামদানি বেশ কার্যকরভাবে টিকটকের মতো মাধ্যমকে অত্যন্ত কার্যকরভাবে ব্যবহার করেছেন।

মামদানির ডিজিটাল প্রচারণার প্রধান দায়িত্বে কাজ করেন ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর অ্যান্ড্রু এপস্টাইন। তিনি জানান, মামদানি প্রচারণার সাফল্যের অন্যতম মূল কারণ ডিজিটাল আউটরিচ ও মাঠ পর্যায়ের প্রচারণার মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি করা। ভোটাররা যখন ফোনের মাধ্যমে মামদানির বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিও দেখতেন তখন নির্বাচনী এজেন্ডার সঙ্গে দ্রুত সম্পর্ক তৈরি হতো। টিভিতে বা পডকাস্টেও মামদানির একই বার্তা শোনা গেছে। টিকটকে তার অনুসারীর সংখ্যা ২৭ লাখের বেশি। বিভিন্ন ভিডিও মিলিয়ে লাইক পেয়েছেন সাড়ে ৩৩ লাখের বেশি। এসব ভিডিও অনেক শেয়ার হতে দেখা যায়। বিভিন্ন ভিডিওতে মামদানি তাঁর দক্ষিণ এশিয়ার পরিচয়, উপমহাদেশের ভাষা ও সংগীত ব্যবহার করেন। বিভিন্ন ভিডিওতে যুক্ত ফন্টে জেন–জিদের মনোযোগ আকর্ষণ করে এমন ফন্ট ব্যবহার করেছেন তিনি। টিকটকের বিভিন্ন ভিডিও বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ১০ লাখের ওপরে ভিউ হয়েছে এমন ভিডিওর সংখ্যা অনেক। ৫৪টি ভিডিওর ১০ লাখের ওপরে ভিউ রয়েছে।

মামদানি প্রচারণায় অসংখ্য আকর্ষণীয় টিকটক ভিডিও তৈরি করেন। তরুণ ভোটারদের মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলে দেয় বিভিন্ন ভিডিও। টিকটকের মতো মাধ্যমে ছোট, সরাসরি ও প্রাসঙ্গিক ভিডিও বার্তা দ্রুত ভাইরাল হয়। এই মাধ্যম ব্যবহার করে মামদানি ঐতিহ্যবাহী প্রচারণার বাইরে গিয়ে সরাসরি ভোটারদের কাছে নিজের তথ্য পৌঁছাতে সক্ষম হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে প্রথম বা দ্বিতীয় প্রজন্মের অভিবাসী ও ক্যাবচালকদের মতো খেটে খাওয়া মানুষকে আকৃষ্ট করেন মামদানি।

ফেসবুকে মামদানির অনুসারীর সংখ্যা ৭ লাখ ৯৫ হাজারের বেশি। এই পেজ থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওর কোনো কোনোটি ২০ থেকে ৫০ লাখের বেশি ভিউ পেয়েছে। নিজের প্রতিদিনকার প্রচারণাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফেসবুকে ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁকে নিয়ে কেউ কোনো ভাইরাল রম্য বা হাস্যকর ভিডিও করলে তা–ও প্রকাশ করেন মামদানি। মামদানি তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণায় জেন–জি প্রজন্মের আগ্রহকে গুরুত্ব দিয়ে ভিডিও ধারণ ও সংগীত ব্যবহার করেন। বিভিন্ন আলাপচারিতার ভিডিও নিজের ফেসবুক ও অন্যান্য পোর্টালে প্রকাশ করেন। বিভিন্ন ভিডিওতে মামদানি শুধু বক্তব্য দেননি, মানুষের বাস্তব অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে আলাপ করেন। তাঁর প্রচারণায় যুক্ত থাকা বিশেষজ্ঞ এপস্টাইনের মতে, অনলাইনে মামদানির সাফল্যের একটি প্রধান কারণ ছিল তাঁর একটি সুস্পষ্ট অর্থনৈতিক এজেন্ডা। জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর ওপর জোর দেন তিনি।

সূত্র: ফাইন্যানশিয়াল টাইমস

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: ব যবহ র কর ম মদ ন র ফ সব ক ট কটক

এছাড়াও পড়ুন:

নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের ২১ অঙ্গরাজ্যে খাদ্যসহায়তা বন্ধের হুমকি ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রে যেসব অঙ্গরাজ্য ফেডারেল খাদ্যসহায়তা কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের তথ্য-উপাত্ত ফেডারেল সরকারের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ মানতে চাইছে না, তাদের তহবিল বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। গতকাল মঙ্গলবার ট্রাম্প প্রশাসনের কৃষিমন্ত্রী ব্রুক রোলিন্স এমন হুমকি দিয়েছেন। তথ্য-উপাত্ত না দিতে ইতিমধ্যে ডেমোক্র্যাট সমর্থিত অঙ্গরাজ্যগুলো আইনি লড়াই চালাচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন মন্ত্রিপরিষদ বছরের শেষ বৈঠকটি করেছে। বৈঠক চলাকালে রোলিন্স মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে ২১টি অঙ্গরাজ্য এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলার বিষয়ে কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি দপ্তর (ইউএসডিএ) অঙ্গরাজ্যগুলোর কাছ থেকে সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিসট্যান্স প্রোগ্রামের (এসএনএপি) সুবিধাভোগীদের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া নিয়ে এ মামলার সূত্রপাত হয়েছে। এসএনএপি কর্মসূচিকে ‘ফুড স্ট্যাম্পস’ বলেও ডাকা হয়ে থাকে। এ কর্মসূচির আওতায় নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্যসামগ্রী কিনতে পারে।

২০২৪ অর্থবছর নাগাদ এই কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪ কোটি ১৭ লাখ, যা মোট মার্কিন বাসিন্দাদের প্রায় ১২ শতাংশ।

ইউএসডিএর নির্দেশ মানতে গেলে অঙ্গরাজ্যগুলোকে সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর, জন্মতারিখ ও বাড়ির ঠিকানার মতো তথ্যগুলো ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে সরবরাহ করতে হবে। সমালোচকদের আশঙ্কা, এভাবে তথ্য হস্তান্তর করা হলে তাতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার লঙ্ঘন হতে পারে।

তবে গতকাল মন্ত্রিসভার বৈঠকে রোলিন্স বলেন, সম্ভাব্য জালিয়াতি চিহ্নিত করা এবং মার্কিন করদাতাদের সুরক্ষার জন্য এই তথ্য প্রয়োজন।

রোলিন্স বলেন, ‘আমরা প্রথমবারের মতো সব অঙ্গরাজ্যকে তাদের তথ্য-উপাত্ত ফেডারেল সরকারের কাছে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। আমরা চাইছি তাদের সঙ্গে কাজ করার মধ্য দিয়ে ইউএসডিএ যেন এসব জালিয়াতি নির্মূল করতে পারে এবং নিশ্চিত হতে পারে যে তারা সত্যিই ফুড স্ট্যাম্পের যোগ্য।’

রোলিন্স আরও বলেন, ‘রিপাবলিকান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ২৯টি অঙ্গরাজ্য তথ্য দিতে রাজি হয়েছে, যা প্রত্যাশিতই ছিল। এই জালিয়াতি সম্পর্কিত সব তথ্য-উপাত্তও মূলত এখান থেকেই পাওয়া যায়। কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়া, নিউইয়র্ক ও মিনেসোটার মতো ২১টি অঙ্গরাজ্য, যেগুলো ডেমোক্রেটিক ঘাঁটি বলে পরিচিত, তারা এখনো না বলে যাচ্ছে।’

এর ফলে ওই ডেমোক্র্যাট-সমর্থিত অঙ্গরাজ্যগুলো আর তাদের এসএনএপি সুবিধাভোগীদের জন্য নির্ধারিত ফেডারেল সহায়তা পাবেন না বলে উল্লেখ করেন রোলিন্স।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘সুতরাং আগামী সপ্তাহ থেকে আমরা শুরু করে দেব এবং ওই সব অঙ্গরাজ্য আমাদের নির্দেশ না মানা পর্যন্ত আমরা ফেডারেল তহবিল পাঠানো বন্ধ রাখব।’

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা বন্ধে নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইক যে সিদ্ধান্ত নিল
  • নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের ২১ অঙ্গরাজ্যে খাদ্যসহায়তা বন্ধের হুমকি ট্রাম্প প্রশাসনের