অনলাইন–মিরসরাইয়ে ১১ কোটি ডলারের বিনিয়োগ, ৭৫০০ জনের কর্মসংস্থান হবে
Published: 6th, November 2025 GMT
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১১ কোটি ১৩ লাখ ডলার বিনিয়োগ করবে দেশি-বিদেশি চারটি প্রতিষ্ঠান। তারা জুতা, চামড়া প্রক্রিয়াজাত ও তৈরি পোশাক খাতের সরঞ্জাম উৎপাদনে শিল্পকারখানা এবং পণ্য পরীক্ষাগার স্থাপনে এই বিনিয়োগ করবে। এতে সাড়ে ৭ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। চারটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)।
আজ বৃহস্পতিবার বেপজা কমপ্লেক্সে চুক্তি সই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন। বেপজার পক্ষে সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো.
চারটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগটি চীনের তাই মা শুজ (বিডি) কোম্পানির। তারা ৫ কোটি ৫১ লাখ ডলার বিনিয়োগে একটি জুতা তৈরির কারখানা স্থাপন করবে। কারখানাটিতে বছরে ৭০ লাখ জোড়া জুতা উৎপাদিত হবে। ৫ হাজার ৯০০ জনের কর্মসংস্থান হবে। এ ছাড়া সিঙ্গাপুরের বাংলাদেশ সংশিন লেদার কোম্পানি ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা করবে। প্রতিষ্ঠানটি ক্রাস্ট লেদার থেকে বছরে ৩ কোটি ৬০ লাখ বর্গফুট ফিনিশড লেদার উৎপাদন করবে। এতে পাঁচ শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
চীন-সিঙ্গাপুর মালিকানাধীন অ্যানরে হোল্ডিং (বিডি) কোম্পানি ২ কোটি ডলার বিনিয়োগ করে একটি সেবামুখী পরীক্ষাগার স্থাপন করবে। এটি বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলের শিল্পকারখানায় উৎপাদিত পণ্য ও কাঁচামালের মান পরীক্ষার সুবিধা প্রদান করবে। এতে ৭৭০ জন বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান র্যাপটক্স ইন্ডাস্ট্রিজ ১ কোটি ১২ লাখ ডলারের বিনিয়োগে তৈরি পোশাকশিল্পের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম উৎপাদন করবে। এতে কর্মসংস্থান হবে ৪৫৭ জনের।
উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
বাগমারায় স্নাতকের শিক্ষার্থীকে ‘চিকিৎসক’ বানিয়ে চোখের অস্ত্রোপচারের চেষ্টা, বাবা-ছেলের দণ্ড
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় অনুমোদনহীন একটি চক্ষু হাসপাতাল চালিয়ে পাঁচ রোগীর চোখে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এক পল্লিচিকিৎসক ও উচ্চমাধ্যমিক পাস করা তাঁর ছেলে। ঠিক এমন সময় সেখানে হাজির হয়ে অস্ত্রোপচার কক্ষ থেকে ওই রোগীদের উদ্ধার করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বাবাকে অর্থদণ্ড ও ছেলেকে দেওয়া হয় কারাদণ্ড।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার ভবানীগঞ্জ কলেজ মোড়ে আল মক্কা-মদিনা চক্ষু হাসপাতাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। নিজেকে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক পরিচয় দিতেন উপজেলার বাসুপাড়া ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন (৪৩)। এ ছাড়া তাঁর ছেলে ফায়সাল আহমেদ (২১) নিবন্ধিত চক্ষুবিশেষজ্ঞ পরিচয়ে হাসপাতালটি পরিচালনা করে আসছিলেন। গতকাল রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে হেলাল উদ্দিনকে এক লাখ টাকার অর্থদণ্ড এবং ফায়সালকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, হেলাল উদ্দিন একজন পল্লিচিকিৎসক এবং তাঁর ছেলে ফায়সাল উচ্চমাধ্যমিক পাস করে স্নাতকের শিক্ষার্থী।
ভ্রাম্যমাণ আদালত ও স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে ভবানীগঞ্জ কলেজ মোড়ে ‘আল মক্কা-মদিনা চক্ষু হাসপাতাল’ নামে পাঁচ শয্যার একটি বেসরকারি হাসপাতাল চালু করেন হেলাল উদ্দিন। তবে হাসপাতাল পরিচালনার কোনো নিবন্ধন বা সরকারি অনুমতি ছিল না। ফায়সালের মাধ্যমেই অস্ত্রোপচারসহ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল।
গতকাল বিকেলে ওই হাসপাতালে পাঁচ রোগীকে চোখের অস্ত্রোপচারের জন্য জড়ো করা হয়। অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তাঁদের চোখে ড্রপও দেওয়া হয়েছিল। খবর পেয়ে সন্ধ্যায় অভিযান চালান ইউএনও মাহবুবুল ইসলাম। এ সময় অস্ত্রোপচার কক্ষেই পাওয়া যায় ওই পাঁচ রোগীকে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাইলে কেউ কোনো নথি দেখাতে পারেননি।
অভিযানের সময় ফায়সাল আহমেদ নিজেকে চক্ষুবিশেষজ্ঞ পরিচয় দেন। তাঁর দেওয়া সনদ ও নিবন্ধন নম্বর অনলাইনে যাচাই করে দেখা যায়, সেটি আরেকজন চিকিৎসকের। পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ফায়সাল নিজেকে ভুয়া চিকিৎসক বলে স্বীকার করেন। হাসপাতালের কোনো বৈধ নথি, চিকিৎসার মান, পরিবেশ কিংবা চিকিৎসক না থাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালত ফায়সালকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং তাঁর বাবা হেলাল উদ্দিনকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড (অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড) দেন। অর্থ পরিশোধের পর হেলাল উদ্দিন মুক্তি পান। অন্যদিকে ফায়সালকে রাতেই কারাগারে পাঠানো হয়।
ইউএনও মাহবুবুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালটিতে একজন ঝাড়ুদার ছাড়া আর কোনো চিকিৎসক বা চিকিৎসাকর্মী পাওয়া যায়নি। অন্য চিকিৎসকের নিবন্ধন ব্যবহার করে অবৈধভাবে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। অস্ত্রোপচারের জন্য আনা পাঁচ রোগীকেও উদ্ধার করে বাড়ি পাঠানো হয়েছে।