কম্পিউটারবিজ্ঞানে স্নাতক আফিফুরের গফরগাঁওয়ে প্রযুক্তি শিক্ষার উদ্যোগ
Published: 9th, November 2025 GMT
তথ্যপ্রযুক্তির যুগে বাংলাদেশি তরুণেরা যেখানে বিদেশে পাড়ি জমান ভালো চাকরির আশায়, সেখানে ময়মনসিংহের আফিফুর রহমান বেছে নিয়েছেন ভিন্ন পথ। কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশলে পাস করে দেশের বাইরে নয়, ফিরে গেছেন নিজ উপজেলায়, ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের ষোলহাসিয়া গ্রামে। প্রযুক্তির জ্ঞানকে ছড়িয়ে দিয়ে গড়ে তুলছেন ভবিষ্যতের ডিজিটাল নাগরিকদের।
মানবসম্পদ গড়ার কারিগর
আফিফুর রহমান, বর্তমানে একজন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) শিক্ষক ও প্রশিক্ষক। ২০১৭ সালে প্রথম ৩ জন শিক্ষার্থী নিয়ে তাঁর বন্ধুর কোচিং সেন্টারের একটি কক্ষে শুরু করেন টিউশনি। দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লে তিনি আলাদা একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে পড়ানো শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন কোরডেফট আইসিটি প্রাইভেট প্রোগ্রাম ও কোরডেফট কম্পিউটার ট্রেনিং ইনস্টিটিউট। কোরডেফট আইসিটি প্রাইভেট প্রোগ্রামের আওতায় পড়ানো হয় উচ্চমাধ্যমিক স্তরের আইসিটি বিষয় এবং কোরডেফট কম্পিউটার ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে শেখানো হয় বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৩ মাস ও ৬ মাস মেয়াদি সার্টিফিকেট ইন কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন কোর্স এবং সেই সঙ্গে ৩ মাস মেয়াদি গ্রাফিক ডিজাইন কোর্স।
আফিফুরের চাকরিজীবন
ঢাকার আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এআইইউবি) থেকে বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে স্নাতক (সম্মান) হয়ে আফিফুরের লক্ষ্য ছিল উচ্চতর ডিগ্রির জন্য বিদেশে যাওয়া। পরিবারে একমাত্র ছেলে হওয়ায় বাবা-মায়ের আপত্তিতে সেই স্বপ্ন স্থগিত রাখেন। সিদ্ধান্ত নেন, দেশেই পেশাজীবন গড়বেন। পরবর্তী সময়ে একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে চট্টগ্রামে চাকরির সুযোগ পেয়েও সেখানে না গিয়ে নিজ জেলা ময়মনসিংহের ক্যাপিটাল কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন।
চোখ বাঁচাতে চাকরি ছাড়েন
পরবর্তী সময়ে তিনি ঢাকায় দুটি কোম্পানিতে ওয়েব ডেভেলপার হিসেবে কাজ করেন। একটিতে ৬ মাস ও অন্যটিতে ৩ মাসের মতো চাকরি করেন। সে জায়গায় কাজটি ছিল সম্পূর্ণ কম্পিউটার–নির্ভর। কয়েক মাস পরই তাঁর জন্য চাকরিটি করা কঠিন হয়ে পরে। দীর্ঘ সময় কম্পিউটার পর্দায় তাকিয়ে থাকার কারণে, আফিফুরের চোখে দেখা দেয়, ‘ড্রাই আই সিনড্রোম’। চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে তাঁরা জানান, দীর্ঘ সময় কম্পিউটারে কাজ করা আফিফুরের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। অনতিবিলম্বে তাঁকে পেশা পরিবর্তনের পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। চোখ বাঁচাতে চাকরি ছাড়েন আফিফুর। এরপর ভিন্ন ভিন্ন পেশায় কয়েকটি চাকরি সন্ধান করেন। কিন্তু আশানুরূপ না হওয়ায় সিদ্ধান্ত নেন নিজ গ্রামে ফিরে যাওয়ার।
নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়া
নিজ উপজেলা ময়মনসিংহের গফরগাঁও ফিরে গিয়ে পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ান। ধীরে ধীরে দেখলেন, তিনি ছাড়া বন্ধুরা সবাই ব্যস্ত, বারবার আড্ডা দিতে ডাকলে তাঁরাও কিছুটা বিরক্তই হন। খোঁজ নিয়ে জানলেন, বেশির ভাগ বন্ধুই মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের ইংরেজি, পদার্থ, গণিত ইত্যাদি বিষয়ে প্রাইভেট পড়াচ্ছেন। পরবর্তী সময়ে বন্ধুদের উৎসাহে তিনি অবসর সময় কাটানোর জন্য মাত্র ৩ জন শিক্ষার্থী নিয়ে প্রাইভেট পড়ানো শুরু করেন।
ক্লাস নিচ্ছেন আফিফুর রহমান.উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
আনিসুলের প্রথম সেঞ্চুরিই কি ডাবল সেঞ্চুরি হবে
খুলনার ৩০২ রান, নাসিরের ৩ উইকেট
বগুড়ায় রংপুরের বিপক্ষে সুবিধা করতে পারেননি খুলনার ব্যাটসম্যানরা। তবে একজন ব্যাটসম্যানের হাফ সেঞ্চুরির পরও তারা প্রথম দিন শেষ করেছে ৯ উইকেটে ৩০২ রান নিয়ে। ১ ছক্কা ও ১১ চারের ইনিংসে ৫৫ বলে ৫৬ রান করে খুলনার সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক সৌম্য সরকার। খুলনার ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৬ রান এসেছে জিয়াউর রহমানের ব্যাট থেকে। রংপুরের হয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন নাসির হোসেন।
শিরোপার লড়াইয়ে সিলেট
রাজশাহীতে শীর্ষ দল হিসেবে বরিশালের মুখোমুখি হয়েছে সিলেট বিভাগ। জিতলেই চ্যাম্পিয়ন এমন ম্যাচে তিন পেসার রেজাউর রহমান, ইবাদত হোসেন ও খালেদ আহমেদকে ছাড়াই খেলছে তারা। সকালে তাদের অভাবও কিছুটা অনুভব করেছে তারা।
৩ উইকেটে ১৮৮ রান তুলে ফেলেছিল বরিশাল। তবে শেষ বিকেলে দলটির আরও ৬ উইকেট তুলে নিয়ে ফেরার বার্তা দিয়েছে সিলেট। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন ডানহাতি পেসার মহিউদ্দিন তারেক, ২ উইকেট পেয়েছেন আবু জায়েদ চৌধুরীও। বরিশালের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৩ রান এসেছে ওপেনার ইফতেখার হোসেনের ব্যাটে। ৯ উইকেটে ২৬৯ রান নিয়ে কাল তারা দিন শুরু করবে।
লড়াই চালাচ্ছে ময়মনসিংহও
পয়েন্ট তালিকার দুইয়ে থাকা ময়মনসিংহ প্রথম দিন দাপট দেখিয়েছে। রাজশাহীকে প্রথম ইনিংসে ২১৯ রানে অলআউট করে দিয়ে ২ উইকেটে ৭৩ রান করেছে তারা। খালেদ হাসান ৬০ বলে ২৮ ও আরিফুল ইসলাম ১৪ বলে ৫ রান নিয়ে কাল দিন শুরু করবেন।
এর আগে ময়মনসিংহের হয়ে বল হাতে নেতৃত্ব দেন আবু হায়দার। ১২ ওভারে ৬১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন তিনি। দুটি করে উইকেট আসাদুল্লাহ হিল গালিব ও রাকিবুল হাসানের। রাজশাহীর হয়ে সর্বোচ্চ ৮১ রান করেন নাঈম আহমেদ।
আরও পড়ুনসিলেট, ময়মনসিংহ নাকি অন্য কোনো দল—কারা হবে চ্যাম্পিয়ন৯ ঘণ্টা আগে