যুব শক্তির কমিটি ঘোষণার ২৫ মিনিটের মধ্যেই চারজনের পদত্যাগ
Published: 9th, November 2025 GMT
শরীয়তপুরে জাতীয় যুব শক্তির কমিটি ঘোষণার ২৫ মিনিটের মধ্যেই পদত্যাগ করেছেন সদ্য ঘোষিত কমিটির সদস্য সচিব আমিন মোহাম্মদ জিতুসহ চারজন।
বাকি তিনজন হলেন, কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. কামাল হোসেন সরল, যুগ্ম-সদস্য সচিব সাবরিন ইসলাম ও সংগঠক রবিউল হাসান।
আরো পড়ুন:
স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে এনসিপি থেকে পদত্যাগ
গোপালগঞ্জে গণঅধিকার পরিষদের ৫৯ নেতার পদত্যাগ
শনিবার (৮ নভেম্বর) রাতে থেকে তারা দফায় দফায় ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দিয়ে পদত্যাগ করেন।
জানা যায়, শনিবার রাতে জাতীয় যুব শক্তি শরীয়তপুর জেলা শাখায় ১ বছরের জন্য ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটি অনুমোদন করেছেন, সংগঠনটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো.
কমিটি ঘোষণার পরই ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্টে পদত্যাগের স্ট্যাটাস দেন সদ্য ঘোষিত কমিটির সদস্য সচিব আমিন মোহাম্মদ জিতু।
তিনি ওই স্ট্যাটাসে লেখেন, “আমি, আমিন মোহাম্মদ জিতু, জাতীয় যুব শক্তি এনসিপির সদ্য ঘোষিত জেলা কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছি। তবে ব্যক্তিগত কিছু বিশেষ কারণে বর্তমানে আমি এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে অসমর্থ। সংগঠনের কার্যক্রমে যাতে বিঘ্ন সৃষ্টি না হয় এবং দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন অব্যাহত রাখতে পারে এমন কাউকে সুযোগ দেওয়ার স্বার্থে আমি সদস্য সচিব পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
শেষে তিনি লেখেন, “আমি সংগঠনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবো এবং ভবিষ্যতেও সংগঠনের অগ্রযাত্রায় পাশে থাকার চেষ্টা করবো।”
একইভাবে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে বাকি তিনজন ফেসবুকে পদত্যাগের স্ট্যাটাস দেন।
এ বিষয়ে আমিন মোহাম্মদ জিতু বলেন, “আমি পূর্বে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে ছিলাম। গতকাল (শনিবার) জাতীয় যুব শক্তি জেলা কমিটিতে আমাকে সদস্য সচিব হিসেবে রাখা হয়েছে বলে কমিটি ঘোষণার পর জানতে পেরেছি। তবে আমার ব্যক্তিগত কারণে কমিটির পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। লিখিত পদত্যাগপত্র যথাসময়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।”
যুগ্ম-আহ্বায়ক পদ পাওয়া মো. কামাল হোসেন সরল বলেন, “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলন জেলা কমিটিতে একজন আহত যোদ্ধা হিসেবে মূল্যায়ন না করে ৪১ নাম্বারে রাখা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে নড়িয়ার উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখবে বলে কথা দিয়েছিল। কিন্তু তা করা হয়নি। এছাড়া আমি আমার ব্যক্তিগত কারণে এ পথ থেকে অব্যাহতি নিয়েছি।”
বিষয়টি জানতে সদ্য ঘোষিত কমিটির আহ্বায়ক কাওসার মৃধা বলেন, “যারা পদত্যাগ করেছে ফেসবুকে তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। অফিসিয়ালি কোনো পদত্যাগপত্র এখন পর্যন্ত জমা দেয়নি তারা। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাব। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।”
ঢাকা/আকাশ/মেহেদী
উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর পদত য গ এনস প ফ সব ক কম ট র স গঠন
এছাড়াও পড়ুন:
পেছনে ফিরে দেখেন ছেলে নেই, গর্তের ভেতর থেকে ডাকছে ‘মা, মা’ বলে
রাজশাহীর তানোরে ৩০-৩৫ ফুট গভীর গর্তে পড়ে যাওয়া শিশুটিকে উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস। খননযন্ত্র দিয়ে মাটি খোঁড়ার কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখতে অক্সিজেন সরবরাহও অব্যাহত রাখা হয়েছে।
বুধবার বেলা একটার দিকে তানোরে সাজিদ নামের দুই বছর বয়সী শিশুটি গভীর গর্তে পড়ে যায়। শিশুটি তার মায়ের হাত ধরে কেটে নেওয়া ধানের খেতে হাটছিল। হঠাৎ সে গর্তে পড়ে যায়। সাজিদ উপজেলার কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামের রাকিবের ছেলে। রাকিব ঢাকায় একটি জুট মিলের ব্যবস্থাপক হিসেবে চাকরি করেন। তিনি এখনো বাড়িতে পৌঁছাতে পারেননি।
আরও পড়ুনরাজশাহীতে দুই বছরের শিশু ৩০ ফুট গভীর গর্তে, ফায়ার সার্ভিস অক্সিজেন দিচ্ছে২ ঘণ্টা আগেশিশুটির মা রুনা খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, বেলা একটার দিকে মেজ ছেলে সাজিদের হাত ধরে তিনি বাড়ির পাশে মাঠে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাঁর ছোট একটি সন্তান কোলে ছিল। হাঁটার সময় হঠাৎ সাজিদ মা বলে ডেকে ওঠে। তিনি পেছনে তাকিয়ে দেখেন, ছেলে নেই, গর্তের ভেতর থেকে ‘মা, মা’ বলে ডাকছে। গর্তটির ওপরে খড় বিছানো ছিল। ওখানে যে গর্ত ছিল, সেটা তিনিও বুঝতে পারেননি, ছেলেও। ওই জায়গায় পা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছেলে গর্তের ভেতর পড়ে গেছে। লোকজনকে ডাকতে ডাকতেই ছেলে গর্তের নিচে চলে যায়।
ফায়ার সার্ভিসের রাজশাহী বিভাগের সহকারী পরিচালক দিদারুল আলম জানান, শিশুটি গর্তে পড়ে যাওয়ার খবর তাঁরা পেয়েছেন বেলা আড়াইটার দিকে। এসে দেখেন, স্থানীয় লোকজন চেষ্টা করতে গিয়ে গর্তের ভেতরে কিছু মাটি ফেলেছেন। বিকেল চারটা পর্যন্ত শিশুটির সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল। পরে মানুষের হট্টগোলের কারণে আর সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।
উদ্ধারপ্রক্রিয়া নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ওই কর্মকর্তা বলেন, ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় ও নিরাপদে উদ্ধারে সব ধরনের চেষ্টা চলছে। বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে ওই গর্তের পাশে এক্সকাভেটর দিয়ে আরেকটি গর্ত খোঁড়া হচ্ছে। রাত পৌনে আটটা পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত খোঁড়া হয়েছে। মাটি সরানোর কাজে লাগানো হয়েছে দুটি ট্রাক্টর। খননকাজ শেষ হতে আরও কয়েক ঘণ্টা লাগতে পারে।
স্থানীয় লোকজন জানান, রাজশাহীর তানোর উপজেলার পচন্দর ইউনিয়নের এই গ্রামে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। এ এলাকায় এখন গভীর নলকূপ বসানোর বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আছে। এ অবস্থার মধ্যে কোয়েলহাট গ্রামের এক ব্যক্তি তাঁর জমিতে পানির স্তর পাওয়া যায় কি না, সেটা যাচাই করার জন্য গর্তটি খনন করেছিলেন। সেই গর্ত ভরাটও করেছিলেন, কিন্তু বর্ষায় মাটি বসে গিয়ে নতুন করে গর্ত হয়। সেই গর্তেই শিশুটি পড়ে যায়।
উদ্ধারকাজ দেখার জন্য এলাকার শত শত মানুষ সেখানে ভিড় করছেন। রাত সোয়া আটটার দিকে তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহীনুজ্জামান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য দড়ি টানিয়ে ঘটনাস্থল ঘিরে রাখা হয়েছে।