ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের লিংক রোডের সিদ্ধিরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারী গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। রবিবার (৯ নভেম্বর) সকালে জলকুড়ি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আন্ডারপাসের পূর্ব পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ওই নারীর পা বিচ্ছিন্ন হয় বলে জানা গেছে। 

স্থানীয়রা জানায়,  সাইনবোর্ড থেকে চাষাড়া গামী একটি কাভার্ডভ্যান (ঢাকা মেট্রো-উ ১১-১৭৬৯) একই পথে চলমান একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে দুই আরোহীর একজন অজ্ঞাতপরিচয় (২৪) নারী ছিটকে পড়ে যান। 

এসময় কাভার্ডভ্যানটির চাকা তার ডান পায়ের উপর দিয়ে গেলে হাঁটুর নিচ থেকে পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় পথচারীরা দ্রুত আহত নারীকে উদ্ধার করে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতাল পাঠান। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুর্ঘটনাকবলিত কাভার্ডভ্যান ও মোটরসাইকেলটি জব্দ করে। 

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সকালে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এ সময় মোটরসাইকেলের নারী গুরুতর আহত হয়। দুর্ঘট নেতার পা বিচ্ছিন্ন হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতাল  পাঠানো হয়েছে। মোটরসাইকেল ও কাভার্ড ভ্যান দুটিই জব্দ আছে।
 

.

উৎস: Narayanganj Times

কীওয়ার্ড: সড়ক স দ ধ রগঞ জ ন র য়ণগঞ জ দ র ঘটন

এছাড়াও পড়ুন:

রপ্তানিমুখী এফডিআই বাড়াতে কাজ করতে হবে: নাহিয়ান রহমান

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী সদস্য নাহিয়ান রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনামে যে বিপুল পরিমাণ প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে, তার বেশির ভাগই রপ্তানিমুখী শিল্প খাতে গেছে। ফলে দেশটির রপ্তানি খাত বড় হয়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের উন্নয়নেও ভিয়েতনামের এই এফডিআই মডেলের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে।

নাহিয়ান রহমান বলেন, ভিয়েতনামে যাওয়া প্রযুক্তি কোম্পানি এনভিডিয়া, ইন্টেলসহ বড় এফডিআই প্রকল্পগুলো রপ্তানিনির্ভর। অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠানের পণ্য ভিয়েতনামে উৎপাদিত হয়ে অন্যান্য দেশে রপ্তানি হচ্ছে। বিনিয়োগের পাশাপাশি দক্ষতা স্থানান্তর ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে দেশটির শিল্প খাতে সক্ষমতা বেড়েছে।

আজ বুধবার ঢাকার কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে আয়োজিত ‘রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা বলেন নাহিয়ান রহমান। গোলটেবিল বৈঠকটির আয়োজন করে প্রথম আলো, সহযোগিতায় ছিল প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ, বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রূপালী চৌধুরী, রেনাটার এমডি সৈয়দ এস কায়সার কবির, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আহসান খান চৌধুরী, এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মাহবুব উর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য সায়েমা হক বিদিশা, এলএফএমইএবির সহসভাপতি মো. নাসির খান, বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শাহজাহান চৌধুরী এবং বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সামিম আহমেদ।

বিডার নির্বাহী সদস্য নাহিয়ান রহমান বলেন, বাংলাদেশে ১৯৮০ সালের দিকে তৈরি পোশাক খাতে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কিছু রপ্তানিমুখী বিদেশি বিনিয়োগ এসেছিল। এর মাধ্যমে দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ে, যা পরে দেশের প্রধান রপ্তানি খাতে পরিণত হয়। অন্যান্য খাতেও এভাবে রপ্তানিমুখী বিনিয়োগ অংশীদারত্ব তৈরি করা যেতে পারে।

নাহিয়ান রহমান বলেন, বর্তমান ‘ট্যারিফ ফোবিয়ার’ সময়ে রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ অপরিহার্য। রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে হলে তৈরি পোশাক ছাড়াও অন্যান্য খাত থেকে অন্তত ২০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় আসতে হবে। সে লক্ষ্য অর্জনে তৈরি পোশাকের বাইরের খাতগুলোতে প্রবৃদ্ধি আড়াই গুণ বাড়াতে হবে।

বিডার এই নির্বাহী সদস্য আরও বলেন, একটি ছোট অর্থনীতিতে প্রাথমিকভাবে এক-দুটি খাতে বেশি নজর দেওয়া স্বাভাবিক। যেমন ষাট–সত্তরের দশকে কোরিয়ার তৈরি পোশাক ছিল প্রধান রপ্তানি খাত। পরে তারা অন্যান্য খাতে বিস্তার ঘটিয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সঠিক খাত চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী প্রাধান্য দেওয়াই মূল চ্যালেঞ্জ।

ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে বিডা নিয়মিত কাজ করছে জানিয়ে নাহিয়ান রহমান বলেন, দেশের রপ্তানি খাতের সম্ভাবনাময় শীর্ষ খাতগুলো চিহ্নিত করতে ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়েছে বিডা। বিনিয়োগ, দক্ষতা স্থানান্তর ও রপ্তানি সম্ভাবনার আলোকে আটটি খাত নিয়ে একটি হিটম্যাপও তৈরি করা হয়েছে। বিডায় আটটি খাতের জন্য আলাদা ডেস্ক আছে। ব্যবসায়ীরা এসব খাতের বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও প্রয়োজনীয় তথ্য বিডা থেকে জানতে পারবেন। সরকারও এসব খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে নীতি নির্ধারণ করতে পারে।

নাহিয়ান রহমান আরও বলেন, ‘নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার’ (অশুল্ক বাধা) দূর করতে ব্যবসায়ীদের সরাসরি সহযোগিতা প্রয়োজন। বিডা নিয়মিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়-দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করছে। ব্যবসায়ীরা সুনির্দিষ্টভাবে সমস্যা, তথ্য ও উদাহরণ দিলে সরকার সহজেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে পারবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ