খাটে ঘুমিয়ে ছিল সন্তানেরা, দোলনার শিকলে ঝুলছিল মায়ের মরদেহ
Published: 9th, November 2025 GMT
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রামের একটি বাড়ির শোবার ঘর থেকে সীমা আক্তার (২৭) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সকালে উপজেলার খট্টা মাধবপাড়া ইউনিয়নের সাতকুড়ি গ্রাম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
মৃত সীমা আক্তার ওই গ্রামের রমিন ইসলামের স্ত্রী। তাঁর সাত ও দেড় বছর বয়সী দুটি সন্তান আছে। স্বামী রমিন ইসলাম রাজধানী ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। পারিবারিক কলহের জেরে গতকাল শনিবার রাতে দোলনার শিকলে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি ‘আত্মহত্যা’ করেছেন বলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন জানিয়েছেন। তবে সীমার স্বজনদের দাবি, তাঁকে হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়।
পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মৃতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে গতকাল রাতে সীমার সঙ্গে তাঁর শাশুড়ি রোকেয়া বেগমের ঝগড়া হয়। পরে রাতের খাবার না খেয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে নিজের ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন সীমা। আজ সকালে মেয়ে মরিয়মের (৭) ঘুম ভেঙে গেলে সে মাকে বিছানায় দেখতে না পেয়ে খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে লাগানো দোলনায় ওড়না পেঁচিয়ে মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায় সে। তখন চিৎকার দিয়ে ঘরের দরজা খুলে দাদা-দাদিকে ডাক দেয়। পরে দাদা-দাদি ঘরে ঢুকে সীমাকে মৃত অবস্থায় ঝুলে থাকতে দেখেন।
তবে সীমা আক্তারের স্বজনেরা দাবি করেছেন, তিন দিন ধরে সীমার সঙ্গে তাঁর শাশুড়ির ঝগড়া হয়। বাড়ির সামনে রাস্তায় ফেলে মারধরও করেছেন। মারধর করে আগে একবার হাত ভেঙে দিয়েছিলেন। গতকাল রাতে ঝগড়ার পর আজ সীমাকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়। তাঁরা সীমার শাশুড়িকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হক বলেন, আজ সকালে উপজেলার সাতকুড়ি গ্রাম থেকে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক সুরতহালে তাঁর শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের জন্য দুপুরে মরদেহ দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর হত্যা নাকি আত্মহত্যা, সেটা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: মরদ হ
এছাড়াও পড়ুন:
বাংলাদেশে জ্যাক মোটরসের নতুন পরিবেশক র্যানকন
বাংলাদেশে জ্যাক মোটরসের পরিবেশক হয়েছে র্যানকন। এর ফলে জ্যাক মোটরসের গাড়ি বিক্রির পাশাপাশি বিক্রয়োত্তর সেবা দেবে র্যানকন। গত শনিবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি জ্যাক মোটরসের ‘টি৯ হান্টার’ ও ‘টি৮’ মডেলের পিকআপ ভ্যান ও এন সিরিজের ট্রাক উন্মোচন করা হয়। আজ সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে র্যানকন।
অনুষ্ঠানে র্যানকন গ্রুপের গ্রুপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক রোমো রউফ চৌধুরী বলেন, ‘র্যানকন সব সময়ই আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত ব্র্যান্ড ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি বাংলাদেশের বাজারে নিয়ে এসেছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার জ্যাক মোটরসের অফিশিয়াল পরিবেশক হতে পেরে আমরা আনন্দিত। জ্যাক মোটরসের নতুন গাড়ি ও ট্রাকগুলো বাংলাদেশের বাজারে ব্যাপক সাড়া ফেলবে বলে আমি আশাবাদী।’
র্যানকন গ্লোবাল ট্রাকস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শন হাকিম বলেন, ‘গ্রাহকদের সর্বোচ্চ মানের সেবা নিশ্চিতে র্যানকনের দেশব্যাপী বিস্তৃত অটোমোটিভ সার্ভিস নেটওয়ার্ক ব্যাপক সহায়ক হবে বলে আমার বিশ্বাস।’
র্যানকনের তথ্যমতে, নতুন ‘টি৯’ হান্টার ডাবল কেবিন ৪ বাই ৪ মডেলের পিকআপ ভ্যানে শক্তিশালী ২ লিটার টার্বো ডিজেল ইঞ্জিন এবং ৮ স্পিড জেডএফ অটোমেটিক ট্রান্সমিশন রয়েছে, যা সর্বোচ্চ ৪১০ এনএম পর্যন্ত টর্ক উৎপন্ন করতে পারে। আরও রয়েছে ফোর-হুইল ড্রাইভ, সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক সানরুফ, লেদার ইন্টেরিয়র, পাওয়ার ফ্রন্ট সিট, প্রিমিয়াম সাউন্ড সিস্টেম, অ্যাপেল কারপ্লে ও অ্যান্ড্রয়েড–সমর্থিত ১০.৪ ইঞ্চি স্পর্শনির্ভর পর্দা, ফ্রন্ট ও রিয়ার ডিস্ক ব্রেক, ১৮ ইঞ্চি অ্যালুমিনিয়াম অ্যালয় হুইল, এলইডি হেডলাইট ও ফগলাইট ইত্যাদি সুবিধা। ৫ বছর বা ১ লাখ কিলোমিটার পর্যন্ত বিক্রয়োত্তর সেবাসহ পিকআপ ভ্যানটির দাম ৪৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
‘টি৮’ ডাবল কেবিন ৪ বাই ৪ মডেলে আছে ২ লিটার টার্বো ডিজেল ইঞ্জিন এবং ৬ স্পিড ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশন, যা সর্বোচ্চ ৩২৯ এনএম পর্যন্ত টর্ক উৎপন্ন করতে পারে। ১৮ ইঞ্চি অ্যালয় হুইলযুক্ত পিকআপ ভ্যানটিতে লেদার কভার্ড ইন্টেরিয়র, মাল্টিফাংশনাল লেদার-বাউন্ড স্টিয়ারিং, এলইডি হেডলাইট/ফগলাইট, এবিএস সুবিধা রয়েছে। ৫ বছর বা ১ লাখ কিলোমিটার পর্যন্ত বিক্রয়োত্তর সেবাসহ পিকআপ ভ্যানটির দাম ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।