প্রথম দফার ভোটে কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পাওয়ায় চিলিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন দ্বিতীয় দফায় (রান-অফ) গড়িয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

গতকাল রোববার প্রথম দফার (ফার্স্ট রাউন্ড) ভোট অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ৮৩ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, বামপন্থী জোটের প্রার্থী জেনেট জারা ২৬ দশমিক ৭১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। তাঁর পরেই আছেন অতি ডানপন্থী রক্ষণশীল নেতা হোসে অ্যান্তোনিও কাস্ত। তিনি ২৪ দশমিক ১২ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। তাঁরা দুজন দ্বিতীয় দফার ভোটে মুখোমুখি হবেন।

চিলিতে এবারের নির্বাচন ঘিরে হত্যা, অপহরণ ও চাঁদাবাজির মতো সহিংস অপরাধ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ নিয়ে জনমনে গভীর আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বিদেশি অপরাধী চক্রের ওপর এসব অপরাধের দায় চাপানো হয়েছে।

৫৯ বছর বয়সী কাস্ত ভেনেজুয়েলার মতো উত্তরাঞ্চলের দরিদ্র দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের আটকাতে চিলি-বলিভিয়া সীমান্তে প্রাচীর, সীমান্তবেড়া ও পরিখা নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

আরও পড়ুনচিলিতে কমিউনিজম–ফ্যাসিজমের লড়াইয়ে জিতবে কে১৯ ডিসেম্বর ২০২১

৫১ বছর বয়সী জারা বিদায়ী মধ্যবামপন্থী প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিকের শ্রমমন্ত্রী ছিলেন। তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য আরও বেশি পুলিশ নিয়োগ, সংঘটিত অপরাধ মোকাবিলা করতে ব্যাংকিং খাতে গোপনীয়তা তুলে দেওয়া এবং জীবনের ব্যয়সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

আরও পড়ুনচিলিতে যে কৌশলে ক্ষমতায় প্রাক্তন ছাত্রনেতা বোরিক২৫ ডিসেম্বর ২০২১.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: অপর ধ

এছাড়াও পড়ুন:

আসন পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়ার পর ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীকে বহিষ্কার

আসন পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়ার পর পটুয়াখালী-১ (সদর, মির্জাগঞ্জ, দুমকি) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাওলাদারকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁর পরিবর্তে দলটির জেলা কমিটির সদস্য আবুল হাসান বোখারীকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার রাতে পটুয়াখালী জেলা ইসলামী আন্দোলনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা কমিটির সভাপতি হাওলাদার মো. সেলিম মিয়া বহিষ্কার আদেশসহ নতুন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, পটুয়াখালী-১ আসনে মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাওলাদারের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ পাওয়ায় তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে আসনটির জন্য ঘোষিত তাঁর মনোনয়নও বাতিল করা হয়েছে।

এর আগে গতকাল সন্ধ্যায় হাবিবুর রহমান হাওলাদার পটুয়াখালী-১ আসন থেকে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসন থেকে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন। কলাপাড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ডেকে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হাবিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, ‘আসলে আমার বাড়ি পটুয়াখালীর কলাপাড়ায়। যার কারণে পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে নির্বাচন করার স্বপ্ন ফেরি করে আমি মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়েছি। আমার ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও মুহতারাম চরমোনাইর পীর সাহেব ও দলের আমির দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাকে পটুয়াখালী সদর আসনে নির্বাচন করার জন্য নির্ধারণ করে দেন। এতে আমি হতাশ হই। তারপরেও পটুয়াখালী সদর আসনে নির্বাচন করার জন্য দুই মাস ধরে কাজ করি।’

এ সিদ্ধান্ত কলাপাড়ার ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা মানতে পারছিলেন না বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘তাঁরা আমাকে বারবার চাপ দিতে থাকে। এসব নেতা-কর্মীর একটাই কথা, আমার নিজ এলাকা পটুয়াখালী-৪ আসনেই নির্বাচন করতে হবে। নেতা-কর্মীদের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে অবহেলা করে টাকার রাজনীতির কাছে নতি স্বীকার করে আমি তাঁদের ছেড়ে যেতে পারি না। এ কারণে পটুয়াখালী সদর আসন ছেড়ে দিয়ে আমার নিজ নির্বাচনী এলাকা কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী থেকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

পটুয়াখালী-৪ আসনে দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে মুফতি হাবিবকে স্থানীয় বিএনপি ইন্ধন দিচ্ছে। মুফতি হাবিব মোটরসাইকেল নিয়ে কলাপাড়া পৌর শহরে এক-দেড় শ লোক নিয়ে একটা মহড়া দিয়েছেন, তাতে যাঁরা যুক্ত ছিলেন, তাঁদের বেশির ভাগই বিএনপির নেতা-কর্মী। এতে আমার তেমন ক্ষতি হবে না; বরং ইসলামী আন্দোলনের সাচ্চা নেতা-কর্মীরা ইমানি শক্তিতে বলীয়ান হয়ে আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোটের মাঠে কাজ করবেন। এ নিয়ে আমরা একটুও বিচলিত নই।’

সম্পর্কিত নিবন্ধ