মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের মামলার রায়কে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ডাকা দুই দিনের ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি চলছে। এই কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন সোমবার (১৭ নভেম্বর) সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। 

ঢাকার প্রবেশমুখ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তারা। সড়কে টহল দিচ্ছে সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশ সদস্যরা। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশেপাশে বসানো হয়েছে সাঁজোয়া যান। তবে, সড়কে বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপির নেতাকর্মীদের অবস্থান লক্ষ্য করা যায়নি।

আরো পড়ুন:

মুরগির ঘরে মিলল নানি ও নাতি-নাতনির মরদেহ

কেরানীগঞ্জে থানার সামনে থাকা লেগুনায় আগুন 

ঢাকার রাস্তায় সোমবার সকাল থেকেই বিভিন্ন ধরনের যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে

রাজধানীর রামপুরা, খিলগাঁও, মৌচাক, মালিবাগ, কাকরাইল ও পল্টন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে এ চিত্র।

এদিন, সকাল থেকে ঢাকার সড়কগুলোতে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল কিছুটা কম লক্ষ্য করা গেছে। সড়কে রিকশা ও অটোরিকশার দাপট থাকলেও সীমিত পরিসরে চলছে গণপরিবহন। ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। এরপরেও কর্মমুখী মানুষ যাচ্ছেন কর্মস্থলে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকলেও উপস্থিতির হার কিছুটা কম।

রবিবার (১৬ নভেম্বর) দিবাগত রাত ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে রাজধানীর তিতুমীর কলেজের গেটের সামনের রাস্তায় ও আমতলী মোড় এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের পানির ট্যাংকির সামনের সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে আগুন দিয়েছে সন্ত্রাসীরা।

আজ সোমবার সকালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের সামনে দায়িত্বরত রামপুরা ট্রাফিক জোনের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) মো.

আনোয়ার হোসেন রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, ‍“সকাল থেকে কোনা ধরনের অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটেনি। চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সড়কে যান চলাচল অন্য দিনগুলোর মতো স্বাভাবিক রয়েছে।”

বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, “সড়কে গণপরিবহণ চলাচল করলেও অন্যান্য দিনের তুলনায় কিছুটা কম। এ জন্য মোড়ে মোড়ে বাসের অপেক্ষায় যাত্রীদের অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।”

বনশ্রীর রেডিয়েন্ট কিন্ডারগার্ডেন স্কুলের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, গত কয়েকদিন ধরে সন্তানকে স্কুলে পাঠানো হচ্ছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্কুলে পাঠাব।

 

ঢাকা/এনটি/মাসুদ

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর র স মন

এছাড়াও পড়ুন:

গাজীপুরে ফুটল ফুটি কার্পাস: খুলছে মসলিন পুনরুদ্ধারে সম্ভাবনার দ্বার

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় অবস্থিত তুলা গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বীজবর্ধন খামারে প্রাণ ফিরে পেয়েছে বিলুপ্তপ্রায় ফুটি কার্পাস গাছ। দীর্ঘদিন আগে হারিয়ে যাওয়া এই গাছের পুনরায় বিকাশ বাংলার ঐতিহ্যবাহী মসলিন কাপড় পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করছে। মসলিন কাপড় তৈরিতে যে সূক্ষ্ম সুতার প্রয়োজন হয়, তার মূল উৎস ছিল এই ফুটি কার্পাসের তুলা। 

প্রাচীন রোমান সাহিত্যিক পেট্রোনিয়াস মসলিনকে বলেছিলেন ‘হাওয়ায় বোনা কাপড়’। চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙের চোখে এটি ছিল ‘ভোরের কুয়াশায় বোনা এক বিস্ময়‘। সেই অতুলনীয় কাপড়ের মূলে যে তুলার জাদু লুকিয়ে ছিল, তা পুনরুদ্ধার হয়েছে শ্রীপুরের গবেষণা খামারে।

বিজ্ঞানলেখক আবদুল গাফফার রনির মাধ্যমে ফুটি কার্পাসের উপস্থিতির তথ্য ছড়িয়ে পড়লে গবেষকরা জানতে পারেন, কৃষক তাজউদ্দিনের বাড়ি ছাড়াও শ্রীপুরের সরকারি গবেষণা খামারেই চলছে চারটি ভিন্ন জাতের চাষ। 

কটন অ্যাগ্রোনমিস্ট মো. আবদুল ওয়াহাব জানিয়েছেন, গাজীপুরের কাপাসিয়া, দিনাজপুর, বাগেরহাট ও পার্বত্য চট্টগ্রাম—এই চার অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা চার জাতের ১৬০টি চারা গত বছরের ২৯ আগস্ট পরীক্ষামূলকভাবে খামারে রোপণ করা হয়। এক বছরের ব্যবধানে গাছগুলো মানুষের উচ্চতার দ্বিগুণ হয়ে ক্ষুদ্র বৃক্ষের আকার ধারণ করেছে। সকালে ফ্যাকাশে হলুদ আর দুপুরে গোলাপি রঙে রূপ বদলানো ফুল, শক্ত বাকল এবং তুলাভরা গুটি গবেষকদের উৎসাহ আরো বাড়িয়েছে। 

কিছু গাছ বছরে দুই বার ফুল দেয় বলেও জানিয়েছেন ওয়াহাব। তার ভাষায়—“ফুটি কার্পাস প্রায় ১৫ বছর পর্যন্ত বাঁচে। এর আঁশ খাটো হলেও অতি সূক্ষ্ম, উজ্জ্বল ও টেকসই, যা মসলিন তৈরির জন্য একেবারে আদর্শ।”

একসময় মেঘনা-শীতলক্ষ্যা নদীর তীরঘেঁষা অঞ্চলে এই গাছের ব্যাপক বিস্তার ছিল। এমনকি গাজীপুরের কাপাসিয়া নামটিও এসেছে ‘কার্পাস’ বা তুলা থেকে। কিন্তু, সময়ের ব্যবধানে এই গাছ বিলুপ্তির মুখে পড়লে তাঁত বোর্ডের মসলিন পুনরুদ্ধার প্রকল্প বড় বাধার সম্মুখীন হয়। পরে স্থানীয় পর্যায়ে প্রচার চালিয়ে রাঙামাটি ও কাপাসিয়া থেকে মোট ৩৮টি ফুটি কার্পাস সংগ্রহ করা সম্ভব হয়, যা বর্তমানে গবেষণার আওতায় পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে।

তুলা গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকর্তা আ ন ম জহির উদ্দিন বলেছেন, “সংরক্ষণ ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরিচর্যার মাধ্যমে ফুটি কার্পাস আবারও কৃষি খাতে গুরুত্বপূর্ণ উপাদানে পরিণত হতে পারে। ভবিষ্যতে এর বাণিজ্যিক চাষের পথও খুলে যেতে পারে।”

এই বিরল গাছের পুনর্জাগরণে শ্রীপুরের তুলা গবেষণা খামার এখন ঐতিহ্যপ্রেমী, গবেষক ও তাঁত শিল্প সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশার কেন্দ্র হয়ে উঠছে। বাংলার হারানো মসলিনের জৌলুস ফিরিয়ে আনার পথে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি, এমনটাই মত গবেষকদের।

ঢাকা/রফিক

সম্পর্কিত নিবন্ধ