খুলনার ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতেই প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-৬ আসন নিয়ে। এখানে ধানের শীষ প্রতীকের সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও সদ্য দায়িত্ব পাওয়া খুলনা জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব মনিরুল হাসানকে।

মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা প্রতিক্রিয়া। কেউ প্রশ্ন তুলছেন, খুলনা-৬ আসনে বিএনপির নিজস্ব প্রার্থী না পেয়ে রূপসা থেকে কেন আনা হলো? আবার কেউ বিদ্রূপ করছেন, কয়রা-পাইকগাছার মানুষকে নেতৃত্ব দিতে নাকি ‘ভাড়াটে নেতা’ দরকার! অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থীকেও ঘিরে চলছে বিতর্ক।

বহিরাগত বিতর্কের জবাবে মুখ খুলেছেন বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হাসান। আজ শুক্রবার কয়রায় নিজের নির্বাচনী কার্যালয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন তিনি। সভায় তিনি বলেন, ‘অনেকে বলছেন, ধানের শীষের প্রার্থীর বাড়ি রূপসায়, কয়রায় নয়। হ্যাঁ, আমার বাড়ি রূপসায় ঠিকই, কিন্তু বসবাস করি খুলনা শহরে। ঠিক যেমন এখানকার জামায়াতের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদও থাকেন খুলনা শহরে। জামায়াতের প্রার্থীর শিকড় দেশের বাইরের কি না, সেটা নিয়ে কিছু বলতে চাই না। আমি খুলনা জেলার ছেলে। তাই কয়রা-পাইকগাছার উন্নয়নে কাজ করতে আমার কোনো বাধা নেই।’

দীর্ঘদিনের স্থানীয় সরকারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমি টানা ১৪ বছর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলাম। রূপসায় আমার ইউনিয়নে গিয়ে জেনে আসুন, আমি কী কী উন্নয়ন করেছি। উন্নয়ন কীভাবে করতে হয়, কাজ কীভাবে আনতে হয়—সেটা আমি জানি। আমার এনার্জি আছে, পরিশ্রমের শক্তি আছে, কৌশল জানি। শুধু একবার সুযোগ দিন—দ্বিতীয়বার ভোট চাইতে আসব না। যদি মনে করেন আমি যোগ্য, তখন আপনারাই আমাকে ডেকে নেবেন।’

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়কার অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে মনিরুল হাসান বলেন, ‘এক সময় আমরা এই আসনে জামায়াতের প্রার্থীকে এমপি বানিয়েছিলাম, ভেবেছিলাম মানুষের ভাগ্য বদলাবে। কিন্তু তখন কয়রায় ক্ষমতা দেখিয়েছে জামায়াত। বিএনপির নেতা-কর্মীরা ছিলেন অসহায় দর্শক।’

কয়রার জমি দখল ও ঘের বাণিজ্যের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির প্রার্থী বলেন, ‘খুলনা শহরের অনেক প্রভাবশালী এখানে এসে হাজার হাজার বিঘা জমি দখল করে চিংড়িঘের করেছেন। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই—জমি যার, ঘের তাঁর। জোর করে জমি দখল করে ঘের করা চলবে না।’ তিনি বলেন, ‘কয়রার মানুষ কখনো ভাত-কাপড় চায়নি, তারা চেয়েছে টেকসই বেড়িবাঁধ। অতীতে হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছিল, কিন্তু বাঁধ হয়নি। টাকা গেছে লুটেরাদের পকেটে। কয়েকজনের ভাগ্য বদলেছে, কিন্তু সাধারণ মানুষ বঞ্চিতই থেকেছে।’

মতবিনিময় সভায় বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচিত হলে কয়রা-পাইকগাছার উন্নয়নে নিজের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে মনিরুল হাসান বলেন, ‘কয়রায় আড়াই শ শয্যার হাসপাতাল গড়ে তুলব, সুপেয় পানির ব্যবস্থা করব, সুন্দরবন ঘিরে পর্যটনকেন্দ্র তৈরি করব। পাইকগাছার দেলুটিতে শিবসা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করব, যাতে কয়রার মানুষ দ্রুত খুলনায় যেতে পারে। মাদকমুক্ত সমাজ ও শিক্ষার আলো ছড়ানোর কাজ করব।’

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: মন র ল হ স ন প ইকগ ছ র ব এনপ র কয়র য়

এছাড়াও পড়ুন:

অন্তরঙ্গ দৃশ্যের কারণেই সামান্থার বিবাহবিচ্ছেদ হয়

কিছুদিন আগেই নির্মাতা রাজ নিধুমুরুর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন সামান্থা রুথ প্রভু। এর আগে তিনি বিয়ে করেছিলেন তেলেগু তারকা নাগা চৈতন্যকে; কিন্তু বিয়ের মাত্র তিন বছরের মধ্যেই বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন তাঁরা। নির্মাতা রাজ ও ডিকের সিরিজ ‘দ্য ফ্যামিলি ম্যান ২’–এ অভিনয় করেন সামান্থা। সেই সিরিজের একটি ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করতে গিয়েই নাকি নাগার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়।

বিবাহবিচ্ছেদের পেছনের গুঞ্জন
সামান্থা ও নাগা চৈতন্যকে টলিউডের ‘পারফেক্ট কাপল’ হিসেবে ধরা হতো। তবে তাঁদের বিচ্ছেদ ঘোষণা হওয়ার পরই সবাই ভেবেছিলেন, কী কারণে এই সম্পর্ক শেষ হলো। অনেকের মতে, সামান্থার সাহসী চরিত্রের কারণেই সম্পর্কের অবসান ঘটেছে।
একটি সূত্রে জানা যায়, সামান্থার ‘দ্য ফ্যামিলি ম্যান ২’ সিরিজের দৃশ্যটি নাগা ও তাঁর পরিবারের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। যদিও সিরিজটির জন্য আরেকটি অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিং করেন সামান্থা, কিন্তু পরে সেটা সম্পাদনায় বাদ পড়ে। কিন্তু যে দৃশ্যটি প্রচারিত হয়, সেটা নিয়েও আপত্তি ছিল। নাগা তো বটেই, তাঁর সাবেক শ্বশুর নাগার্জুনারও আপত্তি ছিল। তবে সামান্থা এই ‘পিতৃতান্ত্রিক’ মানসিকতা মানতে অস্বীকার করেন, যা শেষ পর্যন্ত তাঁদের বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিয়ের দিন নাগা চৈতন্য ও সামান্থা

সম্পর্কিত নিবন্ধ