শিক্ষার উন্নয়নে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা
Published: 6th, November 2025 GMT
দেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বৃহস্পতিবার বিকেলে এক গোলটেবিল আলোচনায় তাঁরা শিক্ষার উন্নয়নে নানা প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরেন। এসব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ওঠার নানা দিক নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) কার্যালয়ে ‘সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে শিক্ষায় বিনিয়োগ বনাম নিষ্ক্রিয়তার মূল্য: শিশু ও তরুণদের শিক্ষাবঞ্চিত হওয়ার বৈশ্বিক ব্যক্তিগত, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যয়’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ইউনেসকোর ‘দ্য প্রাইস অব ইনঅ্যাকশন’ প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও বেসরকারি সংস্থার ভূমিকা এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমেদ। আলোচনায় শিক্ষক, শিক্ষাবিদ এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
ইউনেসকোর ওই প্রতিবেদন বলা হয়, শিক্ষায় বিনিয়োগ না বাড়ালে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রতিবছর ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে প্রাথমিক স্তরে ঝরে পড়ার হার ১০ শতাংশ কমাতে পারলে একটি দেশের বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
আলোচনায় বক্তারা দেশের শিক্ষার উন্নয়নে নানা প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরেন। এ সময় তাঁরা দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার নানা ত্রুটিপূর্ণ দিক উল্লেখ করেন। তাঁদের আলোচনায় শিক্ষার্থী ঝরে পড়া, মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাব, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মতো বিষয়গুলো উঠে আসে।
এ বৈঠক থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা, শিক্ষা খাতে জিডিপির ৪ থেকে ৬ শতাংশ বরাদ্দ, প্রারম্ভিক শিক্ষায় বিনিয়োগের মতো ১০টি সুপারিশ করা হয়। সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর জোর দেন তাঁরা।
অধ্যাপক মনজুর আহমেদ বলেন, ‘শিক্ষার এই অবস্থা মূলত একটি রাজনৈতিক ব্যর্থতা। শিক্ষার উন্নয়নে আমরা রাজনৈতিক দল বা শ্রেণিগুলোকে একটি চুক্তিতে আনতে পারছি না। ফলে শিক্ষায় বিনিয়োগের অভাব ও বৈষম্য দেখা যাচ্ছে।’
২০২৩ সালের ব্যানবেইসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার ১৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ, মাধ্যমিকে এই সংখ্যা ৩২ দশমিক ৮৫ শতাংশ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী মাধ্যমিকের পাঠ শেষ করার আগেই ঝরে পড়ে। মেয়েদের মধ্যে এই ঝরে পড়ার হার বেশি।
আবার যারা পড়াশোনা করছে, তাদের শিক্ষার মান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। দ্য ন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্টের ২০২২ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী ভালোভাবে বাংলা পড়তে পারে। মাত্র ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী গণিতে প্রত্যাশিত উত্তর করতে পারে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নূরজাহান খাতুন বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, এখানে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে গণমাধ্যম কিছুই করে না।
সমাপনী বক্তব্যে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) মহাপরিচালক মো.
উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
গ্রাম আদালতে ছোট মামলাগুলো নিস্পত্তি হলে আদালতে মামলা জট কমবে : ডিসি রায়হান
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেছেন, দেশে আদালতগুলোতে লাখ লাখ মামলা পেন্ডিং রয়েছে। যে কারণে গ্রামের ছোট ছোট মামলাগুলো গ্রাম আদালতে নিস্পত্তি করা গেলে আদালতে মামলা জট অনেক কমবে।
নারায়ণগঞ্জে গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সারাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্পের আওতায় মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় তিনি গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সাংবাদিকদের সহযোগীতা কামনা করে বলেন, গ্রাম আদালত থাকলে পক্ষ পাতিত্ব কম হবে। সঠিক প্রক্রিয়ায় বিচার না হলে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আসবে। ছোট-খাটো ঘটনা ঘটলে আমরা থানায় চলে যাই। যে বিষয়ে যাই থানাও জানেনা এটা গ্রাম আদালতে বিচার করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান হবেন গ্রাম আদালতের বিচারক। তিনি না থাকলে যে মেম্বার যোগ্য বেশী তিনিও গ্রাম আদালতের বিচারক হতে পারবেন। গ্রাম আদালত সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকার রায় দিতে পারবে। এ ব্যাপারে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। ব্যাপব প্রচারণা করতে হবে।
নাঈমা ইসলাম, ডিডিএলজি (ভারপ্রাপ্ত) এর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন, তারিক আল মেহেদী সহকারী পুলিশ সুপার, ডা. মেহেদি হাসান সিভিল সার্জন কার্যালয়, মোঃ আসাদুজ্জামান উপ পরিচালক সমাজসেবা অধিদপ্তরের, কামরুজ্জামান রোমান জেলা তথ্য কর্মকর্তা, টি. এম. রাহসিন কবির সিনিয়র সহকারী কমিশনার, হাসিনা মমতাজ উপ পরিচালক যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, ভিকারুননেছা, উপ পরিচালক মহিলা অধিদপ্তর।
কর্মশালায় নারায়ণগঞ্জ জেলার জুলাই ২০২৪ জুন ২০২৫ গ্রাম আদালতের কার্যক্রমের অগ্রগতি ও পর্যালোচনা এবং করণীয় বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দেন জেলা ব্যবস্থাপক ফিরোজা বেগম ঝুমুর।
গ্রাম আদালত নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন সিনিয়র সহকারী কমিশনার টি. এম রাহসিন কবির। এ সময় তিনি গ্রাম আদালত গঠন, কর্মপরিধি, জরিমানা ও এ আদালত কিভাবে জনগনের সহায়তা করতে পারেন বিশদ বর্ননা দেন।
কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন- গ্রীন ফর পীচের চেয়ারম্যান আরিফ মিহির, প্রভাত সমাজ কল্যান সংসদের চেয়ারম্যান প্রদীপ কুমার দাস, নারায়ণগঞ্জ জেলা রির্পোটার্স ইউনিটির সভাপতি মোঃ শহীদুল্লাহ্ রাসেল, দেশ রূপান্তরের জেলা প্রতিনিধি শরীফ সুমন, দি নিউ নেশন পত্রিকার স্টাফ করেসপন্ডেন্ট মোশতাক আহমেদ শাওন, মোহনা টিভির জেলা প্রতিনিধি আজমীর ইসলাম, ঢাকা নিউজের সম্পাদক সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি, আজকের নীর বাংলার বার্তা সম্পাদক আনিসুল হক হীরা, সাংবাদিক জাহাঙ্গীর হোসেনসহ বিভিন্ন এনজিও এবং প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দ।