বলিউডের জনপ্রিয় গায়িকা এবং অভিনেত্রী সুলক্ষণা পণ্ডিত মারা গেছেন। হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে মুম্বাইয়ের নানাবতী হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর। মৃত্যুর সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তাঁর ভাই সুরকার ললিত পণ্ডিত জানান, কয়েক দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। এদিন রাত আটটার সময় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় সুলক্ষণার। আজ শুক্রবার দুপুরে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

আরও পড়ুনপ্রযোজকের অনৈতিক প্রস্তাব: যেভাবে সামলেছেন এই বলিউড অভিনেত্রী০১ অক্টোবর ২০২৩

শিশুশিল্পী হিসেবে বলিউডে পা রেখেছিলেন সুলক্ষণা। ১৯৬৭ সালে ‘তকদির’ ছবিতে তাঁর ‘সাত সমুন্দর পার সে’ গান ব্যাপক জনপ্রিয় হয়। হিন্দির পাশাপাশি, বাংলা, মারাঠি, ওডিশা, গুজরাটিসহ একাধিক ভাষায় গান গেয়েছেন তিনি। ১৯৮০ সালে তাঁর গাওয়া অ্যালবাম ‘জজবাত’ বেশ জনপ্রিয়তা পায়। গজল শিল্পী হিসেবেও তিনি ছিলেন পরিচিত নাম।
১৯৮৬ সালে লন্ডনের রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে আয়োজিত ‘ফেস্টিভ্যাল অব ইন্ডিয়ান মিউজিক’ কনসার্টে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন সুলক্ষণা। তিনি কিশোর কুমার, হেমন্ত কুমার, মোহাম্মদ রফি, শৈলেন্দ্র সিং, যেসুদাস, উদিত নারায়ণসহ খ্যাতনামা শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেছেন।

১৯৭৫ সালে সঞ্জীব কুমারের বিপরীতে সাসপেন্স থ্রিলার ‘উলঝন’ ছবি দিয়ে শুরু হয় অভিনয়জীবন। সাত ও আটের দশকে একাধিক হিন্দি ছবিতে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তিনি। ‘সংকোচ’, ‘হেরাফেরি’, ‘আপনাপন’, ‘খানদান’, ‘চেহরে পে চেহরা’, ‘ধর্মকান্তা’ এবং ‘ওয়াক্ত কি দিওয়ার–এ তাঁর অভিনয় আজও সিনেমাপ্রেমীদের মুখে মুখে ফেরে।
বাংলা ছবিতেও অভিনয় করেছেন সুলক্ষণা। ১৯৭৮ সালে উত্তম কুমারের বিপরীতে অভিনয় করেন ‘বন্দী’ ছবিতে। তাঁর কাজ সমালোচক মহলে ব্যাপক প্রশংসাও কুড়িয়েছিল। জিতেন্দ্র, রাজেশ খান্না, বিনোদ খান্না, শশী কাপুর ও শত্রুঘ্ন সিনহার বিপরীতেও একাধিক ছবিতে কাজ করেছেন সুলক্ষণা।
১৯৯৬ সালে ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’ ছবির ‘সাগর কিনারে ভি দো দিল’ ছিল তাঁর শেষ গান। সুর দিয়েছিলেন তাঁর ভাই যতীন-ললিত। শেষ জীবনে বলিউড থেকে নিজেকে একপ্রকার সরিয়েই নিয়েছিলেন। তাঁর প্রয়াণে বিনোদনজগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: কর ছ ন

এছাড়াও পড়ুন:

অনলাইনে টাকা খাটিয়ে বেশি মুনাফার ফাঁদে কোটি টাকা খুইয়েছেন ব্যাংক কর্মকর্তা

টেলিগ্রাম অ্যাপ ব্যবহার করে অনলাইনে ‘বিনিয়োগের’ প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নেওয়া একটি প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম নাদিম (৩২)। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর নিজ বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আজ শুক্রবার সিআইডির গণমাধ্যম শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতারণার শিকার ব্যক্তি একটি বেসরকারি ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ প্রিন্সিপাল কর্মকর্তা। তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে বার্তা আসে। বার্তা পাঠানো ব্যক্তি নিজেকে ‘নাজনীন’ নামে পরিচয় দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম আপওয়ার্কের প্রতিনিধি বলে দাবি করেন।

বাসায় বসে খণ্ডকালীন কাজের মাধ্যমে আয়ের প্রলোভন দেখানো হলে ওই ব্যাংক কর্মকর্তা সরল বিশ্বাসে রাজি হন। আস্থা অর্জনের জন্য তাঁকে দিয়ে প্রথমে ইউটিউব সাবস্ক্রিপশনসহ কয়েকটি ছোট কাজ করানো হয়। এরপর তাঁর মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে প্রথমে ১৫০ টাকা ও পরে ২ হাজার ১০০ টাকা পাঠানো হয়।

এরপর তাঁকে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত করা হয়। সিআইডি জানায়, ওই গ্রুপে চক্রটির অন্য সদস্যরা আগে থেকেই যুক্ত ছিল। তারা নিয়মিত কাজ করে বড় অঙ্কের অর্থ উপার্জন করছে বলে অভিনয় করত। এতে ভুক্তভোগীর বিশ্বাস আরও গভীর হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরবর্তী ধাপে বড় কাজের কথা বলে প্রতারকেরা ভুক্তভোগীকে একটি ‘ক্রিপ্টো অ্যাকাউন্ট’ খুলতে এবং দুই হাজার টাকা বিনিয়োগ করতে বলে। এরপর জানানো হয়, আরও তিন হাজার টাকা বিনিয়োগ করলে তাঁর ব্যালেন্স সাত হাজার টাকা হবে এবং তিনি সেই টাকা তুলতে পারবেন। ভুক্তভোগী ওই টাকা পাঠানোর পর তাঁকে ‘ভিআইপি টাস্ক’ নামে নতুন একটি গ্রুপে যুক্ত করা হয়।

ওই গ্রুপে দেখানো হয়, সবার ক্রিপ্টো অ্যাকাউন্টে সাত হাজার টাকা করে জমা হয়েছে। কিন্তু ভুক্তভোগী টাকা তুলতে চাইলে তাঁকে জানানো হয়, ক্যাশ আউটের জন্য আরও ১৫ হাজার ৮০০ টাকা দিতে হবে। তিনি সরল বিশ্বাসে সেই টাকাও পাঠান। কিন্তু এরপরও টাকা তুলতে না পেরে বিষয়টি জানতে চাইলে তাঁর ওপর নতুন টাস্ক ও নতুন শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়।

এভাবে একের পর এক টাস্ক, বড় লাভের লোভ আর ভুয়া হিসাব দেখিয়ে প্রতারক চক্রটি বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোট ১ কোটি ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৩০৫ টাকা হাতিয়ে নেয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গত ২১ মে রাজধানীর লালবাগ থানায় মামলা করেন।

মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর সিআইডির একটি দল নাদিমকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জব্দ করা হয়েছে। নাদিমের বাড়ি কুমিল্লার মেঘনা থানার দক্ষিণকান্দি গ্রামে।

সিআইডির কর্মকর্তারা অনলাইনে সহজে বড় অঙ্কের অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে বিশ্বাস না করার পরামর্শ দিয়েছেন। যেকোনো লেনদেনের আগে উৎস ও পরিচয় যাচাই করার কথাও বলেছেন তাঁরা। এ ধরনের প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে জানাতে বলা হয়েছে। এ জন্য ০১৩২০০১০১৪৬, ০১৩২০০১০১৪৭ এবং ০১৩২০০১০১৪৮ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করেছে সিআইডি।

সম্পর্কিত নিবন্ধ