নব্বই দশকের জনপ্রিয় মডেল আদিল হোসেন নোবেল ও সাদিয়া ইসলাম মৌ। দেশের মডেলিংয়ে তাদেরকে কিংবদন্তি বললেও ভুল হবে না! জুটি বেঁধে নাটকেও অভিনয় করেছেন তারা। এ জুটির রসায়ন এতটাই জমেছিল, অধিকাংশ ভক্ত-অনুরাগীরা তাদেরকে স্বামী-স্ত্রী ভাবতেন।
কয়েক দিন আগে একটি অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকার দেন সাদিয়া ইসলাম মৌ। এ আলাপচারিতায় সঞ্চালক জানতে চান, অনেকে ভেবেছেন আপনি ও নোবেল ভাই স্বামী-স্ত্রী। পরে যখন জানতে পারেন, আসলে আপনারা তা নন। তখন তারা হতাশ হয়েছেন। আপনারা ব্যক্তি জীবনে আলাদা আলাদা হ্যাপি আছেন। কখনো আপনাদের প্রেমের গুঞ্জন শোনা যায়নি। আসলে কী আপনাদের ভেতরে কোনো প্রেম ছিল না। যদি নাই থাকে তাহলে এমন ম্যাজিক্যাল কেমিস্ট্রি কীভাবে তৈরি হলো?
আরো পড়ুন:
গিফট নিয়ে হয়ে গেলাম প্রতারক: তানজিন তিশা
সড়ক দুর্ঘটনায় আলোচিত মডেলের মৃত্যু
জবাবে সাদিয়া ইসলাম মৌ বলেন, “আমাদের দুজনের মাঝে একটা স্বচ্ছ সম্পর্ক, দুজনের স্বচ্ছ একটি বন্ধুত্ব আছে বলে মনে করি। মিডিয়ার অবস্থান থেকে যদি নোবেলকে নিয়ে বলতে বলেন তবে আমি বলব, ‘নোবেল গুড বয়।’ আমি প্রথম যখন নোবেলর সঙ্গে কাজ করি, তখন দেখেছি নোবেলকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে এবং মা-বাবার বাধ্য একটি সন্তান। বাবা-মাকে টেক কেয়ার করার মতো একজন মানুষ।”
একটি ঘটনা বর্ণনা করে সাদিয়া ইসলাম মৌ বলেন, “এমনও ঘটনা আছে, পল্লব হোন্ডা নিয়ে এসে বলছে, ‘এই ওঠ, ঘুরে আসি।’ পল্লবের কথা শুনে আমি উঠতে যাব, তখন নোবেল বলেছে, ‘যেও না বন্ধু।’ কেন যাব না তা জানতে চাইলে নোবেল বলে, ‘যেও না।’ কারণ ও জানত, আমরা যাদের সামনে দিয়ে যাচ্ছি, তারাই এটা নিয়ে গল্প করবে। ও আমাকে সবসময় প্রটেক্ট করেছে।”
কয়েক দিন আগে একটি কাজের জন্য নোবেলকে টেক্সট করি। হুট করে ফোন করি না। কারণ ও ব্যস্ত থাকে। এর মধ্যে আমি যতবার বিদেশে গিয়েছি। যতবার বিমানে উঠেছি, বিমানের স্টাফরা আমাকে দেখেই বলেছেন, ‘আপা নোবেল ভাই আসছিলেন, কয়েক দিন আগে হজে গেলেন।’ আমি বলি, তাই নাকি? নোবেলরও একই অবস্থা। যাহোক, আমি নোবেলকে টেক্সটে লিখেছিলাম—‘বন্ধু, আমি একটু কথা বলতে চাই, ফ্রি হয়ে ফোন দিও।’ নোবেল বলল, ‘আমি ১০ মিনিট পরই তোমাকে কল করছি।’ ঠিক ১০ মিনিট পরই আমাকে কল ব্যাক করে নোবেল।”
নোবেল-মৌকে এখনো অনেকে স্বামী-স্ত্রী ভাবেন। তারই একটি ঘটনা বর্ণনা করে সাদিয়া ইসলাম মৌ বলেন, “কাজের কথা শেষ করার পর নোবেল বলল, ‘তোমার কী সময় আছে, আমি একটু গল্প করব।’ আমি বললাম, ‘হ্যাঁ, সময় আছে।’ নোবেল জানায়, ওর বাসায় ডিম বা এ জাতীয় অর্গানিক জিনিস একটি প্রতিষ্ঠান থেকে রাখে। হঠাৎ ওই প্রতিষ্ঠান থেকে এসব জিনিস দিতে দেরি করে। পরে নোবেলের স্ত্রী শম্পা ওখানে ফোন করে। অপর প্রান্ত থেকে জানতে চায়, ‘আপনি কে বলছেন?’ জবাবে নোবেলের স্ত্রী বলেন, ‘আমি আদিল (নোবেল) সাহেবের ওয়াইফ।’ তখন ওই লোক বলেন, ‘ও আচ্ছা, আপনি মৌ আপু বলছেন!’ এ ঘটনা কিছু দিন আগের। পরে নোবেলকে বললাম, ‘নোবেল চলো আমরা জাহিদ (জাহিদ হাসান) আর শম্পাকে বিষ খাইয়ে দিই। ওদের তো বেঁচে থেকে লাভ নাই।’ নোবেলের সঙ্গে আমার এরকম স্বচ্ছ ও সুন্দর একটা সম্পর্ক।”
নোবেল ও মৌ অভিনীত প্রথম নাটকের নাম ‘কুসুম কাঁটা’। ২০০০ সালের দিকে এটি প্রচারিত হয়। মৌ-নোবেল ছাড়াও নাটকটিতে অভিনয় করেছিলেন শমী কায়সার।
ঢাকা/শান্ত
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ট ভ ন টক ন ব ল বল ইসল ম ম দ ন আগ ন ব লক
এছাড়াও পড়ুন:
আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, দাফন দিল্লিতে: সালাহউদ্দিন আহমদ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকায় আর দাফন দিল্লিতে। এখন দাফন-কাফন খুলে মাঝেমধ্যে একটু চিৎকার করে।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, ‘আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন। বাংলাদেশে যেন আর কখনো এ রকম স্বৈরাচার, সামরিক শাসক, ফ্যাসিবাদের উৎপত্তি না হয়।’
আজ শুক্রবার রাত আটটায় কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বদরখালী বাজারে মাতামুহুরী সাংগঠনিক থানা বিএনপি আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
বিএনপি, খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের গণতন্ত্র রক্ষায় ভূমিকা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে উন্নয়ন হয়। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা থেকে শুরু করে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন।
৭ নভেম্বরের ঘটনা, ১৯৭৯ সালে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি চালু, সংসদীয় শাসনব্যবস্থা সুপ্রতিষ্ঠিত করা—এসব অর্জনও বিএনপির নেতৃত্বেই হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে গণতন্ত্র ধ্বংসের জন্য দায়ী উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তাঁরা তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করেছেন, একদলীয় শাসন চাপিয়ে দিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
পথসভায় সভাপতিত্ব করেন মাতামুহুরী সাংগঠনিক থানা বিএনপির সভাপতি জামিল ইব্রাহিম চৌধুরী। বক্তব্য দেন সাবেক সংসদ সদস্য হাসিনা আহমদ, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামীম আরা, দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী, পেকুয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ, থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হেফাজতুর রহমান, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, জেলা ওলামা দলের সভাপতি আলী হাসান চৌধুরী প্রমুখ।
এর আগে সালাহউদ্দিন আহমদ কোনাখালী, পশ্চিম বড়ভেওলা, বরইতলী, সাহারবিল, ঢেমুশিয়া ও বদরখালী এলাকায় গণসংযোগ করেন। বেলা তিনটায় চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আনছারুল ইসলাম চৌধুরীর জানাজায়ও অংশ নেন তিনি।