ভারতীয় সেনা ছাউনি থেকে ‘বাংলাদেশি’ গ্রেপ্তার
Published: 6th, November 2025 GMT
ভারতের চিকেন নেকে সেনা ছাউনি থেকে এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে ভারতীয় সেনারা। বুধবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ওই ব্যক্তির নাম নন্দ মণ্ডল। তিনি বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জ জেলার চাঁরিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। জলপাইগুড়ির জেলার কোতোয়ালি থানার ধুপগঞ্জ কলোনির গড়ালবাড়ি এলাকায় তিনি বাস করতেন।
সেনা ছাউনির ভেতরে রাস্তার কাজের সুপারভাইজার পরিচয়ে প্রবেশ করেছিলেন নন্দ মণ্ডল। তিনি ব্যাংডুবি সেনা ছাউনি এলাকায় শ্রমিকদের সুপারভাইজারের কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার কাজে প্রবেশ করার সময় মোবাইলে আধার কার্ড দেখাতে গেলে বাংলাদেশের একটি পরিচয়পত্র বেরিয়ে পড়ে। আর তখনই সেনাকর্মীরা তাকে আটক করে।
সেনা সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় ঠিকাদারের অধীনে কাজ করত নন্দ মণ্ডল। সেই সূত্রেই সেনা ছাউনির বরাতপ্রাপ্ত রাস্তার কাজে সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করছিল। বুধবার ছাউনিতে প্রবেশের সময় নিরাপত্তা পরীক্ষা চলাকালীন সেনা জওয়ানরা তার কাছ থেকে দুটি আলাদা পরিচয়পত্র—একটি ভারতের, অন্যটি বাংলাদেশের—পাওয়ায় ধরা পড়ে সে।তার কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও কাগজ উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নন্দ স্বীকার করেছে, গত তিন দশকে একাধিকবার বাংলাদেশে যাতায়াত করেছে সে। তাকে আটকের পর শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি রাকেশ সিং বলেছেন, “ধৃত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে সেনা জওয়ানরাই প্রথমে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। কীভাবে এবং কী উদ্দেশে সে সেনা ছাউনিতে ঢুকেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হবে।”
সুচরিতা/শাহেদ
.উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পেতে গুনতে হলো অতিরিক্ত টাকা
বিদেশে ভিসা আবেদনের জন্য, গ্রিনকার্ড–ওয়ার্ক পারমিট অথবা পাসপোর্ট রিনিউ করতে প্রয়োজন হয় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদের। কিন্তু এই ক্লিয়ারেন্স পেতে সাধারণ মানুষকে প্রায়ই নানা হয়রানি, অতিরিক্ত কাগজপত্রের দাবি এবং ঘুষের মুখে পড়তে হয়—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, নিয়ম মাফিক বাংকে জমা দেয়া ১৫০০ টাকার পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পেতে অতিরিক্ত ২ হাজার টাকা দাবি করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এএসআই সুলতান মাহমুদ। ভুক্তভোগী মাহমুদুল হাসানের দাবি, নিয়ম মেনে আবেদন করেও তাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয় এবং শেষে থানার বাইরে নিয়ে টাকা নিতে বাধ্য করা হয়।
মাহমুদুল জানান, ক্লিয়ারেন্সের জন্য থানায় গেলে এএসআই সুলতান স্যার প্রথমে কাগজে সমস্যা দেখান। আমি এই থানা এলাকার স্থায়ী লোক না, ক্লিয়ারেন্স দিতে সমস্যা হবে। পরে কেউ জানলে ঝামেলা হবে।”
পরে সন্ধ্যায় আমাকে বাবা, মা, নানির জাতীয় পরিচয়পত্র ও বিদ্যুৎ বিল আনতে বলা হয়। থানার বাইরে বের হওয়ার সময় সুলতান স্যার আমাকে বলেন, “সাথে মাল (টাকা) লাগবে।”
মাহমুদুল বলেন, “কাগজপত্র নিয়ে ফিরে এলে এএসআই সুলতান স্যার আমাকে থানার বাইরে নিয়ে দুই হাজার টাকা দাবি করেন। আমি টাকা দিলে তিনি বলেন—এত লাগতো না, কম হলেও চলতো। পরে বলেন—ওসি স্যারও জানে, তাকেও দিতে হবে।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানার যেকোনো একটিতে আবেদন করা যায়।
যদি পাসপোর্টে ঠিকানা না থাকে, তবে ঠিকানার প্রমাণস্বরূপ জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মসনদের সত্যায়িত স্ক্যানকপি প্রয়োজন হয়। দেশের বাইরে থাকা ব্যক্তির ক্ষেত্রে দূতাবাস কর্তৃক সত্যায়িত পাসপোর্টের স্ক্যানকপি দিয়ে দেশে যে কেউ আবেদন করতে পারেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এএসআই সুলতান মাহমুদ বলেন, “পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে টাকা লাগে না। কেউ খুশি হয়ে দিলে নেই। এটা বৈধও না।”মাহমুদু
লের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে কি না িজানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার মনে পড়ছে না।”
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, “ক্লিয়ারেন্সে কোনো টাকা লাগে না। আমার নামে কেউ টাকা নিয়েছে—এটা জানতাম না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মো. হাসিনুজ্জামান বলেন, “থানায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্সে টাকা নেওয়ার নিয়ম নেই। অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”