নোমানের জাদুতে লাহোরে পাকিস্তানের দাপুটে জয়
Published: 15th, October 2025 GMT
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ছিল, তখন পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা উদ্যাপন করছিল এক স্মরণীয় জয়। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ৯৩ রানের জয় শুধু সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে দিল না, বরং আবারও প্রমাণ করল নিজেদের মাটিতে স্পিনের রাজত্ব এখনো পাকিস্তানেরই।
এই জয়ের কেন্দ্রে ছিলেন বাঁহাতি স্পিনার নোমান আলি। ক্যারিয়ারের সেরা পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে তিনি নিলেন ম্যাচে ১০ উইকেট (প্রথম ইনিংসে ৬টি, দ্বিতীয় ইনিংসে ৪টি)। তার নিখুঁত লাইন ও টার্নে ভেঙে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং অর্ডার। প্রথম ইনিংসে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও দ্বিতীয় ইনিংসে নোমানের স্পিনে কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে প্রোটিয়া শিবির।
আরো পড়ুন:
বৃষ্টিতে শ্রীলঙ্কা-নিউ জিল্যান্ডের পয়েন্ট ভাগাভাগি
আফগান যুবারা আসছেন বাংলাদেশে
২৭৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা থেমে যায় ১৮৩ রানে। এইডেন মার্করাম (৩) ও উইয়ান মুল্ডার (০)-এর দ্রুত বিদায়ের পর ব্রেভিস ও রিকেলটন কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন। কিন্তু নোমান ও শাহিন শাহ আফ্রিদির আগুনে বোলিংয়ে সেই প্রতিরোধ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ব্রেভিসের ৫৪ রান ছিল সফরকারীদের পক্ষে সর্বোচ্চ ইনিংস।
শাহিনও পিছিয়ে ছিলেন না। দ্বিতীয় ইনিংসে তার সংগ্রহ ৪ উইকেট। যার মধ্যে ছিলেন কাইল ভেরেইনে ও কাগিসো রাবাদার মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটাররা। শেষ দিকে সাজিদ খান যোগ দেন তাণ্ডবে, তুলে নেন ২ উইকেট। সব মিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার শেষ পাঁচ উইকেট যায় মাত্র ৫৫ রানে।
এর আগে ব্যাট হাতে পাকিস্তান গড়ে দিয়েছিল জয়ের ভিত। প্রথম ইনিংসে ইমাম-উল-হক (৯৩), শান মাসুদ (৭৬), রিজওয়ান (৭৫) ও সালমান আগা (৯৩)-এর ধারাবাহিকতায় দল তোলে ৩৭৮ রান। জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকা গুটিয়ে যায় ২৬৯ রানে। তাতেই পাকিস্তান পায় ১০৯ রানের লিড।
দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের ব্যাটাররা বড় রান করতে পারেননি; দল থামে ১৬৭ রানে। বাবর আজম (৪২), আব্দুল্লাহ শফিক (৪১) ও সাউদ শাকিল (৩৮) কিছুটা লড়াই করলেও দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার সেনুরান মুথুসামি ১১ উইকেট নিয়ে স্বাগতিকদের বিপদে ফেলেছিলেন।
তবে ম্যাচের শেষ হাসি ছিল পাকিস্তানের। নোমান আলির হাত ধরে লাহোরে ফুটেছিল বিজয়ের ফুল। এই জয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল শান মাসুদের দল। আর ক্রিকেটপ্রেমীরা পেল এক অবিস্মরণীয় স্পিন ম্যাজিকের গল্প।
ঢাকা/আমিনুল
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর দ ব ত য় ইন প রথম উইক ট
এছাড়াও পড়ুন:
ফ্যাসিবাদী কাঠামো রেখে দিতে রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিযোগিতা করছে: ডাকসু ভিপি
পুরোনো ফ্যাসিবাদী কাঠামোকে রেখে দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিযোগিতা করছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। আজ শনিবার সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ ও জুলাই স্মৃতি: শাবিপ্রবি’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শাখা ছাত্রশিবির। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাকসু ভিপি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম।
সাদিক কায়েম বলেন, ‘বিপ্লব হয়েছিল ফ্যাসিবাদী কাঠামো বিলোপ করা, নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিনির্মাণ করার জন্য। কিন্তু আজকে দেখতে পাচ্ছি, ফ্যাসিবাদী কাঠামোকে রেখে দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিযোগিতা করছে। বড় রাজনৈতিক দলগুলো বলতে শুরু করেছে যে নির্বাচিত সরকার এলে গণভোট, সংবিধান, সংস্কারগুলো হবে কি হবে না, সেই সিদ্ধান্ত নেবে। তাদের হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে, এই জুলাই শুধু ক্ষমতার পালাবদলের জন্য হয়েছে। সব ফ্যাসিবাদী কাঠামো, ফ্যাসিবাদের দোসর ও খুনি হাসিনার বিচার করা ছাড়া এই প্রজন্ম থামবে না।’
সব ছাত্রসংগঠনকে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সাদিক কায়েম বলেন, ‘সেটা যে-ই হোক, ছাত্রদল হোক বা ছাত্রশিবির—বাংলাদেশপন্থী সবাইকে এক হতে হবে। এখন যারা আমাদের শত্রু, তাদের মোকাবিলা না করে যদি নতুন বাংলাদেশে আবারও স্পেস দেওয়া হয়, তাহলে সামনে আরও বড় ষড়যন্ত্র হবে। জুলাইকে নানা উপায়ে ছোট দেখানোর চেষ্টা চলছে। বলা হচ্ছে, এটা নাকি শুধু একটা আন্দোলন কিংবা ক্ষমতার পালাবদল।’
দলমত-নির্বিশেষে জুলাই বিপ্লব হয়েছে উল্লেখ করে সাদিক কায়েম বলেন, ‘যখন সব রাজনৈতিক দল এককভাবে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে, তখন সব সাধারণ ছাত্র-জনতা ও রাজনৈতিক দল একত্রে দল ও মতকে ঊর্ধ্বে রেখে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছে। কিন্তু আজ আমরা সেই মুহূর্তকে ভুলে যাচ্ছি, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই আমাদের সবাইকে নতুন বাংলাদেশ গড়তে এক ও একতাবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই।’
শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি তারেক মনোয়ারের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মাসুদ রানা তুহিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শাবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ ইসমাইল হোসেন, ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহ।