আমাদের দেশে অনেকেই টনসিলের দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণে ভুগে থাকেন। টনসিলের প্রদাহকে ‘টনসিলাইটিস’ বলা হয়। সাধারণত ব্যাকটেরিয়ার কারণে টনসিলের প্রদাহ হয়। টনসিলের সংক্রমণে শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হয়। বিশেষত স্কুলগামী শিশুরা এর বড় ভুক্তভোগী। এ জন্য প্রায়ই শিশুদের স্কুল কামাই হয়।
উপসর্গ
টনসিলে প্রদাহের প্রধান উপসর্গ হলো গলায় ব্যথা। কেউ কেউ বছরে অনেকবার টনসিলের প্রদাহে আক্রান্ত হন। অনেকেই বছরের পর বছর টনসিলের প্রদাহে ভুগে থাকেন। অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে টনসিল ও গলার লসিকাগ্রন্থি বড় হয়ে যায়, অনেক শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হয়।
দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহের ফলে টনসিল এত বড় হয়ে যায় যে শ্বাসপ্রশ্বাসে ও খেতে অসুবিধা হয়। বিশেষত শিশুদের ক্ষেত্রে এটা বেশি হয়। দীর্ঘমেয়াদি টনসিলের প্রদাহে রিউমেটিক ফিভার এবং হার্ট ও কিডনিতে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। সর্বোপরি শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি টনসিলের প্রদাহে রিউমেটিক ফিভার এবং হার্ট ও কিডনিতে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়।কখন অস্ত্রোপচার করাবেন
টনসিলের তীব্র প্রদাহ ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়ে থাকে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি টনসিলের প্রদাহে যাঁদের বছরে চার–পাঁচবারের বেশি সংক্রমণ হয় বা বছরের পর বছর ভুগে থাকেন, তাঁদের অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। টনসিল বড় হয়ে শ্বাসপ্রশ্বাসে অসুবিধা, রাতে ঘুমের ব্যাঘাত, টনসিলে ফোড়া, হঠাৎ একদিকের টনসিল অনেক বড় হলে যদি ক্যানসার সন্দেহ হয়, টনসিলে টিবি বা অন্যান্য কারণে টনসিল অস্ত্রোপচার করাটা দরকার।
অস্ত্রোপচারের যত পদ্ধতি
টনসিল অপারেশনের বিভিন্ন পদ্ধতি আছে। যেমন ডিসেকশন মেথড, ইলেকট্রোকোটারি, লেজার, কোবলেশন, আলট্রাসনিক ইত্যাদি। ডিসেকশন মেথড বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়। এ পদ্ধতিতে অস্ত্রোপচারের সময় কিছু রক্তপাত হয় এবং রক্তনালি সেলাই করে দিতে হয়। লেজার, কোবলেশন ও আলট্রাসনিক উপায়ে টনসিলের অস্ত্রোপচার অনেক উন্নতমানের কিন্তু ব্যয়বহুল। এতে উপযুক্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও দক্ষ শল্যবিদ (সার্জন) প্রয়োজন।
কোবলেশন টনসিল অস্ত্রোপচারের সুবিধা
এই অস্ত্রোপচার সেলাইবিহীন ও রক্তপাতহীন। ব্যথা তুলনামূলক কম। নিরাপদ ও আধুনিক পদ্ধতি। অত্যন্ত কম সময় লাগে। অস্ত্রোপচারের পরই রোগী খেতে পারেন। সকালে অস্ত্রোপচার করা হলে সন্ধ্যার মধ্যে রোগী বাসায় ফিরতে পারবেন। শুধু টনসিলেরই অস্ত্রোপচার করতে হয়। এ ক্ষেত্রে টনসিলের আশপাশের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। দ্রুত আরোগ্য লাভ এর একটি বড় সুবিধা। রোগী দ্রুতই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন। বর্তমানে বাংলাদেশে দক্ষ শল্যবিদেরা এ পদ্ধতিতে টনসিল অস্ত্রোপচার করতে সক্ষম।
ডা.
এম আলমগীর চৌধুরী, অধ্যাপক, ইএনটি, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ, ঢাকা
উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: উপসর গ
এছাড়াও পড়ুন:
ফ্যাসিবাদী কাঠামো রেখে দিতে রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিযোগিতা করছে: ডাকসু ভিপি
পুরোনো ফ্যাসিবাদী কাঠামোকে রেখে দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিযোগিতা করছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। আজ শনিবার সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ ও জুলাই স্মৃতি: শাবিপ্রবি’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শাখা ছাত্রশিবির। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাকসু ভিপি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম।
সাদিক কায়েম বলেন, ‘বিপ্লব হয়েছিল ফ্যাসিবাদী কাঠামো বিলোপ করা, নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিনির্মাণ করার জন্য। কিন্তু আজকে দেখতে পাচ্ছি, ফ্যাসিবাদী কাঠামোকে রেখে দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিযোগিতা করছে। বড় রাজনৈতিক দলগুলো বলতে শুরু করেছে যে নির্বাচিত সরকার এলে গণভোট, সংবিধান, সংস্কারগুলো হবে কি হবে না, সেই সিদ্ধান্ত নেবে। তাদের হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে, এই জুলাই শুধু ক্ষমতার পালাবদলের জন্য হয়েছে। সব ফ্যাসিবাদী কাঠামো, ফ্যাসিবাদের দোসর ও খুনি হাসিনার বিচার করা ছাড়া এই প্রজন্ম থামবে না।’
সব ছাত্রসংগঠনকে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সাদিক কায়েম বলেন, ‘সেটা যে-ই হোক, ছাত্রদল হোক বা ছাত্রশিবির—বাংলাদেশপন্থী সবাইকে এক হতে হবে। এখন যারা আমাদের শত্রু, তাদের মোকাবিলা না করে যদি নতুন বাংলাদেশে আবারও স্পেস দেওয়া হয়, তাহলে সামনে আরও বড় ষড়যন্ত্র হবে। জুলাইকে নানা উপায়ে ছোট দেখানোর চেষ্টা চলছে। বলা হচ্ছে, এটা নাকি শুধু একটা আন্দোলন কিংবা ক্ষমতার পালাবদল।’
দলমত-নির্বিশেষে জুলাই বিপ্লব হয়েছে উল্লেখ করে সাদিক কায়েম বলেন, ‘যখন সব রাজনৈতিক দল এককভাবে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে, তখন সব সাধারণ ছাত্র-জনতা ও রাজনৈতিক দল একত্রে দল ও মতকে ঊর্ধ্বে রেখে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছে। কিন্তু আজ আমরা সেই মুহূর্তকে ভুলে যাচ্ছি, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই আমাদের সবাইকে নতুন বাংলাদেশ গড়তে এক ও একতাবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই।’
শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি তারেক মনোয়ারের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মাসুদ রানা তুহিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শাবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ ইসমাইল হোসেন, ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহ।