চমেক কর্তৃপক্ষের আশ্বাস কত দিনে ফুরোবে
Published: 15th, October 2025 GMT
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে সাধারণ রোগীদের পাশাপাশি হাতকড়া পরা আসামিদের চিকিৎসা দেওয়া হয়। আসামিদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও থাকেন। ফলে হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে সাধারণ রোগীরা একধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়ছেন। অথচ হাসপাতালে বন্দীদের জন্য আলাদা প্রিজন সেল আছে। কিন্তু পাঁচ বছর ধরে সেটি খালি পড়ে আছে। বিষয়টি দুঃখজনক।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, চট্টগ্রামের ১১টি কারাগার এবং থানা থেকে আসা অসুস্থ বন্দীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেকই ভরসা। যে কারণে চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ২০১৯ সালে দ্বিতীয় তলায় নারী ও পুরুষ বন্দীদের জন্য ১৫টি করে মোট ৩০ শয্যার একটি কক্ষ বরাদ্দ দেয়। কিন্তু সরেজমিন দেখা যায়, সে সেলটি অযত্নে পড়ে আছে; ব্যবহারের উপযোগী করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
হাসপাতালের সাধারণ রোগীদের পাশেই কোনো শয্যায় দেখা যায়, হাতকড়া পরা আসামি চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর সেই আসামিকে ঘিরে রাত–দিন পাহারায় থাকছেন চারজন কারারক্ষী ও পুলিশ। এই পরিস্থিতির কারণে সাধারণ রোগী ও তাঁদের স্বজনদের অস্বস্তি, নিরাপত্তাঝুঁকি এবং বিব্রতকর পরিবেশ মেনে নিতে হচ্ছে। পুলিশ ও কারারক্ষীর কড়া পাহারার কারণে ওয়ার্ডে চলাফেরা, ঘুমানো কিংবা দৈনন্দিন কাজ করতে সারাক্ষণ বিব্রতবোধ করছেন। হাসপাতাল হলো নিরাময়ের জায়গা, কিন্তু সেখানে বন্দীর উপস্থিতি ও সার্বক্ষণিক কড়া নজরদারি একটি ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করছে।
অন্যদিকে প্রিজন সেল চালু না হওয়ায় নিরাপত্তার ঝুঁকিও বাড়ছে। যেমন গত এপ্রিল মাসে অস্ত্র মামলার আসামি হাতকড়াসহ হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রিজন সেল চালু না হওয়ায় পুলিশ ও কারা প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও মারাত্মকভাবে ব্যাঘাত ঘটছে। একজন বন্দীর পাহারায় দৈনিক ছয়জন কারারক্ষী ও চারজন পুলিশ অর্থাৎ মোট ১০ জন জনবল মোতায়েন রাখতে হয়। নগর পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, প্রিজন সেলটি চালু থাকলে হাসপাতালের নিরাপত্তার জন্য দৈনিক ১৫০ থেকে ২০০ পুলিশের জায়গায় মাত্র ১০ থেকে ১২ জন পুলিশ সদস্যের প্রয়োজন হতো। অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য হাসপাতালে মোতায়েন করায় নগরে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে চাপ তৈরি হচ্ছে।
কারা কর্তৃপক্ষ ও নগর পুলিশ বারবার চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তাগাদা দিলেও কেন প্রিজন সেলটি চালু করা হচ্ছে না? চমেক হাসপাতালের পরিচালক লোকবল–সংকটের কথা উল্লেখ করে শিগগিরই সেলটি চালু করার আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু এই আশ্বাস পাঁচ বছর ধরে কার্যকর হয়নি। এভাবে আর কত সময়ক্ষেপণ করা হবে?
আমরা আশা করব, হাসপাতালের প্রিজন সেলটি দ্রুত চালু করা হবে। এ–সংক্রান্ত কোনো জটিলতা থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তা নিষ্পত্তি করা হোক।
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: প র জন স ল র জন য
এছাড়াও পড়ুন:
জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তিন ভাগে মোতায়েনের পরিকল্পনা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তিন ভাগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়িয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। নির্বাচনের সময় তাঁরা এ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৈঠক শেষে ইসি সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
ইসি সচিব বলেন, একটি ভাগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ভোটকেন্দ্রে ‘স্ট্যাটিক’ দায়িত্ব পালন করবেন। আরেকটি ভাগে থাকবে মোবাইল ফোর্স। তারা ভ্রাম্যমাণ বা স্থায়ী চেকপোস্টে দায়িত্বে পালন করবে। আরেকটি ভাগে থাকবে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ ফোর্স। ইসি থেকে সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে ‘লিড মিনিস্ট্রি’ হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দায়িত্ব পালন করবে বলে জানান ইসি সচিব। তিনি বলেন, ইসি সার্বিকভাবে মনিটরিং ও সমন্বয়ের বিষয়টা দেখবে। ইসি কেন্দ্রীয়ভাবে একটি মনিটরিং সেল করবে।
সেনাবাহিনীর বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেরিয়াল পাওয়ার (ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা) আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। তারা সেটা পালন করবে।
বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব সমপদমর্যাদার কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (কোস্টগার্ড ও বিজিবিতে প্রেষণে নিয়োজিত সমপদমর্যাদার কর্মকর্তাসহ) বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়িয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব সমপদমর্যাদার কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (কোস্টগার্ড ও বিজিবিতে প্রেষণে নিয়োজিত সমপদমর্যাদার কর্মকর্তাসহ) বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়িয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ১১ নভেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।