ভারত নিজেকে ‘বিশ্বগুরু’ হিসেবে তুলে ধরতে চায়: পাকিস্তানের সেনাপ্রধান
Published: 11th, August 2025 GMT
ভারত নিজেকে ‘বিশ্বগুরু’ হিসেবে উপস্থাপন করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তিনি বলেছেন, ভারত এমন চেষ্টা করলেও বাস্তবে বিষয়টি এমন কিছু নয়। রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে টাম্পা সিটিতে পাকিস্তানি প্রবাসীদের উদ্দেশে বক্তব্যে এসব কথা বলেন আসিম মুনির।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফরে রয়েছেন। দেড় মাসের মধ্যে এটি তাঁর দ্বিতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্র সফর। প্রথম সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন তিনি। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, রোববার তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
টাম্পা সিটিতে পাকিস্তানি প্রবাসীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে আসিম মুনির বলেন, মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর এই দ্বিতীয় সফরের মধ্য দিয়ে ইসলামাবাদ–ওয়াশিংটন সম্পর্কে ‘নতুন মাত্রা’ তৈরি হয়েছে। এই সফরগুলোর লক্ষ্য দুই দেশের সম্পর্ককে একটি গঠনমূলক, টেকসই ও ইতিবাচক পথের দিকে নিয়ে যাওয়া।
আঞ্চলিক প্রসঙ্গ নিয়ে মতামত প্রকাশের সময় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান বলেন, ‘ভারত নিজেকে “বিশ্বগুরু” হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়। তবে বাস্তবে বিষয়টি এমন কিছু নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘নিজেদের সীমানার বাইরে সন্ত্রাসী কার্যকলাপে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র–এর সংশ্লিষ্টতা বিশ্বব্যাপী গুরুতর উদ্বেগের একটি কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
সম্প্রতি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত নিয়ে আসিম মুনির বলেন, ‘ভারতের এই আগ্রাসন অঞ্চলকে বিপজ্জনক এক যুদ্ধের দোরগোড়ায় নিয়ে এসেছে, যেখানে যেকোনো ভুল দ্বিপক্ষীয় সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে।’ তিনি বলেন, ভারতের বৈষম্যমূলক ও দ্বিমুখী নীতির বিরুদ্ধে সফল কূটনৈতিক যুদ্ধে লড়েছে পাকিস্তান।
কাশ্মীর বিষয়ে পাকিস্তানের এই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা বলেন, ‘দখলকৃত কাশ্মীর ভারতের কোনো অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়। বরং একটি অসমাপ্ত আন্তর্জাতিক এজেন্ডা।’ ‘দখলকৃত’ কাশ্মীর নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই প্রস্তাবগুলো পুরোপুরি সমর্থন করে পাকিস্তান।
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: য ক তর ষ ট র আস ম ম ন র
এছাড়াও পড়ুন:
ইসরায়েল অন্য দেশে সংকট ছড়িয়ে দিচ্ছে, ‘কল্পিত শত্রুর বিরুদ্ধে লড়ছে’: সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল অন্য দেশে সংকট ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং ‘কল্পিত শত্রুর বিরুদ্ধে লড়ছে’। দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েলি বাহিনীর ক্রমাগত অনুপ্রবেশ ও বিমান হামলার মধ্যে তিনি এমন অভিযোগ করলেন।
শনিবার কাতারে অনুষ্ঠিত দোহা ফোরামের ফাঁকে সিএনএনের সাংবাদিক ক্রিস্টিয়েন আমানপুরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শারা এ কথা বলেন।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবারও দাবি করেন, ইসরায়েল যেন ১৯৭৪ সালের সংঘাত নিরসন চুক্তি মেনে চলতে রাজি হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী সিরিয়া ও ইসরায়েলের সেনাদের মুখোমুখি না হওয়ার কথা। এক বছর আগে বাশার আল-আসাদের সরকারের পতনের পর ইসরায়েলি সেনারা দক্ষিণ সিরিয়ায় ঢুকে পড়ে এবং এখনো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হেরমন পর্বতচূড়া দখল করে রেখেছে। এই পর্বতচূড়া থেকে ইসরায়েল, লেবানন ও সিরিয়া তিনটি দেশই দেখা যায়। এটি ৫০ বছর ধরে একটি ‘বাফার জোন’ ছিল।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলছেন, এক বছর আগে দখলে নেওয়া জায়গাগুলোতে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান করবে।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, সিরিয়া ১৯৭৪ সালের চুক্তি মেনে চলার বিষয়ে অনড় এবং কোনো বিকল্প বাফার জোন গ্রহণ করবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা দাবি জানাচ্ছি, ইসরায়েলকে ৮ ডিসেম্বরের (২০২৪) আগের অবস্থানে ফিরে যেতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এ আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।
গত ডিসেম্বরে আল-শারার বিদ্রোহী বাহিনী সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ঢুকে পড়লে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘চুক্তিটি সংশোধন করার চেষ্টা করা হলে তা আমাদের একটি গুরুতর এবং বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেবে।’ তিনি প্রশ্ন করেন, ‘যদি সিরীয় সেনা বা সিরীয় বাহিনী সেখানে না থাকে, তবে এই বাফার জোন বা অসামরিক অঞ্চলের সুরক্ষা কে দেবে?’
ইসরায়েলের প্রতি ইঙ্গিত করে শারা আরও বলেন, ‘এক বছর আগের বিপ্লবের পর থেকে সিরিয়ার আকাশসীমা ব্যাপকভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। আমাদের ওপর এক হাজারের বেশি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। চার শতাধিক বার অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে।’
গত মাসের শেষের দিকে সিরিয়ায় ইসরায়েলের চালানো সামরিক অভিযানে কমপক্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছেন।
এ ছাড়া আল-শারা চলতি বছরের শুরুতে সিরিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে শত শত সংখ্যালঘু আলাউইতদের নিপীড়নের ঘটনায় জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ওই ঘটনায় কয়েক আলাউইত নিহত হন। আলাউইতদের বেশির ভাগই আসাদ সরকারকে সমর্থন করত।