Prothomalo:
2025-12-10@15:00:02 GMT

পালিত পাখির মতো যত দিন তার

Published: 9th, November 2025 GMT

শুভ বিবাহ

বিবাহ গুঞ্জনে সুরেলা পাখিগুলো
গাইল প্রেমগান, গাইল নানা কথা
দুধারে রাস্তার বাহারি তৃণলতা
বলল ফিসফিস, বলল ব্যাকুলতা

বাতাসে ফুল ঘ্রাণ, ফুটছে গাঁদা ফুল
শিশির কার্তিকে সন্ধ্যা এসে গেল
মনেতে ঝরঝর, মন কি প্রবাহিত?
সদ্য ফোটা ফুল, হবে যে বিবাহিত

বিবাহ শুভ হবে, বিবাহ মধুরতা
বাতাসে গান ভেসে শোনাবে চতুরতা
সুরেলা পাখিগুলো বিবাহ গুঞ্জনে
শেখাবে তাল–লয়, শেখাল বোঝাপড়া

হাওয়াতে ভেসে তাই, তুমি যে বিবাহিত
তোমাকে দূরে ঠেলে, কান্না পায় খালি
কান্না পায় খালি, মন কি প্রবাহিত?
সদ্য ফোটা ফুল, হলো যে বিবাহিত

প্রস্থান

মুগ্ধ হওয়া শেষ হলে সেই ঘোরতর সমাহার
ফেরত পাঠাই তাকে, যা যা ছিল, তার যত মনোযোগ
গৃহলতা ঘিরে ঋতুভেদে ঘরে ঢোকা আধো আলো–রোদ

কতিপয় কটু কথা তাকে বলে ফেলে
সারা নিশি তারকারাজির সাথে জাগি
ভাবি, শীতরাতে আমি বুঝি টাকি মাছ
রাঁধুনীর হাতে গরিব দেহের আয়ুটুকু হলো শেষ!

তুরীয় প্রেমের অবসানে তাই, মুখ দেখাদেখি নাই।

হেমন্ত ভালো লাগে

কাঁচা রোদের নরম রংটুকু,
তোমাকে নিয়ে দেখতে চাই সোনা!

গ্রাম সালিসি ঘটার আগেভাগে
বলতে চাই অনেক চুপকথা

ধানের খেতে, আইলে বসে থেকে
ধানের গুণ তার ধর্মমতে
পায়ের পাতা ভিজিয়ে দিয়ে গেলে
মন চাইলে হাঁটতে যাব, আর

ভরা বিকেলে, ঝরবে শুধু শুধু
                    ঘন কুয়াশারেখা

ধু ধু ধোঁয়াশা ছাড়া যে কিছু নাই
সে খিলখিল চোখা হাসিতে তাই
এ মন চায় তোমার দেখাটুকু

যে বিকেলের পরপরই লাগে
সারাক্ষণ ঠান্ডা হিম হিম!
বিরল সেই শূন্য সাদা দিনে
ঝগড়া ভুলে মোরা গাইব গীত

মোরা দুলব রে ছাতিমের ঘ্রাণে
তা তা থই থই বলে নাচব, সোনা!

লাঞ্চ বক্স

খোয়াব ব্যতীত তুমি নাই
ফলত সন্দেহ হয়, জাপটে ধরা মানবহৃদয়
ভয় নিয়ে তবু ভাবে ভববন্ধনের সব কথা

হেমন্তের বিকিরিত আলো
ঘুমের ভেতর ভালো লাগে
সবজির দাম কমা শীত দেখি,
                    কিঞ্চিৎ খোয়াবে

দেখি, ধবধবে সাদা মুলা তিতপুঁটিসহ রেঁধে
লাঞ্চ বক্স নিয়ে যাও ভালো আর মন্দে

শরীরের ছন্দ ভালো নেই
তাল–লয় জেনে–বুঝে শ্বাস নিতে কষ্ট!
প্রেশারের ওঠানামা টের পেলে
প্রতিরোধে দিই তাকে লাঞ্চ বক্স, তাকে দিতে থাকি
             ভবদুনিয়ার টেলিপ্যাথি।

বিপ্লবস্মৃতি

অনেক বিপ্লব জমা পড়ে আছে মনে।

হাত ধরে হাটে গিয়ে মাছ কিনে ঘরে ফেরা রাত
ফিরে যদি পাই, মনে হবে
তরতাজা ছাতিমের মতো শুয়ে থাকা
                                        ও-শয়নভঙ্গি

স্বর-ছন্দে যতবার হয়েছে সাক্ষাৎ
পালিত পাখির মতো যত দিন তার
বুকজুড়ে থেকেছি গোপন
                 মধু মধু ছিল সেই সব

যৌথতার দিনগুলো রান্নার আনন্দে মেতে ছিল
ভাবলেই মনে হয়, তেল–নুন–ঝালে কতকাল দেখা নেই তার

বন্যাকবলিত গ্রামে কচু ফুল হয়ে ফুটে ছিলাম আমরা
যেন ছিলাম কাদামাখা বোরো ধানের আইলে
মাথা বের করা টাকি মাছ

বহুবার নিষেধ না মেনে দুইজন
                                খেয়েছি গন্দম
দুনিয়ার দুই মেরু প্রান্তে
                                হয়েছি নিক্ষিপ্ত

ঠিকঠাক ফুটে উঠবার আগে আমাদের মন
নিশিদিন হয়েছে অঙ্গার।

.

উৎস: Prothomalo

এছাড়াও পড়ুন:

পেছনে ফিরে দেখেন ছেলে নেই, গর্তের ভেতর থেকে ডাকছে ‘মা, মা’ বলে

রাজশাহীর তানোরে ৩০-৩৫ ফুট গভীর গর্তে পড়ে যাওয়া শিশুটিকে উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস। খননযন্ত্র দিয়ে মাটি খোঁড়ার কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখতে অক্সিজেন সরবরাহও অব্যাহত রাখা হয়েছে।

বুধবার বেলা একটার দিকে তানোরে সাজিদ নামের দুই বছর বয়সী শিশুটি গভীর গর্তে পড়ে যায়। শিশুটি তার মায়ের হাত ধরে কেটে নেওয়া ধানের খেতে হাটছিল। হঠাৎ সে গর্তে পড়ে যায়। সাজিদ উপজেলার কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামের রাকিবের ছেলে। রাকিব ঢাকায় একটি জুট মিলের ব্যবস্থাপক হিসেবে চাকরি করেন। তিনি এখনো বাড়িতে পৌঁছাতে পারেননি।

আরও পড়ুনরাজশাহীতে দুই বছরের শিশু ৩০ ফুট গভীর গর্তে, ফায়ার সার্ভিস অক্সিজেন দিচ্ছে২ ঘণ্টা আগে

শিশুটির মা রুনা খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, বেলা একটার দিকে মেজ ছেলে সাজিদের হাত ধরে তিনি বাড়ির পাশে মাঠে যাচ্ছিলেন। এ সময় তাঁর ছোট একটি সন্তান কোলে ছিল। হাঁটার সময় হঠাৎ সাজিদ মা বলে ডেকে ওঠে। তিনি পেছনে তাকিয়ে দেখেন, ছেলে নেই, গর্তের ভেতর থেকে ‘মা, মা’ বলে ডাকছে। গর্তটির ওপরে খড় বিছানো ছিল। ওখানে যে গর্ত ছিল, সেটা তিনিও বুঝতে পারেননি, ছেলেও। ওই জায়গায় পা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ছেলে গর্তের ভেতর পড়ে গেছে। লোকজনকে ডাকতে ডাকতেই ছেলে গর্তের নিচে চলে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের রাজশাহী বিভাগের সহকারী পরিচালক দিদারুল আলম জানান, শিশুটি গর্তে পড়ে যাওয়ার খবর তাঁরা পেয়েছেন বেলা আড়াইটার দিকে। এসে দেখেন, স্থানীয় লোকজন চেষ্টা করতে গিয়ে গর্তের ভেতরে কিছু মাটি ফেলেছেন। বিকেল চারটা পর্যন্ত শিশুটির সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল। পরে মানুষের হট্টগোলের কারণে আর সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।

উদ্ধারপ্রক্রিয়া নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ওই কর্মকর্তা বলেন, ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় ও নিরাপদে উদ্ধারে সব ধরনের চেষ্টা চলছে। বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে ওই গর্তের পাশে এক্সকাভেটর দিয়ে আরেকটি গর্ত খোঁড়া হচ্ছে। রাত পৌনে আটটা পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত খোঁড়া হয়েছে। মাটি সরানোর কাজে লাগানো হয়েছে দুটি ট্রাক্টর। খননকাজ শেষ হতে আরও কয়েক ঘণ্টা লাগতে পারে।

স্থানীয় লোকজন জানান, রাজশাহীর তানোর উপজেলার পচন্দর ইউনিয়নের এই গ্রামে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। এ এলাকায় এখন গভীর নলকূপ বসানোর বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আছে। এ অবস্থার মধ্যে কোয়েলহাট গ্রামের এক ব্যক্তি তাঁর জমিতে পানির স্তর পাওয়া যায় কি না, সেটা যাচাই করার জন্য গর্তটি খনন করেছিলেন। সেই গর্ত ভরাটও করেছিলেন, কিন্তু বর্ষায় মাটি বসে গিয়ে নতুন করে গর্ত হয়। সেই গর্তেই শিশুটি পড়ে যায়।

উদ্ধারকাজ দেখার জন্য এলাকার শত শত মানুষ সেখানে ভিড় করছেন। রাত সোয়া আটটার দিকে তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহীনুজ্জামান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য দড়ি টানিয়ে ঘটনাস্থল ঘিরে রাখা হয়েছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ