শ্রীলঙ্কা ও ত্রিদেশীয় সিরিজে পাকিস্তানের দল ঘোষণা
Published: 9th, November 2025 GMT
পাকিস্তানের উদীয়মান ব্যাটার হাসান নওয়াজ আসন্ন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে বাদ পড়েছেন। পরিবর্তে তাকে পাঠানো হয়েছে চলমান কায়েদ-ই-আজম ট্রফিতে খেলতে। ওডিআই দলে তার পরিবর্তে কাউকে নেওয়া হয়নি। তবে টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে তার জায়গায় ফখর জামানকে ডাক দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
মাত্র তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতেই গত মার্চে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ইডেন পার্কে শতক হাঁকিয়ে আলোচনায় আসেন হাসান নওয়াজ। সেই ইনিংসই তাকে পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ তারকা হিসেবে পরিচিতি এনে দেয়। শুরুটা দারুণ হলেও ধারাবাহিকতার অভাবে শিগগিরই তার পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। প্রথম দশ ম্যাচে পাঁচবারই শূন্য রানে আউট হন এই তরুণ ব্যাটার।
আরো পড়ুন:
বিসিবির জিরো টলারেন্স, তদন্ত কমিটির সুপারিশে প্রয়োজনে পরিচালককেও ওএসডি
১৫১ বছরের পুরনো ঘড়ির সামনে ট্রফি উন্মোচন
তবুও, মাঝ ও শেষের ওভারে বড় শট খেলার দক্ষতার কারণে তাকে দলের সঙ্গে রাখা হয়েছিল। পিএসএলে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সেই বিশ্বাস আরও শক্ত হয়। তিনি দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন এবং ১৬২ এরও বেশি স্ট্রাইক রেটে প্রতিযোগিতার তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন।
তবে গত দুই মাসে ধীরে ধীরে তার অবস্থান দুর্বল হতে শুরু করে। এশিয়া কাপে ফাইনালের পথে থাকা পাকিস্তান দল থেকে বাদ পড়েন তিনি। জায়গা পান হুসেইন তালাত, যিনি তুলনামূলকভাবে কম আক্রমণাত্মক ব্যাটার। ওয়ানডে ফরম্যাটে তিনি এখন পর্যন্ত মাত্র চার ম্যাচ খেলেছেন। সবই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, গড় ছিল ৫৬ এরও বেশি।
তবুও প্রথম ম্যাচেই এক অদ্ভুত আউট তাকে সমালোচনার মুখে ফেলে। টার্নিং পিচে জর্জ লিন্ডের বলে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এসে স্টাম্পড হন। যা তার ম্যাচ সচেতনতার অভাব প্রকাশ করে। এরপর বাকি ম্যাচগুলোতে আর তাকে খেলানো হয়নি। সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টিগুলিতেও পরিস্থিতি সুখকর নয়। শেষ আট ইনিংসে কেবল একবারই তিনি দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছেছেন, গড় ৭ এর নিচে।
পাকিস্তান নভেম্বর ১১ থেকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে। এরপর নভেম্বর ১৭ থেকে শুরু হবে টি-টোয়েন্টি ত্রিদেশীয় সিরিজ, যেখানে থাকবে জিম্বাবুয়েও। উল্লেখযোগ্য বিষয়, এটাই হবে পাকিস্তানের মাটিতে অনুষ্ঠিত প্রথম বহুজাতিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট।
পাকিস্তানের ওয়ানডে দল:
শাহীন শাহ আফ্রিদি (অধিনায়ক), আবরার আহমেদ, বাবর আজম, ফাহিম আশরাফ, ফয়সাল আকরাম, ফখর জামান, হারিস রউফ, হাসিবুল্লাহ, হুসেইন তালাত, মোহাম্মদ নওয়াজ, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র, নাসিম শাহ, সাইম আয়ুব ও সালমান আলী আগা।
ত্রিদেশীয় সিরিজের পাকিস্তান দল:
সালমান আলী আগা (অধিনায়ক), আব্দুল সামাদ, আবরার আহমেদ, বাবর আজম, ফাহিম আশরাফ, ফখর জামান, মোহাম্মদ নওয়াজ, মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র, মোহাম্মদ সালমান মির্জা, নাসিম শাহ, সাহিবজাদা ফারহান (উইকেটরক্ষক), সাইম আয়ুব, শাহীন শাহ আফ্রিদি, উসমান খান (উইকেটরক্ষক) ও উসমান তারিক।
ঢাকা/আমিনুল
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ম হ ম মদ নওয় জ উইক ট
এছাড়াও পড়ুন:
নেহার নাচকে কেন ‘অশ্লীল’ বলছেন নেটিজেনরা?
মঞ্চের সামনে অগণিত দর্শক। তাদের আনন্দ ধ্বনিতে মুখরিত চারপাশ। বাহারি আলোর দ্যুতিতে ঝলমলে মঞ্চে পারফর্ম করছেন বলিউডের আলোচিত গায়িকা নেহা কাক্কর।
তার পরনে শরীরচাপা লেপার্ড-প্রিন্ট আউটফিট। ব্রালেট, ফ্রিঞ্জড মিনি স্কার্ট আর থাই-হাই বুটে আবেদনময়ী নেহা। লম্বা ব্লন্ড ঢেউ খেলানো চুল ঝাঁকিয়ে গানের তালে শরীরি মুভে নেহা যেন স্পষ্টভাবেই পারফরম্যান্সের ‘মুড’ ঠিক করে দিচ্ছেন।
আরো পড়ুন:
সংসার ভাঙার গুঞ্জনে মুখ খুললেন দিব্যা
পরিচালক বিক্রম ভাট গ্রেপ্তার
গান আর নাচের ফাঁকে নেহা পানির বোতল তুলে নিজের বুকের ওপরে ঢালতে থাকেন। শরীর থেকে গড়িয়ে পড়ছে জল; গান আর নাচও চালিয়ে যাচ্ছেন এই শিল্পী। নেহা কাক্কর তার ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন, তাতে এমন দৃশ্য দেখা যায়।
দিল্লির একটি লাইভ কনসার্টে নেহা কাক্করের পারফরম্যান্স দেখে নেটিজেনদের একাংশ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও অন্য অংশ বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। কেউ কেউ বলছেন, “অদম্য নেহা-এনার্জি।” কারো মতে, “মঞ্চে কী দাপট।” আবার বুকের ওপরে জল ঢালার দৃশ্যটিকে কেউ কেউ ‘অশ্লীল’ বলে মন্তব্য করেছেন। স্নেহা লেখেন, “নোংরা।” অন্য একজন লেখেন, “কুৎসিত।” কেউ কেউ তাকে ‘বার ড্যান্সার’ বলেও মন্তব্য করেছেন।
এখানেই শেষ নয়, প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে একজন লেখেন, “সুরের রানি থেকে এরকম পর্যায় নেমে আসা?” আবার একজন আক্ষেপ করে লেখেন, “একজন ভালো গায়িকা হিসেবে নিজের ব্যক্তিত্ব নিজেই নষ্ট করছেন নেহা।” এমন অসংখ্য মন্তব্য ভেসে বেড়াচ্ছে কমেন্ট বক্সে। তবে এ নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি নেহা। আর এমন বিতর্ক নেহার কাছে নতুন কিছু নয়।
১৯৮৮ সালের ৬ জুন উত্তর প্রদেশের ঋষিকেশে এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেন নেহা কাক্কর। তার বাবা ছিলেন শিঙাড়া বিক্রেতা। বড় বোন সনু কাক্কর ও ভাই টনি কাক্কর উভয়ে সংগীতের সঙ্গে যুক্ত। মাত্র চার বছর বয়স থেকে গান শুরু করেন নেহা। ২০০৫ সালে ইন্ডিয়ান আইডলের মাধ্যমে গায়িকা হিসেবে নজর কাড়েন নেহা।
২০০৮ সালে ভাই টনির সঙ্গে মুম্বাই পা রাখেন নেহা। সেই বছরই ‘নেহা দ্য রকস্টার’ নামে তার প্রথম গানের অ্যালবাম মুক্তি পায়। ২০১৩ সালে ‘ফাটা পোস্টার নিকলা হিরো’সিনেমার ‘ধাতিং নাচ’ গানে প্রথম প্লেব্যাক করেন। ২০১৪ সালে তার ‘সানি সানি’গানটি দারুণ হিট হয়। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। একের পর এক তুমুল জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন তিনি।
নেহার জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে—‘জাদু কা ঝাপ্পি’, ‘টুকুর টুকুর’, ‘ন্যায়না’, ‘মে তেরা বয়ফ্রেন্ড’, ‘দিলবার দিলবার’, ‘কালা চশমা’, ‘আঁখ মারে’, ‘কোকাকোলা’, ‘সাকি সাকি’ প্রভৃতি।
ঢাকা/শান্ত