পুরোনো ব্যর্থতা শুধরে নিতে শুরু হচ্ছে জলবায়ু সম্মেলন
Published: 9th, November 2025 GMT
জাতিসংঘের জলবায়ু–সংক্রান্ত ৩০তম সম্মেলন বা কপ৩০ শুরু হচ্ছে লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলের বেলেম শহরে। আগামীকাল সোমবার ১১ দিনব্যাপী এই সম্মেলনের যাত্রা শুরু হবে। এবারের সম্মেলনে পুরোনো প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আয়োজক দেশ ব্রাজিল। একই সঙ্গে পুরোনো ব্যর্থতা শুধরে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
কপের পূর্ণ রূপ হলো কনফারেন্স অব দ্য পার্টিস। এর সদস্যদেশগুলো ১৯৯২ সালে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে সই করেছিল। চুক্তিটি হলো দ্য ইউনাইডেট নেশনস ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (ইউএনএফসিসিসি)। বিশ্ব জলবায়ুব্যবস্থাকে মানুষের বিপজ্জনক তৎপরতা থেকে রক্ষা করাই এর লক্ষ্য। কপের প্রথম সম্মেলন হয় জার্মানির বার্লিনে, ১৯৯৫ সালে।
এবারের ৩০তম কপ চলছে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত। সম্মেলনের সভাপতিত্ব করা দেশ হিসেবে ব্রাজিলেরও আলাদা একটি গুরুত্ব রয়েছে। কারণ, এখন থেকে ঠিক ৩৩ বছর আগে দেশটির রিও ডি জেনিরো শহরে একটি সম্মেলে ইউএনএফসিসিসি চুক্তি সই হয়েছিল। স্বাক্ষরকারী দেশগুলো যে অভিন্ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করে, সে জন্য সম্মেলনে কিছু বিষয়সূচিও নির্ধারণ করেছে ব্রাজিল।
এর আগে কপ২৮–এ জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল চুক্তিতে সই করা দেশগুলো। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর এবার জোর দিচ্ছে ব্রাজিল। এ ছাড়া বৈশ্বিক উষ্ণতা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি না বৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টি এবারের প্রথমবারের মতো স্বীকার করা হবে এবং সমাধানে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ব্রাজিলের বেলেম শহরে আমাজন জঙ্গলের অংশ রয়েছে। এবারের সম্মেলনের জন্য এই শহর বেছে নেওয়ার পেছনেও কারণ রয়েছে। তা হলো বিশ্বে বনভূমির গুরুত্ব তুলে ধরা। নানা পদক্ষেপ নেওয়ার পরও বিশ্বজুড়ে এখনো বনভূমি উজাড় হচ্ছে। একই সঙ্গে খনিজ সম্পদ উত্তোলন, কৃষিকাজ ও জীবাশ্ম জ্বালানি উত্তোলনের মতো শিল্পায়ন–সংক্রান্ত বিভিন্ন খাতের হুমকির মুখে পড়ছে বনাঞ্চল।
কপ৩০ সম্মেলনের প্রথম সপ্তাহে ইউএনএফসিসিসি চুক্তিতে সই করা দেশগুলো তাদের অগ্রাধিকার তুলে ধরবে এবং অন্যদের অবস্থান খতিয়ে দেখবে। দ্বিতীয় সপ্তাহে বিভিন্ন দেশের মন্ত্রীরা মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনায় যোগ দেবেন। সম্মেলনে চূড়ান্তি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিভিন্ন বিষয়ে দর–কষাকষি করবেন তাঁরা।
.উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
১৪ ডিসেম্বর থেকে প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ
দুই দফা পেছানোর পর প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ শুরুর তৃতীয় তারিখ চূড়ান্ত করেছে সিসিডিএম। আগামী ১৪ ডিসেম্বর শুরু হবে প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ। এর আগে, ১৮ নভেম্বর টুর্নামেন্ট শুরু করতে চেয়েছিল আয়োজকরা। ক্লাবগুলোর অসহযোগিতার কারণে পারেনি। দ্বিতীয় দফায় ১১ ডিসেম্বর শুরুর ইচ্ছার কথা বলেছিল সিসিডিএম। সেটাও পারছে না। তিন দিন পিছিয়ে আগামী ১৪ ডিসেম্বর মাঠে গড়াবে লিগ।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালনা পরিষদের নির্বাচনকে ঘিরে ঢাকার ক্লাবগুলোর মধ্যে দূরত্ব বেড়েছে। ঢাকা ক্রিকেট ক্লাব অর্গানাইজার্স এসোসিয়েশনের ব্যানারে ৪৩টি ক্লাব একজোট হয়ে সিসিডিএম-এর আওতাভুক্ত সকল লিগ বর্জনের হুমকি দিয়েছেন তারা। তবে, বাকিদের নিয়েই শুরু হচ্ছে প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ। লিগের ২০টি ক্লাবের মধ্যে ১৩টি ক্লাব বার্ষিক অনুদানের চেক পেয়েছে। বাকি ৭ ক্লাব লিগে অংশগ্রহণ করবে না।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) নিজেদের অবস্থান জানাতে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে বিসিবি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিসিবি পরিচালক ও সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ, বিসিবি পরিচালক ও সিসিডিএম চেয়ারম্যান আদনান রহমান দীপন, বিসিবি পরিচালক ও ফ্যাসিলিটিজ কমিটির চেয়ারম্যান শানিয়ান তানিম এবং বিসিবি পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান মোকসেদ আলম।
ক্রিকেটারদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে লিগে সবাইকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিসিবি সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ, ‘‘একটা ব্যাপার স্পষ্ট। যারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, তারাই এখন লিগ বর্জনে সোচ্চার। প্রতিবাদের ভাষা অনেক আছে। তাই বলে ক্রিকেটকে বন্ধ করা প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না। দেশে গুরুত্বপূর্ণ হলো খেলা। লিগ না হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ক্রিকেটাররা। সে কারণেই ক্রিকেটারদের স্বার্থে খেলা মাঠে গড়ানো দরকার।’’
লিগে অংশ না নিলে বাইলজ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবে সিসিডিএম। নিজেদের সিদ্ধান্ত ক্লাবগুলোকে পরিষ্কারও করেছেন ফারুক আহমেদ। একই সঙ্গে ঘোষণা দিয়েছেন, ক্রিকেটারদের জন্য বিকল্প টুর্নামেন্টের চিন্তাও করছে বিসিবি, ‘‘ক্লাব ক্রিকেট টাকা পয়সা খরচ করে আজ বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে ক্লাব ক্রিকেট শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত না হলে কিংবা সকল ক্লাব অংশ না নিলে ক্রিকেটারদের জন্য বিকল্প ভাবনাও আছে বিসিবির।’’
ঢাকা/ইয়াসিন/রাজীব