তথ্য গোপন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ঢাকার পূর্বাচলে ৩০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে শেখ রেহানা, মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক এবং ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের (ববি) বিরুদ্ধে পৃথক ৩টি মামলা আরও ১২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট।

আজ রোববার ঢাকার ৪ নম্বর বিশেষ জজ মো.

রবিউল আলম তাঁদের সাক্ষ্য নেন।

ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন, ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহ ও আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামান, সোনালী ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. মনির হোসেন, রাজউকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক ও শাখা প্রধান লায়লা নূর বিশ্বাস, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পরিচালক মো. আল মামুন মিয়া, রাজউকের সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম অপারেটর মো. জাকির হোসাইন, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মো. জহিরুল ইসলাম খান, রাজউকের উপসচিব তানজিলুর রহমান, দুদকের কনস্টেবল আজহারুল ইসলাম, ঢাকার সাব রেজিস্ট্রার মাহবুবুর রহমান ও গাজীপুরের সাব রেজিস্ট্রার সোহেল রানা।

দুদকের প্রসিকিউটর তরিকুল ইসলাম জানান, আজ সাক্ষ্য নেওয়ার দিন নির্ধারিত থাকায় তিন মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি রাজউকের সদস্য খোরশেদ আলমকে আদালতে হাজির করা হয়। তাঁর উপস্থিতিতে সাক্ষ্য নেওয়া হয়। পরে তাঁর আইনজীবী শাহিনুল ইসলাম তিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বাদীদের জেরা করার অনুমতি চান। ১৬ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বাদীর জেরার তারিখ ঠিক করেছেন আদালত।

গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের নামে বরাদ্দ নেওয়া প্লটের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। সেদিন দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) আক্তার হোসেন জানিয়েছিলেন, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের কূটনৈতিক জোনের ২০৩ নম্বর সড়কের আশপাশের এলাকায় শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ, সায়মা ওয়াজেদ, শেখ রেহানা ও তাঁর ছেলে-মেয়ের নামে ১০ কাঠা করে ৬০ কাঠার ৬টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

প্লট বরাদ্দের দুর্নীতির অভিযোগে গত জানুয়ারিতে আলাদা ছয়টি মামলা করে দুদক। এসব মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে ও ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও অন্য মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকসহ আরও অনেককে আসামি করা হয়। সব কটি মামলায় গত ১০ মার্চ অভিযোগপত্রের অনুমোদন দেয় দুদক।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, সরকারের সর্বোচ্চ পদে থাকার সময় শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবার ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। তাঁরা বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য না হলেও অসৎ উদ্দেশ্যে পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরের ২০৩ নম্বর রাস্তার ৬টি প্লট তাঁদের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

গত ৩১ জুলাই এই তিন মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। এর পর থেকে শেখ রেহানা ও তাঁর ৩ ছেলে-মেয়ের বিরুদ্ধে করা আলাদা ৩ মামলায় এখন পর্যন্ত ৩৬ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এসব মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও আসামি।

আরও পড়ুনএবার শেখ রেহানা ও তাঁর তিন সন্তানের বিরুদ্ধে মামলা দুদকের১৩ জানুয়ারি ২০২৫

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: র জউক র ল ইসল ম বর দ দ

এছাড়াও পড়ুন:

কাঁচপুরে ৭০ লাখ টাকার জাটকা জব্দ

সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর এলাকায় প্রায় ৭০ লাখ টাকার ১০ হাজার কেজি জাটকা জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এর মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, গত ৯ ডিসেম্বর রাত ১১টায় গোপন সংবাদেরভিত্তিতে কোস্ট গার্ড স্টেশন পাগলা কর্তৃক কাঁচপুর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান চলাকালীন ওই এলাকায় সন্দেহজনক একটি কাভার্ডভ্যান তল্লাশি করে প্রায় ৭০ লাখ টাকা মূল্যের ১০ হাজার কেজি জাটকা জব্দ করা হয়। এসময় চালক ও হেলপারের মুচলেকা নিয়ে কাভার্ডভ্যানসহ ছেড়ে দেওয়া হয়।

সিয়াম-উল-হক আরও বলেন, জব্দক করা জাটকা নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে স্থানীয় এতিমখানা ও গরিব দুস্থদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। মৎস্য সম্পদ রক্ষায় ভবিষ্যতেও কোস্ট গার্ডের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
 

সম্পর্কিত নিবন্ধ