ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় হতে দেব না: মামুনুল হক
Published: 12th, July 2025 GMT
ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের মিশন স্থাপনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারি মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, গত ১৬ বছরে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম ও খুনের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তা না করে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর জন্য দরজা খুলে দেওয়ার মানে হলো অপরাধীদের দায়মুক্তি ও জনগণের প্রতি অবিচার। তারা এই কার্যালয় স্থাপন করতে দেবে না।
গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর ফটকে প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তিন বছরের জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের একটি মিশন স্থাপনের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ সম্প্রতি চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে মামুনুল হক বলেন, এই সিদ্ধান্ত থেকে সরকার অবিলম্বে সরে না এলে হেফাজতে ইসলাম সারাদেশে তীব্র আন্দোলনের ডাক দেবে। জাতিসংঘের তথাকথিত মানবাধিকার বাস্তবে ইসলাম ও মানবতার পরিপন্থি পশ্চিমা আদর্শের হাতিয়ার। খাল কেটে কুমির আনার অধিকার সরকারকে কেউ দেয়নি।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে হেফাজতের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, নায়েবে আমির মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী, মাওলানা আহমাদ আলী কাসেমী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব প্রমুখ বক্তব্য দেন।
.উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: ম ম ন ল হক ম নব ধ ক র
এছাড়াও পড়ুন:
অনলাইন জুয়ার বিরোধেই নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার তাকবির, ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ২
সিদ্ধিরগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিত্যক্ত ভবনে তরুণ তাকবির আহমেদ (২২) হত্যাকাণ্ডের রহস্য মাত্র ২৪ ঘণ্টায় উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলার পরদিনই হত্যায় জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং উদ্ধার হয়েছে নিহতের মোবাইল ফোন।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পিবিআই পুলিশ সুপার মোঃ মোস্তফা কামাল রাশেদ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়—নিহত তাকবির বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বেকার থাকায় বাড়িতেই থাকতেন। গত ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি তাকবির। দীর্ঘ সময় তার কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবার বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালায়।
পরদিন ২৬ নভেম্বর দুপুরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর আসে ওয়াপদা কলোনীর পানি উন্নয়ন বোর্ড আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর পরিত্যক্ত ভবনের ১ম তলার কক্ষে পড়ে আছে এক তরুণের মরদেহ। পরে পরিবার গিয়ে নিশ্চিত হয় নিহত ব্যক্তি তাকবির আহমেদ।
ঘটনার পর তাকবিরের বাবা নুর মোহাম্মদ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সুপার জানান, তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণ, গোপন গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠ পর্যায়ের তদন্তে প্রকৃত ঘাতকদের শনাক্ত করে পিবিআই। পরে ২৭ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় সোনারগাঁওয়ের লাঙ্গলবন্দ এলাকা থেকে মোঃ হারুন (৩৪) এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একইদিন সন্ধ্যা ৭টায় সিদ্ধিরগঞ্জ ওয়াপদা কলোনী মোড় থেকে মোঃ রফিকুল (৩৮)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে রফিকুলের দেখানো মতে তার ঘরের সিলিংয়ের ভেতর লুকিয়ে রাখা তাকবিরের মোবাইল ফোন উদ্ধার করে পিবিআই।
জিজ্ঞাসাবাদে দুই আসামি চাঞ্চল্যকর তথ্য দেয়। তারা জানায়. মাদক সেবনের পর অনলাইন জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে তাকবিরের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। সেই বিরোধ থেকেই পরিকল্পিতভাবে তাকবিরকে পরিত্যক্ত ভবনে ডেকে নিয়ে যায়।
সেখানে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে। হত্যার পর ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে পুরোনো একটি সিমকার্ড চালু করে তাকবিরের বাবার কাছে ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণও দাবি করে তারা।
পরদিন ২৮ নভেম্বর দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করলে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। পিবিআই জানিয়েছে, হত্যার নেপথ্য কারণ, ব্যবহৃত অস্ত্র এবং পূর্ব অপরাধের তথ্য যাচাই করে দ্রুত চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।