গণভোট জাতীয় নির্বাচনের দিন হওয়ার সুযোগ নেই: গোলাম পরওয়ার
Published: 14th, October 2025 GMT
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘গণভোট জাতীয় নির্বাচনের দিন হওয়ার সুযোগ নেই। যারা সত্যিকার অর্থে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি চায় না, তারাই জুলাই সনদ নিয়ে টালবাহানা করছে। যারা ভোট চুরি করে ক্ষমতায় বসে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে চায়, তারাই গণভোট সংসদ নির্বাচনের দিন চায়। কারণ, তারা তাদের সন্ত্রাসী, লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে ব্যালট ছিনতাই করে গণভোটে “না” প্রস্তাবে সিল মারার চক্রান্ত করছে। তারা চায় না, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দেওয়া হোক।’
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে খুলনার চুকনগর বাসস্ট্যান্ডে এক পথসভায় গোলাম পরওয়ার এ কথা বলেন। এর আগে চুকনগর বাজারে জামায়াতের কার্যালয় চত্বর থেকে শুরু হয়ে মিছিলসহকারে চুকনগর ব্রিজ রোড, যতিন–কাশেম রোড, পোস্ট অফিস রোড, ইউনিয়ন পরিষদ রোড, খুলনা-যশোর-সাতক্ষীরা রোড প্রদক্ষিণ করে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, পিআর পদ্ধতি নিয়ে যেসব রাজনৈতিক দল কঠোর অবস্থানে রয়েছে, তাদের একটু নমনীয় হয়ে বা ছাড় দিয়ে ঐকমত্যে আসতে হবে। জাতীয় সংসদে যে বিষয়ে আলোচনা করা যায়, সে বিষয় নিয়ে নির্বাচনের আগেই আলোচনা করা সম্ভব। এ জন্য নির্বাচনের আগে যেসব রাজনৈতিক দল পিআর পদ্ধতি নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করছে, আলোচনা ও গোলটেবিল বৈঠকের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পিআর পদ্ধতির মাধ্যমে ঐকমত্য হয়ে নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বাংলাদেশে আলোচনার মধ্য দিয়ে বহু অমীমাংসিত বিষয়ে জাতীয় নেতারা ঐকমত্য হওয়ার অনেক নজির আছে। বর্তমানে জাতীয় নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে জন–আকাঙ্ক্ষা ও জনদাবিতে পরিণত হওয়া পিআর পদ্ধতিতেই জাতীয় নির্বাচন হলে একদিকে যেমন মনোনয়ন–বাণিজ্য থাকবে না, অন্যদিকে ভোটকেন্দ্র দখল ও পেশিশক্তির ব্যবহার কমে যাবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নকারী কমিশন ঐকমত্যে পৌঁছানোর জন্য রাজনৈতিক বিষয়গুলোসহ অন্যান্য বিষয়ে কিছু ছাড়ের মধ্য দিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে জামায়াত সংস্কারে ছাড় দিয়েছে দাবি করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্বপ্নপূরণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি না দিলে নিজেরা নিজেদের পায়ে কুড়াল মারার শামিল হবে।’ জনগণকে আবার ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার দিকে ঠেলে না দিয়ে ৫ দফা দাবি মেনে নিতে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
পথসভায় জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মিয়া গোলাম কুদ্দুস, জেলা কর্মপরিষদের সদস্য আবু ইউসুফ মোল্লা, উপজেলা আমির মোক্তার হোসেন, নায়েবে আমির হাবিবুর রহমান ও গাজী সাইফুল্লাহ, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি আবদুর রশিদ, সহকারী সেক্রেটারি ফরহাদ আল মাহমুদ, ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ নন্দী, সাধারণ সম্পাদক দেবপ্রসাদ মণ্ডল, ডুমুরিয়া উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবু তাহের প্রমুখ বক্তব্য দেন।
.উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: গ ল ম পরওয় র জ ল ই সনদ ঐকমত য গণভ ট
এছাড়াও পড়ুন:
রাষ্ট্র সংস্কার কি সরকারের কাছে শুধুই ফাঁকা বুলি, প্রশ্ন টিআইবির
‘বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি’ গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুপারিশ বাদ দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ চূড়ান্ত অনুমোদন করায় গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) জবাবদিহির বাইরে রাখার মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কার কেবলই ফাঁকা বুলি কি না, এ প্রশ্নও তুলেছে টিআইবি।
আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে টিআইবি বলেছে, ক্ষমতাসীনদের ইঙ্গিতে কেবল প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে পরিচিত দুদকের উত্তরণের লক্ষ্যে ‘বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি’ গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুপারিশ করা হয়েছিল। এই সুপারিশ বাদ দেওয়া শুধু হতাশাজনক নয়, সরকারের অভ্যন্তরে প্রায় সব ক্ষেত্রে সংস্কারবিরোধী মহলের ষড়যন্ত্রের কাছে রাষ্ট্র সংস্কারের অভীষ্টের জিম্মিদশারও পরিচায়ক।
জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সম্মতির পরও চূড়ান্ত অধ্যাদেশে এই সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার বিষয়টি রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকারের অনাগ্রহের ইঙ্গিত বলে মনে করে টিআইবি।
দুদককে প্রকৃত অর্থে একটি জবাবদিহিমূলক, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার এই কৌশলগত সুপারিশটি অনুধাবনে সরকার ব্যর্থ হয়েছে, যা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় বলে উল্লেখ করে টিআইবি আরও বলেছে, রাষ্ট্র সংস্কারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারের জন্য এটি স্ববিরোধী ও সংস্কারপরিপন্থী নজির।
ঐকমত্য কমিশনের প্রধান ও ১১টি সংস্কার কমিশন প্রতিষ্ঠার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হিসেবে প্রধান উপদেষ্টা দুদককে জবাবদিহির বাইরে রাখার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলসহ দেশবাসীকে কি এই বার্তা দিতে চাইছেন যে রাষ্ট্র সংস্কার কেবলই ফাঁকা বুলি—এ প্রশ্নও বিবৃতিতে তুলেছে টিআইবি।
বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিগত দুই দশকের অভিজ্ঞতা, অংশীজনদের মতামত, আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রেক্ষিত বিবেচনায় দুদক যাতে ক্ষমতাসীনদের হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে চলমান না থাকে, সে লক্ষ্যে দুদক সংস্কার কমিশন ‘বাছাই ও পর্যালোচনা কমিটি’ গঠনের সুপারিশ করেছিল। জন্মলগ্ন থেকে দুদক যেভাবে জন–আস্থার সংকটে ভুগছে এবং স্বার্থান্বেষী মহলের ক্রীড়নক হিসেবে ক্ষমতাসীনদের সুরক্ষা আর প্রতিপক্ষকে হয়রানির হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে, তা থেকে উত্তরণ ঘটাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ প্রস্তাবটি করা হয়েছিল।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন, ‘নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে অন্তত সাতজন উপদেষ্টা এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন। অথচ তাঁরা জানেন যে এই প্রস্তাবে জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে। জুলাই সনদ লঙ্ঘনের এরূপ উদাহরণ সৃষ্টি করার আগে সরকার কেন ভাবছে না যে এর মাধ্যমে রাজনৈতিক দলকে তারা নিজেরাই জুলাই সনদ লঙ্ঘনে উৎসাহিত করছে? তাহলে কেন এত রক্তক্ষয়ী আত্মত্যাগ? দুর্নীতির কার্যকর নিয়ন্ত্রণের উপায় রুদ্ধ করে কীসের রাষ্ট্র সংস্কার?’
অধ্যাদেশটির যে খসড়াটি টিআইবির দেখার সুযোগ হয়েছিল, তা অনেকাংশে বিদ্যমান আইনের তুলনায় উন্নত মানের হওয়ায় টিআইবি সরকারকে সাধুবাদ জানাচ্ছে। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্যানুযায়ী, চূড়ান্ত অধ্যাদেশে উল্লিখিত বিষয়টির পাশাপাশি আরও কিছু ঐকমত্য-অর্জিত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুপারিশ বাদ দেওয়া হয়েছে, যা সরকারের অভ্যন্তরে স্বার্থান্বেষী ও প্রভাবশালী মহলের দুর্নীতি-সহায়ক ও সংস্কার-পরিপন্থী অবস্থান ছাড়া আর কিছু হতে পারে না বলে উল্লেখ করেছে টিআইবি।