‘মন্ত্রী-এমপিরা জেলে থাকতে পারলে জনগণের কর্মচারীরা কেন নয়?’
Published: 14th, October 2025 GMT
কারাবন্দিদের মধ্যে কোনো স্ট্যাটাস থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে কোতায়ালী থানার বাবুবাজারে পার্টির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আরো পড়ুন:
বিএনপি নেতার জামিন নামঞ্জুর, আইনজীবীর উপর হামলার চেষ্টা
শেরপুরে বালু উত্তোলন: ৯ জনকে কারাদণ্ড
ব্যারিষ্টার ফুয়াদ বলেন, “ভিন্ন মত-পথের কারণে যারা বিরোধী দলের নিরীহ মানুষকে হত্যা ও গুম করেছে, দাঁড়ি-টুপির জন্য জঙ্গি বানিয়ে ক্রসফায়ার করেছে, তাদের বিচারের মুখোমুখি অবশ্যই হতে হবে। গণতন্ত্র ও মানুষ হত্যা করে যদি প্রধান বিচারপ্রতি, সচিব, মন্ত্রী-এমপিরা জেলে থাকতে পারে, তাহলে জনগণের কর্মচারীরা কেন স্পেশাল এসির কারাগারে থাকবে?”
এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, “ট্রাইব্যুনাল ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়কে সব খুন গুমের বিচারে ইনসাফ প্রতিষ্টা করতে হবে যেন ন্যায়বিচারে বৈষম্য না থাকে। একজন রিকশাচালক অপরাধ করলে যেমন তার নিজের বাড়ি জেলখানা হয়ে যায় না, তেমনি কোনো সরকারি এসি ওয়ালা প্রতিষ্ঠানও জেলখানা হতে পারে না।”
তিনি বলেন, “যারা ৮০০ এর অধিক আয়না ঘর করেছে বাংলাদেশকে দিল্লীর হাতে তুলে দেবার জন্য, তাদের পালিয়ে যেতে যারা সাহায্য করবে, তাদের কোন সেফ এক্সিট থাকবে না। ২৪ গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে অপরাধীদের অবশ্যই কেরানীগঞ্জ ও কাশিমপুরের কারাগারে থাকতে হবে।”
ঢাকার স্থানীয় সমস্যা সমাধানে তিনি স্থানীয় জনগণকে অনুরোধ করেন, যেন কেউ জিন্দাবাদ বা অমুক ভাইয়ের শ্লোগান দেখে ভোট না দেয়।
কোতয়ালী থানার আহ্বায়ক মো.
ঢাকা/নঈমুদ্দীন/মেহেদী
উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
এই মুহূর্তে বিচার, সংস্কার, নির্বাচনই দেশের মানুষের প্রধান স্বার্থ: জোনায়েদ সাকি
এই মুহূর্তে বিচার, সংস্কার, নির্বাচনই দেশের মানুষের প্রধান স্বার্থ উল্লেখ করে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, বর্তমানের বিদ্যমান সংবিধান না বদলালে জনগণের হাতে ক্ষমতা আসবে না। কারণ, সংবিধানের অগণতান্ত্রিকতার সুযোগে একজন ব্যক্তির হাতে সব ক্ষমতা কুক্ষিগত ছিল।
শুক্রবার বিকেলে গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত মিছিলের পর সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জোনায়েদ সাকি এ মন্তব্য করেন। নগরের খানপুর মেট্রো হলের সামনে থেকে দলের নির্বাচনী প্রতীক ‘মাথাল’ নিয়ে মিছিলটি শুরু হয় এবং শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে নিতাইগঞ্জে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে জোনায়েদ সাকি বলেন, শেখ হাসিনা সংবিধানের অগণতান্ত্রিকতার সুযোগ নিয়ে স্বৈরাচার হয়ে উঠতে পেরেছিলেন। সংবিধানে অনেক অধিকারের কথা বলা থাকলেও কার্যত এক ব্যক্তির হাতে সব ক্ষমতা কুক্ষিগত ছিল। এর ফলে বাংলাদেশের মানুষের অধিকার ও ক্ষমতা এত দিন প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বর্তমান বিদ্যমান সংবিধান না বদলালে জনগণের হাতে ক্ষমতা আসবে না। এ কথা শুরু থেকে বলে আসছে গণসংহতি আন্দোলন।
জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘অভ্যুত্থানের পরও আমরা কথা বলা থামাইনি। জুলাই সনদ তৈরিতে আমরা গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিয়েছি, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারে। এখন দায়িত্ব জনগণের। চোর-লুটেরাদের ভোট দিলে তারা আবার ফাঁকফোকর খুঁজবে।’
জনগণের স্বার্থই গণসংহতি আন্দোলনের স্বার্থ বলে উল্লেখ করেন জোনায়েদ সাকি। তিনি তাঁর দলের প্রতীক ‘মাথাল’ মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের নেতা-কর্মীরা গত ১৬ বছর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে লড়াই করেছেন, অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁদের ওপর ভরসা রাখুন এবং মাথাল মার্কাকে বিজয়ী করুন।’
জোনায়েদ সাকি বলেন, শেখ হাসিনা গায়ের জোরে তিনটি নির্বাচন করেছিল। এর মাধ্যমেই তারা সারা দেশে সহিংসতা শুরু করার ম্যান্ডেট পেয়েছে। নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যাকে লাশের নদীতে পরিণত করেছে। তিনি বলেন, ‘এই শামীম ওসমান গং ত্বকীকে হত্যা করেছে। সাত খুন করেছে।’
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন দলের জেলা সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন, নির্বাহী সমন্বয়কারী অঞ্জন দাস, মহানগর সমন্বয়কারী বিপ্লব খান, নির্বাহী সমন্বয়কারী পপি রানী সরকার, জেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী আলমগীর হোসেন আলম ও মহানগর কমিটির সদস্য ফারহানা মানিক।